Dhaka 1:50 pm, Monday, 7 September 2026

নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা কাটিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে বসুন্ধরা কিংস

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 04:20:33 am, Monday, 7 September 2026
  • / 14 Time View

ফিফার সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ঘিরে দেশের ফুটবলে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কেটে গেছে। বকেয়া পরিশোধের মাধ্যমে বসুন্ধরা কিংস, আবাহনী লিমিটেড ও ইয়াংমেনস ফকিরেরপুল প্রাথমিক লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় বাধা দূর করেছে। ফলে ২০২৬-২৭ মৌসুমের পেশাদার ফুটবল লিগে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে পারছে ক্লাবগুলো।

পেশাদার লিগের ইতিহাসে বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী লিমিটেডের অবস্থান আলাদা। ২০০৭ সালে পেশাদার লিগ চালুর পর দুই দলই ছয়বার করে শিরোপা জিতেছে। ফলে নতুন মৌসুমে এই দুই দলের উপস্থিতি প্রতিযোগিতার আকর্ষণ বাড়াবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাঠের বাইরের জটিলতা কাটার পর দল গঠনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ক্লাবগুলো। মোহামেডান আগেভাগেই কোচ চূড়ান্ত করে দল গোছানোর কাজ শুরু করেছে। আবাহনীও দলে এনেছে নাইজেরিয়ার হয়ে বিশ্বকাপ খেলা ফরোয়ার্ড মাইকেল বাবাতুন্দেকে। ১৩ দলের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা থাকা এবারের লিগে তাই শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ দেখা যাচ্ছে। শিরোপার দৌড়ে অন্তত সাতটি দলের থাকার সম্ভাবনা থাকায় প্রতিযোগিতাটি আগের চেয়ে বেশি জমজমাট হতে পারে।

২০১৮-১৯ মৌসুমে পেশাদার ফুটবলে অভিষেকের পর থেকেই বসুন্ধরা কিংস দেশের ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ক্লাবটি টানা পাঁচবার লিগ শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছে। পেশাদার লিগের ইতিহাসে টানা এতবার শিরোপা জয়ের নজির আর কোনো দলের নেই। নারী দলসহ ক্লাবটির ট্রফি সংখ্যাও এখন ২০টি।

কিংসের উত্থানের পেছনে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সাংগঠনিক কাঠামো, পেশাদার ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এ কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই ক্লাবটি দেশের ফুটবলে শক্তিশালী একটি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হলেও ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদ দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ছিল। ক্লাব সভাপতি মো. ইমরুল হাসানের ব্যবস্থাপনা এবং বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোহবানের সমর্থন ক্লাবটির কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ফুটবল মাঠের বাইরে অবকাঠামো উন্নয়নেও বসুন্ধরা কিংসের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির পরিকল্পনা ও নির্মাণ কার্যক্রম দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে বড় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নতুন মৌসুমে কিংসের লক্ষ্য আরও বড়। জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় দল ছাড়লেও ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রবসন রোবিনহোর প্রত্যাবর্তন দলটির আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে ৩৫ সদস্যের দল নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্লাবটি।

ইতিমধ্যে স্থানীয় কোচিং প্যানেলের অধীনে অনুশীলনও শুরু হয়েছে। মাঠের বাইরের অনিশ্চয়তা পেছনে ফেলে এখন মাঠের পারফরম্যান্সেই নজর বসুন্ধরা কিংসের। নতুন মৌসুমে লিগসহ সম্ভাব্য সব শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখাই হবে ক্লাবটির বড় পরীক্ষা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা কাটিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে বসুন্ধরা কিংস

Update Time : 04:20:33 am, Monday, 7 September 2026

ফিফার সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ঘিরে দেশের ফুটবলে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কেটে গেছে। বকেয়া পরিশোধের মাধ্যমে বসুন্ধরা কিংস, আবাহনী লিমিটেড ও ইয়াংমেনস ফকিরেরপুল প্রাথমিক লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় বাধা দূর করেছে। ফলে ২০২৬-২৭ মৌসুমের পেশাদার ফুটবল লিগে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে পারছে ক্লাবগুলো।

পেশাদার লিগের ইতিহাসে বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী লিমিটেডের অবস্থান আলাদা। ২০০৭ সালে পেশাদার লিগ চালুর পর দুই দলই ছয়বার করে শিরোপা জিতেছে। ফলে নতুন মৌসুমে এই দুই দলের উপস্থিতি প্রতিযোগিতার আকর্ষণ বাড়াবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাঠের বাইরের জটিলতা কাটার পর দল গঠনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ক্লাবগুলো। মোহামেডান আগেভাগেই কোচ চূড়ান্ত করে দল গোছানোর কাজ শুরু করেছে। আবাহনীও দলে এনেছে নাইজেরিয়ার হয়ে বিশ্বকাপ খেলা ফরোয়ার্ড মাইকেল বাবাতুন্দেকে। ১৩ দলের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা থাকা এবারের লিগে তাই শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ দেখা যাচ্ছে। শিরোপার দৌড়ে অন্তত সাতটি দলের থাকার সম্ভাবনা থাকায় প্রতিযোগিতাটি আগের চেয়ে বেশি জমজমাট হতে পারে।

২০১৮-১৯ মৌসুমে পেশাদার ফুটবলে অভিষেকের পর থেকেই বসুন্ধরা কিংস দেশের ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ক্লাবটি টানা পাঁচবার লিগ শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছে। পেশাদার লিগের ইতিহাসে টানা এতবার শিরোপা জয়ের নজির আর কোনো দলের নেই। নারী দলসহ ক্লাবটির ট্রফি সংখ্যাও এখন ২০টি।

কিংসের উত্থানের পেছনে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সাংগঠনিক কাঠামো, পেশাদার ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এ কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই ক্লাবটি দেশের ফুটবলে শক্তিশালী একটি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হলেও ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদ দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ছিল। ক্লাব সভাপতি মো. ইমরুল হাসানের ব্যবস্থাপনা এবং বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোহবানের সমর্থন ক্লাবটির কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ফুটবল মাঠের বাইরে অবকাঠামো উন্নয়নেও বসুন্ধরা কিংসের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির পরিকল্পনা ও নির্মাণ কার্যক্রম দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে বড় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নতুন মৌসুমে কিংসের লক্ষ্য আরও বড়। জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় দল ছাড়লেও ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রবসন রোবিনহোর প্রত্যাবর্তন দলটির আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে ৩৫ সদস্যের দল নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্লাবটি।

ইতিমধ্যে স্থানীয় কোচিং প্যানেলের অধীনে অনুশীলনও শুরু হয়েছে। মাঠের বাইরের অনিশ্চয়তা পেছনে ফেলে এখন মাঠের পারফরম্যান্সেই নজর বসুন্ধরা কিংসের। নতুন মৌসুমে লিগসহ সম্ভাব্য সব শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখাই হবে ক্লাবটির বড় পরীক্ষা।