কুয়েত ও আমিরাতে মার্কিন যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইরানের পাল্টা হামলা
- Update Time : 12:48:22 pm, Thursday, 3 September 2026
- / 2 Time View
ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এসব হামলায় স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা, সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার, যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার, সেনা অবস্থান ও রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে ‘সায়েকেহ বা বজ্রপাত’ অভিযানের ৩১তম ধাপে এসব হামলা চালানো হয়। ইরানি সেনাবাহিনীর ভাষ্য, দেশটির বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘উসকানিহীন আগ্রাসনের’ জবাবে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইরানি সেনাবাহিনী জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র ও হামলাকারী ড্রোন দিয়ে কুয়েতে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। এতে যোগাযোগব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আল-জাবের বিমানঘাঁটিটি পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ রসদ ও সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেছে বিবৃতিতে। তাদের দাবি, এই ঘাঁটি ওই অঞ্চলে মার্কিন বিমান অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এ ছাড়া ইউএইর আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সেনা মোতায়েনের এলাকা এবং রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। ঘাঁটিকে বিদেশি বাহিনীর বিমান সহায়তা ও পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেছে ইরান।
এর আগে দক্ষিণ ইরানের কয়েকটি শহরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা হামলার পর ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা হামলার ঘোষণা আসে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ১৪২ জন আহত হয়েছেন।
হামলার মধ্যে হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাকে একটি আবাসিক বাড়িতে মার্কিন হামলার ঘটনাও রয়েছে। ওই বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল বলে জানানো হয়েছে। হামলায় চার বছর বয়সী এক শিশুসহ পাঁচ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর যেকোনো হামলার জবাব কঠোরভাবেই দেওয়া হবে উল্লেখ করে ইরানি সেনাবাহিনী বলেছে, সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনীর যেকোনো হামলার জবাবে সেনাবাহিনীর সাহসী সদস্যদের প্রতিক্রিয়া কঠোর ও ধ্বংসাত্মক হয়েছে এবং আগ্রাসী পক্ষের শাস্তি ও চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।