Dhaka 9:09 pm, Tuesday, 8 September 2026
সর্বশেষ
আপিল বিভাগে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, এজলাস ছাড়লেন পাঁচ বিচারক কালই অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন, ফাঁস হলো দাম-ফিচারের তথ্য সব মাদরাসায় মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে : সংসদে শিক্ষামন্ত্রী জোড়া খুনের মামলায় কারাগারে ১০৪ বছরের নুর মুহাম্মদ বাড়ল একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদনের সময় নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মার্কিন ব্যাংকে ইরানের ৯০০ কোটি ডলার কক্সবাজারে দেড় লাখ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক ট্রেন চালুর বিষয়ে ভারত-বাংলাদেশ ইতিবাচক : সড়কমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৩ মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টনে ভারতের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জ্বালানি সংকটে সরকার চুপ করে বসে নেই : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 12:40:00 pm, Tuesday, 8 September 2026
  • / 4 Time View

জ্বালানি সংকটে সরকার চুপ করে বসে নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অতীতের ব্যর্থতাগুলো বলেই চুপ করে বসেছে আছে, তা তো নয়।

চুপ করে বসে নেই। ৪০ হাজার কোটি টাকা বাজাটের অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়েছে জ্বালানি খাতে, যাতে খুব দ্রুত আমরা গ্যাস নিয়ে আসতে পারি। 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট : সরকার ও জনগণের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)।

রিভজী বলেন, মহেশখালীর টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি মেরামত করার জন্য সময় লাগছে। ওদিকে আবার যুদ্ধ। এসব কারণে বর্তমান পরিস্থিতিটি তৈরি হয়েছে। এই যে ঘটনাগুলো (মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও কারিগরি ত্রুটি) সম্পূর্ণরূপে সরকারের কার্যক্রমের বাইরের ঘটনা।

কিন্তু আমাদের বিরোধী দল এ বিষয়ে কর্ণপাত করেনি। বরং আমরা বলেছি, আপনারা সমাধানের একটা রূপরেখা দেন। আপনারাও সমাধানের পথ বের করেন, আপনাদেরও দায়িত্ব আছে। আপনারাও তো বলতে পারেন যে, আচ্ছা ঠিক আছে সমাধান করে ফেলব। তারা কিন্তু তা বলেনি।

তিনি বলেন, জ্বালানি নিয়ে যে সংকট দেখা দিয়েছে, সেটা তো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিজের তৈরি করা নয়। তার সৃষ্ট সংকট না, সরকারের সৃষ্ট সংকট না। সংকটটি বৈশ্বিক। যুদ্ধ হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে। আমেরিকা-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ হচ্ছে। সমস্ত তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের ওই জায়গায়। যেখানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রায় ১৪০ থেকে ১৪৫টা জাহাজ যাতায়াত করে। যে এলএনজি গ্যাস আমরা নিয়ে আসি, সেটার অধিকাংশ জাহাজ এবং কার্গ ওই পথ দিয়ে আসে। আজকে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ যুদ্ধ চলছে। আমাদের এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়।

বিরোধী দলের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, গতকাল সংসদের মধ্যে তারা (বিরোধী দল) কয়েক দফায় কিছু কথা বলেছেন। কিভাবে কি করা যায়, না করা যায়। কিন্তু আগে কখনোই তারা এসব বিষয়ে কোনো মতামত দেননি, না দিয়ে রাজপথে কর্মসূচি করছে। কিন্তু জনগণকে বিভ্রান্ত করে এটার কি লাভ? রাজনৈতিক লাভ? রাজনৈতিক লাভ হয় না। আপনি যদি পরিকল্পিতভাবে একটা জিনিস করতে যান, এটা মানুষ কখনোই গ্রহণ করে না। পূর্ববর্তী ১৭ বছর কি হয়েছে? তারা (আওয়ামী লীগ) বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে প্রাইভেটে। বিদ্যুৎ দিতে না পারলেও অলস বসে থাকলেও ভাড়া দিতে হয়। আমাদের রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অঢেল টাকা চলে গেছে। ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিক শেখ হাসিনার আত্মীয়-স্বজন। তার লোকজনের পকেট ভারী করার জন্য, তাদের শাড়ির আঁচলের মধ্যে টাকা বেঁধে রাখার জন্য এসব করেছে। এই যে লুটপাট তন্ত্র, এই যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে পাচার হয়ে যাওয়া, জনগণের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া, এটার ওপর আবার কেউ যাতে মামলা করতে না পারে এ কারণে আইনও করা হয়েছিল, দায়মুক্তির আইন। মানে বিদ্যুৎ খাতে যে কাজগুলো হচ্ছে তার জন্য কেউ মামলা করতে পারবে না, সেই আইন করে নেওয়া হয়েছিল। যে আইনটাই ছিল একটা দুর্নীতির মানসিকতা নিয়ে করা। সেই সরকারের (আওয়ামী লীগ) আন্তরিকতা ছিল না, ছিল শোষণ করা, মানুষের টাকাকে আত্মসাৎ করা এবং টাকা পাচার করার একটি বিশেষ পদক্ষেপ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জ্বালানি সংকটে সরকার চুপ করে বসে নেই : রিজভী

Update Time : 12:40:00 pm, Tuesday, 8 September 2026

জ্বালানি সংকটে সরকার চুপ করে বসে নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অতীতের ব্যর্থতাগুলো বলেই চুপ করে বসেছে আছে, তা তো নয়।

চুপ করে বসে নেই। ৪০ হাজার কোটি টাকা বাজাটের অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়েছে জ্বালানি খাতে, যাতে খুব দ্রুত আমরা গ্যাস নিয়ে আসতে পারি। 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট : সরকার ও জনগণের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)।

রিভজী বলেন, মহেশখালীর টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি মেরামত করার জন্য সময় লাগছে। ওদিকে আবার যুদ্ধ। এসব কারণে বর্তমান পরিস্থিতিটি তৈরি হয়েছে। এই যে ঘটনাগুলো (মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও কারিগরি ত্রুটি) সম্পূর্ণরূপে সরকারের কার্যক্রমের বাইরের ঘটনা।

কিন্তু আমাদের বিরোধী দল এ বিষয়ে কর্ণপাত করেনি। বরং আমরা বলেছি, আপনারা সমাধানের একটা রূপরেখা দেন। আপনারাও সমাধানের পথ বের করেন, আপনাদেরও দায়িত্ব আছে। আপনারাও তো বলতে পারেন যে, আচ্ছা ঠিক আছে সমাধান করে ফেলব। তারা কিন্তু তা বলেনি।

তিনি বলেন, জ্বালানি নিয়ে যে সংকট দেখা দিয়েছে, সেটা তো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিজের তৈরি করা নয়। তার সৃষ্ট সংকট না, সরকারের সৃষ্ট সংকট না। সংকটটি বৈশ্বিক। যুদ্ধ হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে। আমেরিকা-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ হচ্ছে। সমস্ত তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের ওই জায়গায়। যেখানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রায় ১৪০ থেকে ১৪৫টা জাহাজ যাতায়াত করে। যে এলএনজি গ্যাস আমরা নিয়ে আসি, সেটার অধিকাংশ জাহাজ এবং কার্গ ওই পথ দিয়ে আসে। আজকে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ যুদ্ধ চলছে। আমাদের এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়।

বিরোধী দলের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, গতকাল সংসদের মধ্যে তারা (বিরোধী দল) কয়েক দফায় কিছু কথা বলেছেন। কিভাবে কি করা যায়, না করা যায়। কিন্তু আগে কখনোই তারা এসব বিষয়ে কোনো মতামত দেননি, না দিয়ে রাজপথে কর্মসূচি করছে। কিন্তু জনগণকে বিভ্রান্ত করে এটার কি লাভ? রাজনৈতিক লাভ? রাজনৈতিক লাভ হয় না। আপনি যদি পরিকল্পিতভাবে একটা জিনিস করতে যান, এটা মানুষ কখনোই গ্রহণ করে না। পূর্ববর্তী ১৭ বছর কি হয়েছে? তারা (আওয়ামী লীগ) বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে প্রাইভেটে। বিদ্যুৎ দিতে না পারলেও অলস বসে থাকলেও ভাড়া দিতে হয়। আমাদের রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অঢেল টাকা চলে গেছে। ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিক শেখ হাসিনার আত্মীয়-স্বজন। তার লোকজনের পকেট ভারী করার জন্য, তাদের শাড়ির আঁচলের মধ্যে টাকা বেঁধে রাখার জন্য এসব করেছে। এই যে লুটপাট তন্ত্র, এই যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে পাচার হয়ে যাওয়া, জনগণের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া, এটার ওপর আবার কেউ যাতে মামলা করতে না পারে এ কারণে আইনও করা হয়েছিল, দায়মুক্তির আইন। মানে বিদ্যুৎ খাতে যে কাজগুলো হচ্ছে তার জন্য কেউ মামলা করতে পারবে না, সেই আইন করে নেওয়া হয়েছিল। যে আইনটাই ছিল একটা দুর্নীতির মানসিকতা নিয়ে করা। সেই সরকারের (আওয়ামী লীগ) আন্তরিকতা ছিল না, ছিল শোষণ করা, মানুষের টাকাকে আত্মসাৎ করা এবং টাকা পাচার করার একটি বিশেষ পদক্ষেপ।