চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জাহাজের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের
- Update Time : 04:18:38 pm, Tuesday, 1 September 2026
- / 6 Time View
চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিপিং জায়ান্ট কসকোর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। শিপিং কম্পানাটি জাহাজে লুকানো উন্নত সরঞ্জাম ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের উপকূলবর্তী সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাতে এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়নের ভিত্তিতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চীনের রাষ্ট্রীয় শিপিং কম্পানিটি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বেইজিংয়ের সাথে গোপন তথ্য সংগ্রহের অংশীদারি বজায় রেখে চলেছে। এই চুক্তির আওতায় তারা ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়াজুড়ে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজ এবং বিমানের যোগাযোগ সংকেত (কমিউনিকেশন সিগন্যাল) গোপনে সংগ্রহ করার সুযোগ পায়।
এক কর্মকর্তার মতে, কসকোর জাহাজগুলোতে বসানো এই অত্যাধুনিক সরঞ্জামের মূল উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন দেশের সামরিক যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং এনক্রিপশন (তথ্য সুরক্ষার গোপন কোড) ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও গোয়েন্দা সংকেত বেইজিংয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা আরো জানান, এই গোপন তৎপরতার মাধ্যমে বেইজিং বিশ্বের এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ নৌ রুট ও সমুদ্রসীমার ওপর নজরদারি রাখতে পারছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সামরিক যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জরুরি।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও কসকো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি; তবে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছে।
চলতি মাসের শেষের দিকে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা নেতা শি চিনপিংয়ের একটি শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সংক্রান্ত এমন বেশ কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কসকোর জাহাজগুলো ঠিক কী ধরণের সরঞ্জাম ব্যবহার করছে মার্কিন কর্মকর্তারা তার সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেননি।
তবে তারা জানিয়েছেন, এগুলো সাধারণ যোগাযোগের কোনো যন্ত্রাংশ নয়, বরং অত্যন্ত উন্নতমানের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সরঞ্জাম।
কর্মকর্তারা আরও বলেন, বেইজিং এই সংগৃহীত তথ্য বিভিন্ন আঞ্চলিক জলসীমার বিরোধে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে, সমুদ্রের ওপর নজরদারি বাড়াতে এবং বিদেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুর গতিবিধি সম্পর্কে আগাম সতর্কতা পেতে ব্যবহার করে।
ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, চীন সরকার কখনো কোনো কোম্পানি বা ব্যক্তিকে স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করে অন্য দেশ থেকে তথ্য বা গোয়েন্দা সংকেত সংগ্রহ করার নির্দেশ দেয় না।
রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং বলেন, ‘আমরা তথাকথিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মতো ভিত্তিহীন গল্প ছড়িয়ে চীনকে বদনাম করার এই প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করছি।’
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন কসকোকে চীনা সামরিক বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
এর ফলে কোম্পানির ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুণ্ণ হয়, তেমনি মার্কিন সরকারের সাথে ব্যবসা করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তবে এর ওপর আনুষ্ঠানিক কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।
চীনের আইন অনুযায়ী সব সংস্থাকে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা কাজে সহায়তা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও, কসকো এখনো মার্কিন বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানিগুলোর একটি। মার্কিন বন্দরগুলোতে কন্টেইনার সেবায় বেশ কয়েকটি যৌথ ব্যবসাও রয়েছে জাহাজ কোম্পানিটির।
যুক্তরাষ্ট্রের ঝিমিয়ে পড়া জাহাজ নির্মাণ এবং সামুদ্রিক শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন কসকোসহ চীনা শিপিং কোম্পানিগুলোর ওপর শত কোটি ডলারের বন্দর ফি বা শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করেছিল।
তবে গত অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের মধ্যে এক বছরের জন্য বাণিজ্য যুদ্ধ স্থগিতের চুক্তি হওয়ার পর সেই পরিকল্পনাটি সাময়িকভাবে থামানো হয়। এই চুক্তির মেয়াদ আগামী নভেম্বরে শেষ হবে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দুই নেতার আসন্ন বৈঠকে এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।


