Dhaka 1:39 pm, Thursday, 3 September 2026

বিপিএলের ক্ষতি পোষাতে জনপ্রতি ৩০ লাখের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 06:51:55 am, Thursday, 3 September 2026
  • / 0 Time View

তখনও তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়নি। অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে বোর্ডে এসেই দ্বিতীয় বোর্ড সভায় ঘরোয়া ক্রিকেটে পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের বেতন ও ম্যাচ ফি বাড়িয়েছিলেন তিনি।

পাঁচ মাসের ব্যবধানে এবার আবারও পুরুষ ক্রিকেটারদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর হিসাব কষতে হচ্ছে বোর্ডকে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পরবর্তী আসর আয়োজন না করার ক্ষতিপূরণ হিসেবে বোর্ডের আয়োজনে সব টুর্নামেন্টের ম্যাচ ফি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। সেই অঙ্কটা ক্রিকেটারপ্রতি ৩০ লাখ টাকা।

বিসিবির আয়োজনে এখন টুর্নামেন্ট হয় চারটি—দুটি প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চার দিনের সংস্করণ।

এ ছাড়া আছে বিসিএল ওয়ানডে ও এনসিএল টি-টোয়েন্টি। এই চারটি টুর্নামেন্ট মিলিয়ে প্রতি ক্রিকেটারের জন্য বাড়তি ৩০ লাখ টাকা ম্যাচ ফি চান খেলোয়াড়রা। সবচেয়ে বড় কথা, এই বাড়তি অর্থ শুধু একটি মৌসুমের জন্য নয়, ভবিষ্যতেও কার্যকর রাখার প্রস্তাব তাদের। প্রথম শ্রেণির দুটি টুর্নামেন্টে সর্বশেষ ২৫ হাজার টাকা ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছিল।

অর্থাৎ ৭৫ হাজার টাকা থেকে সেটি করা হয়েছিল এক লাখ টাকা। এবার অঙ্কটা আরো বড় আকারে সমন্বয় করার দাবি খেলোয়াড়দের। একই সঙ্গে নতুন নামে মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকা ফ্র্যাঞ্চাইজির আদলে বিসিএলের দুটি টুর্নামেন্টে পরবর্তী আসর থেকে দুটি করে দল বাড়ছে। স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে খেলোয়াড়সংখ্যাও।
তবে সর্বোচ্চসংখ্যক ক্রিকেটারকে কিভাবে আর্থিকভাবে উপকৃত করা যায়, সেটিই বোর্ডের সঙ্গে বৈঠকে তুলে ধরেছিলেন ক্রিকেটাররা।

দ্বিতীয় দফার বৈঠক শেষে গত পরশু সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্রিকেটারদের সংস্থা কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন সেই কথাই বলেছিলেন, ‘ভবিষ্যতে আমরা কিভাবে ১৫০ থেকে ২০০ খেলোয়াড়কে উপকৃত করতে পারি, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। যেমন—টুর্নামেন্টগুলোর ম্যাচ ফি বাড়িয়ে একটি সম্মানজনক পর্যায়ে নেওয়া, যেন একজন খেলোয়াড় সারা বছর সচ্ছলভাবে চলতে পারেন। বোর্ড আমাদের সব বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। খুব শিগগির বিসিবির সভায় এই প্রস্তাব পাস হওয়ার কথা আছে।’

ক্রিকেটারদের এই দাবি কার্যকর করতে গেলে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের অর্থই গুনতে হবে বোর্ডকে। তবে বিসিবি পুরো বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছে। উল্টো টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরের কথায় পরিষ্কার, এমন ভাবনা তাঁদের আগে থেকেই ছিল। তিনি বলেন, ‘একটি সত্যি কথা বলি, ওরা যদি আমাদের কাছে দাবিদাওয়া নিয়ে না-ও আসত, তবু আমরা ওদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতাম। এটা আমাদের চিন্তায়ই ছিল। কারণ আমরা চাই, বছরে এসব টুর্নামেন্ট খেলেই যাতে ক্রিকেটাররা ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা আয় করতে পারে। আমাদের এই বোর্ড ক্রিকেটের অবকাঠামো আর ক্রিকেটারদের উন্নতিতেই সর্বোচ্চ শ্রম দিচ্ছে।’ 

বোর্ডের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ার বিষয়টিও উড়িয়ে দিয়েছেন সিরাজউদ্দিন আলমগীর। তার কথা, ‘আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে, আমরা তো ওদের কথা চিন্তা করেই তিনটি পুরনো টুর্নামেন্টকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসছি। সেই কাঠামো যদি বাস্তবায়ন হয়ে যায়, তাহলে এটা কোনো ব্যাপারই না। ধরুন, আমরা যদি তিনটি টুর্নামেন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকা আয় করি, সে ক্ষেত্রে ক্রিকেটারদের পাঁচ কোটি দিতে তো সমস্যা নেই।’

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিপিএলের ক্ষতি পোষাতে জনপ্রতি ৩০ লাখের প্রস্তাব

Update Time : 06:51:55 am, Thursday, 3 September 2026

তখনও তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়নি। অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে বোর্ডে এসেই দ্বিতীয় বোর্ড সভায় ঘরোয়া ক্রিকেটে পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের বেতন ও ম্যাচ ফি বাড়িয়েছিলেন তিনি।

পাঁচ মাসের ব্যবধানে এবার আবারও পুরুষ ক্রিকেটারদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর হিসাব কষতে হচ্ছে বোর্ডকে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পরবর্তী আসর আয়োজন না করার ক্ষতিপূরণ হিসেবে বোর্ডের আয়োজনে সব টুর্নামেন্টের ম্যাচ ফি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। সেই অঙ্কটা ক্রিকেটারপ্রতি ৩০ লাখ টাকা।

বিসিবির আয়োজনে এখন টুর্নামেন্ট হয় চারটি—দুটি প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চার দিনের সংস্করণ।

এ ছাড়া আছে বিসিএল ওয়ানডে ও এনসিএল টি-টোয়েন্টি। এই চারটি টুর্নামেন্ট মিলিয়ে প্রতি ক্রিকেটারের জন্য বাড়তি ৩০ লাখ টাকা ম্যাচ ফি চান খেলোয়াড়রা। সবচেয়ে বড় কথা, এই বাড়তি অর্থ শুধু একটি মৌসুমের জন্য নয়, ভবিষ্যতেও কার্যকর রাখার প্রস্তাব তাদের। প্রথম শ্রেণির দুটি টুর্নামেন্টে সর্বশেষ ২৫ হাজার টাকা ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছিল।

অর্থাৎ ৭৫ হাজার টাকা থেকে সেটি করা হয়েছিল এক লাখ টাকা। এবার অঙ্কটা আরো বড় আকারে সমন্বয় করার দাবি খেলোয়াড়দের। একই সঙ্গে নতুন নামে মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকা ফ্র্যাঞ্চাইজির আদলে বিসিএলের দুটি টুর্নামেন্টে পরবর্তী আসর থেকে দুটি করে দল বাড়ছে। স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে খেলোয়াড়সংখ্যাও।
তবে সর্বোচ্চসংখ্যক ক্রিকেটারকে কিভাবে আর্থিকভাবে উপকৃত করা যায়, সেটিই বোর্ডের সঙ্গে বৈঠকে তুলে ধরেছিলেন ক্রিকেটাররা।

দ্বিতীয় দফার বৈঠক শেষে গত পরশু সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্রিকেটারদের সংস্থা কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন সেই কথাই বলেছিলেন, ‘ভবিষ্যতে আমরা কিভাবে ১৫০ থেকে ২০০ খেলোয়াড়কে উপকৃত করতে পারি, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। যেমন—টুর্নামেন্টগুলোর ম্যাচ ফি বাড়িয়ে একটি সম্মানজনক পর্যায়ে নেওয়া, যেন একজন খেলোয়াড় সারা বছর সচ্ছলভাবে চলতে পারেন। বোর্ড আমাদের সব বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। খুব শিগগির বিসিবির সভায় এই প্রস্তাব পাস হওয়ার কথা আছে।’

ক্রিকেটারদের এই দাবি কার্যকর করতে গেলে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের অর্থই গুনতে হবে বোর্ডকে। তবে বিসিবি পুরো বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছে। উল্টো টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরের কথায় পরিষ্কার, এমন ভাবনা তাঁদের আগে থেকেই ছিল। তিনি বলেন, ‘একটি সত্যি কথা বলি, ওরা যদি আমাদের কাছে দাবিদাওয়া নিয়ে না-ও আসত, তবু আমরা ওদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতাম। এটা আমাদের চিন্তায়ই ছিল। কারণ আমরা চাই, বছরে এসব টুর্নামেন্ট খেলেই যাতে ক্রিকেটাররা ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা আয় করতে পারে। আমাদের এই বোর্ড ক্রিকেটের অবকাঠামো আর ক্রিকেটারদের উন্নতিতেই সর্বোচ্চ শ্রম দিচ্ছে।’ 

বোর্ডের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ার বিষয়টিও উড়িয়ে দিয়েছেন সিরাজউদ্দিন আলমগীর। তার কথা, ‘আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে, আমরা তো ওদের কথা চিন্তা করেই তিনটি পুরনো টুর্নামেন্টকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসছি। সেই কাঠামো যদি বাস্তবায়ন হয়ে যায়, তাহলে এটা কোনো ব্যাপারই না। ধরুন, আমরা যদি তিনটি টুর্নামেন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকা আয় করি, সে ক্ষেত্রে ক্রিকেটারদের পাঁচ কোটি দিতে তো সমস্যা নেই।’