Dhaka 12:35 am, Tuesday, 8 September 2026
সর্বশেষ
সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৩ ওয়াটার এটিএমের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে জোর দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী ভোলায় অবৈধ বালু উত্তোলন, ৬ ড্রেজার ও বাল্কহেডসহ আটক ৪০ বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন নারীর হাতে পুঁজি দিয়ে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ বাঞ্ছারামপুরে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলসহ পাঁচ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ ৮ হাজার টাকার প্রলোভনে শিশুদের পেটে ইয়াবা, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে পাচার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ চালুর নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৬ দেশের কর্মীদের জন্য খুলছে ডেনমার্কের দুয়ার মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর আরচ্যারী ফেডারেশনের

ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের নতুন মোড়, মন্দির উদ্বোধনে আবেগে আপ্লুত মোদি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 04:36:29 pm, Monday, 7 September 2026
  • / 2 Time View

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের মাটিতে শুরু হলো ভারতীয় সংস্কৃতির নতুন অধ্যায়। ফ্রান্সে উদ্বোধন হলো স্বামীনারায়ণ হিন্দু মন্দিরের।

ভার্চুয়ালি এই মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, এই মন্দিরের উদ্বোধন ভারত ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘নতুন মাইলস্টোন’। এই মন্দিরের উদ্বোধনকে ভারত ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদি বলেন, ‘প্যারিসের এই বিশাল মন্দির উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও সংহতির প্রতীক হিসেবে যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে। দুই দেশের বন্ধুত্ব এখন শুধু কূটনীতি বা কৌশলগত সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের কাছেই বুসি-সাঁ-জর্জ ও সেন-এট-মার্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে এই বিশাল মন্দির। সম্পূর্ণ ভারতীয় স্থাপত্যরীতিতে তৈরি হলেও এর নির্মাণে রয়েছে ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ প্রয়াস। মন্দিরের জন্য ব্যবহৃত পাথরের বড় অংশ ভারতে আনা হয়েছিল। সেখানেই শিল্পীরা পাথরে সূক্ষ্ম কারুকাজ করেন।

পরে সেই পাথর ফ্রান্সে নিয়ে গিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে জুড়ে তৈরি করা হয়েছে মন্দিরের কাঠামো।  

এই মেলবন্ধনকেই বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। তার কথায়, এটি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া, বিল্ট ইন ফ্রান্স’-এর একটি সুন্দর উদাহরণ। অর্থাৎ ভারতের শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ফরাসি প্রযুক্তি ও নির্মাণ দক্ষতার মেলবন্ধন ঘটেছে এই মন্দিরে।

এই মন্দিরটির গুরুত্ব শুধু ধর্মীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ নয় বলেই মনে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে এমন একটি মন্দির ভারতীয় সংস্কৃতি, দর্শন ও জীবনধারার সঙ্গে স্থানীয় মানুষের পরিচয় আরো বাড়াবে।

পাশাপাশি দুই দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগও আরো গভীর হবে।’  

ভারতীয় দর্শনের ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ বা ‘সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার’— এই ভাবনাকে সামনে রেখে মন্দিরটি মানুষের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা ছড়াবে বলেও জানান মোদি। ফ্রান্সে ভারতীয় সংস্কৃতির এমন একটি স্থায়ী নিদর্শন তৈরি হওয়াকে তাই শুধু প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য নয়, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। 

প্রধানমন্ত্রীর আশা, ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের আদলে তৈরি এই মন্দির তাই প্রবাসী হিন্দুদের কাছে যেমন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগের কেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের নতুন মোড়, মন্দির উদ্বোধনে আবেগে আপ্লুত মোদি

Update Time : 04:36:29 pm, Monday, 7 September 2026

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের মাটিতে শুরু হলো ভারতীয় সংস্কৃতির নতুন অধ্যায়। ফ্রান্সে উদ্বোধন হলো স্বামীনারায়ণ হিন্দু মন্দিরের।

ভার্চুয়ালি এই মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, এই মন্দিরের উদ্বোধন ভারত ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘নতুন মাইলস্টোন’। এই মন্দিরের উদ্বোধনকে ভারত ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদি বলেন, ‘প্যারিসের এই বিশাল মন্দির উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও সংহতির প্রতীক হিসেবে যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে। দুই দেশের বন্ধুত্ব এখন শুধু কূটনীতি বা কৌশলগত সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের কাছেই বুসি-সাঁ-জর্জ ও সেন-এট-মার্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে এই বিশাল মন্দির। সম্পূর্ণ ভারতীয় স্থাপত্যরীতিতে তৈরি হলেও এর নির্মাণে রয়েছে ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ প্রয়াস। মন্দিরের জন্য ব্যবহৃত পাথরের বড় অংশ ভারতে আনা হয়েছিল। সেখানেই শিল্পীরা পাথরে সূক্ষ্ম কারুকাজ করেন।

পরে সেই পাথর ফ্রান্সে নিয়ে গিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে জুড়ে তৈরি করা হয়েছে মন্দিরের কাঠামো।  

এই মেলবন্ধনকেই বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। তার কথায়, এটি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া, বিল্ট ইন ফ্রান্স’-এর একটি সুন্দর উদাহরণ। অর্থাৎ ভারতের শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ফরাসি প্রযুক্তি ও নির্মাণ দক্ষতার মেলবন্ধন ঘটেছে এই মন্দিরে।

এই মন্দিরটির গুরুত্ব শুধু ধর্মীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ নয় বলেই মনে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে এমন একটি মন্দির ভারতীয় সংস্কৃতি, দর্শন ও জীবনধারার সঙ্গে স্থানীয় মানুষের পরিচয় আরো বাড়াবে।

পাশাপাশি দুই দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগও আরো গভীর হবে।’  

ভারতীয় দর্শনের ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ বা ‘সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার’— এই ভাবনাকে সামনে রেখে মন্দিরটি মানুষের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা ছড়াবে বলেও জানান মোদি। ফ্রান্সে ভারতীয় সংস্কৃতির এমন একটি স্থায়ী নিদর্শন তৈরি হওয়াকে তাই শুধু প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য নয়, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। 

প্রধানমন্ত্রীর আশা, ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের আদলে তৈরি এই মন্দির তাই প্রবাসী হিন্দুদের কাছে যেমন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগের কেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে।