Dhaka 3:38 am, Sunday, 23 August 2026
সর্বশেষ
পরীমণির গাড়ি বিতর্কে নামের ভুলে কি বদলে গিয়েছিল আসল পরিচয়? এনওসি ছাড়াই বিদেশ সফরে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভারত সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ ভারতবিরোধী রাজনীতির ফাঁদে পড়লে বিপদ বিএনপিরই ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল উগ্রবাদকে ছাড় নয়, আইনের কঠোর প্রয়োগই হতে পারে সমাধান ক্ষমাপ্রার্থনা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ঐতিহাসিক জবাবদিহি কলকাতায় হোটেলে আগুন, কুষ্টিয়ার সাংবাদিকসহ পরিবারের চারজন নিহত মাদক নির্মূলে দরকার মাঠ প্রশাসনের কঠোর উদ্যোগ, রূপগঞ্জ হতে পারে দৃষ্টান্ত লোহাগাড়ায় এক তহসিলদারের ওপেন ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়া আধুনগর ভূমি অফিস

এনওসি ছাড়াই বিদেশ সফরে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 12:14:34 pm, Saturday, 22 August 2026
  • / 17 Time View

খাদ্য অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি বা ছুটি না নিয়েই টানা পাঁচ দিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন রাজধানীর সূত্রাপুর থানার কলতাবাজার খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম মজুমদার। তার এই আকস্মিক অনুপস্থিতির কারণে গুদামের দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন খাদ্যশস্য সরবরাহকারী এবং সাধারণ মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ই আগস্ট মঙ্গলবার কলতাবাজার খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম মজুমদার ও তার ছেলে মাকসুদ মজুমদারকে (তামিম) নিয়ে সৌদি আরবের উদ্দেশ্য রওনা হন। যার পাসপোর্ট নাম্বার: A16366148, প্লাইট নাম্বার 6e1118 ইনডোগো এয়ারলেন্স বাংলাদেশ সময় ১টা ৫ মিনিটে ঢাকা ত্যাগ করেন। তার ছেলের পাসপোর্ট নাম্বার: A16366149। পরবর্তীতে ৫ দিন সৌদি আরবে অবস্থান করার পর গত ১৬ই আগস্ট সোমবার প্লাইট নাম্বার BS362 বাংলাদেশে আসেন। এসময় ৫ দিন খাদ্য গুদামের অফিসে আসেনি তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় খাদ্য গুদামে ৫ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৪ জন কর্মকর্তা অনুপস্থিত। বেশিরভাগ সময়ে অফিসে থাকে না ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম। তবে এসব বিষয়ে মুখ খুলতে চায় না অফিসের কর্মকর্তারা। এসময় উপস্থিত খাদ্য গুদামের উপ খাদ্য পরিদর্শক ইব্রাহিম খলিল প্রথমেই বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং বলেন স্যার ডিসি অফিসে আছেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন ও জানতে চাইলে ৪ জন কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কথা স্বীকার করেন। যার মধ্যে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম মজুমদার, সহকারী খাদ্য পরিদর্শক রবিউল ইসলাম, ৪র্থ শ্রেনির কর্মকর্তা ঠাকুর দাস ও ইব্রাহিম খলিল নিজেও ৪ দিন অনুপস্থিত ছিলেন। অফিসের হাজিরা খাতা দেখা মাত্রও তলের বিড়াল বেড়িয়ে আসে। সেখানে ৪ জন কর্মকর্তার অনুপস্থিতির প্রমান মেলে।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম মজুমদার এর ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে নামমাত্র একটি আবেদন দেখান যা উধ্বর্তন কর্মকর্তার অনুমোদনের স্বাক্ষর মেলেনি। এই অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি ও নারী সংক্রান্ত অপকর্মের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া নূরে আলম দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে আ:লীগের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করেন। ২০১০ সালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা আ:লীগ নেতার সাক্ষর সম্বলিত প্রত্যয়নে সে নিজেকে আ:লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে দাবি করেন । বিভিন্ন তথ্যমতে জানা যায় দেশের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে তার চরিত্রও বদলে যায়।

আরেক সহকারী খাদ্য কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি অফিস থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তিনি এনওসি নিয়েছে কি না সেটা আমারা জানা নেই। তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। জরুরি এই সরকারি দপ্তরে প্রধান কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে খাদ্যশস্য খালাস, চাল বিতরণ ও নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

এবিষয়ে কলতাবাজার খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম মজুমদার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং কুমিল্লায় ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছেন বলে জানায়। পরবর্তীতে প্রতিবেদনটি না করতে প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। পরে ঐ প্রতিবেদককে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন।

ঢাকা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জানান, ছুটি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কোনো সুযোগ নেই। দেশের বাহিরে যাওয়া তো প্রশ্নই আসে না। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জসিম উদ্দিন খানকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।

উক্ত কর্মকর্তার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সেখানে বিকল্প কর্মকর্তা পদায়ন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এনওসি ছাড়াই বিদেশ সফরে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা

Update Time : 12:14:34 pm, Saturday, 22 August 2026

খাদ্য অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি বা ছুটি না নিয়েই টানা পাঁচ দিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন রাজধানীর সূত্রাপুর থানার কলতাবাজার খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম মজুমদার। তার এই আকস্মিক অনুপস্থিতির কারণে গুদামের দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন খাদ্যশস্য সরবরাহকারী এবং সাধারণ মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ই আগস্ট মঙ্গলবার কলতাবাজার খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম মজুমদার ও তার ছেলে মাকসুদ মজুমদারকে (তামিম) নিয়ে সৌদি আরবের উদ্দেশ্য রওনা হন। যার পাসপোর্ট নাম্বার: A16366148, প্লাইট নাম্বার 6e1118 ইনডোগো এয়ারলেন্স বাংলাদেশ সময় ১টা ৫ মিনিটে ঢাকা ত্যাগ করেন। তার ছেলের পাসপোর্ট নাম্বার: A16366149। পরবর্তীতে ৫ দিন সৌদি আরবে অবস্থান করার পর গত ১৬ই আগস্ট সোমবার প্লাইট নাম্বার BS362 বাংলাদেশে আসেন। এসময় ৫ দিন খাদ্য গুদামের অফিসে আসেনি তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় খাদ্য গুদামে ৫ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৪ জন কর্মকর্তা অনুপস্থিত। বেশিরভাগ সময়ে অফিসে থাকে না ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম। তবে এসব বিষয়ে মুখ খুলতে চায় না অফিসের কর্মকর্তারা। এসময় উপস্থিত খাদ্য গুদামের উপ খাদ্য পরিদর্শক ইব্রাহিম খলিল প্রথমেই বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং বলেন স্যার ডিসি অফিসে আছেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন ও জানতে চাইলে ৪ জন কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কথা স্বীকার করেন। যার মধ্যে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম মজুমদার, সহকারী খাদ্য পরিদর্শক রবিউল ইসলাম, ৪র্থ শ্রেনির কর্মকর্তা ঠাকুর দাস ও ইব্রাহিম খলিল নিজেও ৪ দিন অনুপস্থিত ছিলেন। অফিসের হাজিরা খাতা দেখা মাত্রও তলের বিড়াল বেড়িয়ে আসে। সেখানে ৪ জন কর্মকর্তার অনুপস্থিতির প্রমান মেলে।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম মজুমদার এর ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে নামমাত্র একটি আবেদন দেখান যা উধ্বর্তন কর্মকর্তার অনুমোদনের স্বাক্ষর মেলেনি। এই অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি ও নারী সংক্রান্ত অপকর্মের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া নূরে আলম দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে আ:লীগের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করেন। ২০১০ সালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা আ:লীগ নেতার সাক্ষর সম্বলিত প্রত্যয়নে সে নিজেকে আ:লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে দাবি করেন । বিভিন্ন তথ্যমতে জানা যায় দেশের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে তার চরিত্রও বদলে যায়।

আরেক সহকারী খাদ্য কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি অফিস থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তিনি এনওসি নিয়েছে কি না সেটা আমারা জানা নেই। তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। জরুরি এই সরকারি দপ্তরে প্রধান কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে খাদ্যশস্য খালাস, চাল বিতরণ ও নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

এবিষয়ে কলতাবাজার খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম মজুমদার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং কুমিল্লায় ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছেন বলে জানায়। পরবর্তীতে প্রতিবেদনটি না করতে প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। পরে ঐ প্রতিবেদককে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন।

ঢাকা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জানান, ছুটি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কোনো সুযোগ নেই। দেশের বাহিরে যাওয়া তো প্রশ্নই আসে না। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জসিম উদ্দিন খানকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।

উক্ত কর্মকর্তার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সেখানে বিকল্প কর্মকর্তা পদায়ন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।