Dhaka 10:52 am, Thursday, 15 October 2026
সর্বশেষ
ক্যান্সারসহ ৭ রোগে অনুদানের জন্য আবেদনকারীদের নতুন নির্দেশনা দক্ষতা উন্নয়নে সুইজারল্যান্ডের ‘ইউপিআর ইনফো’র সঙ্গে ঢাবির চুক্তি ক্যাম্পাসে পশু জবাই নিষিদ্ধ করল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবেলায় নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা ফ্যাসিস্ট শক্তি বাংলাদেশে সফল হতে পারবে না : আমানউল্লাহ আমান চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত দেশে শীত নামবে কবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর গ্রিনল্যান্ডে শুরু হবে তেল-গ্যাস ও খনিজ অনুসন্ধান : ট্রাম্প ধবলধোলাই এড়াতে পারল না বাংলাদেশ সিসা দূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর : পরিবেশমন্ত্রী

বহুমুখী ক্রীড়া প্রতিভা ও সফল সংগঠক আবদুস সাদেকের ইন্তেকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 11:53:36 am, Saturday, 20 June 2026
  • / 67 Time View

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় ও সংগঠক আবদুস সাদেক আর নেই। আজ সকাল ৮টায় (২০ জুন/২৬) রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

​মরহুমের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ বাদ আসর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ‘আই’ ব্লকের বায়তুস সোবহান জামে মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বনানী ওল্ড ডিওএইচএস মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে।

​উল্লেখ্য, আবদুস সাদেক দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের বড় ভাই। এছাড়া ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও দেশের একমাত্র ক্রীড়াভিত্তিক স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘টি স্পোর্টস’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইশতিয়াক সাদেক তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র। তাঁর পিতা অ্যাডভোকেট আবদুস সোবহানও ছিলেন ব্রিটিশ আমলের একজন খ্যাতনামা সাঁতারু।
​বহুমুখী ক্রীড়া প্রতিভা ও সোনালী ক্যারিয়ার
​আবদুস সাদেক ছিলেন স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। কেবল হকি নয়, ফুটবল ও ক্রিকেটেও ছিল তাঁর সমান পারদর্শিতা। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী ক্রীড়াচক্রের ফুটবল ও হকি—উভয় দলেরই প্রথম অধিনায়ক হওয়ার অনন্য গৌরব রয়েছে তাঁর।
ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৬ সালে তিনি ‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার’-এ ভূষিত হন।
​স্বাধীনতার পূর্বে অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের হয়ে ইউরোপ সফরে মাঠ কাঁপিয়েছেন আবদুস সাদেক। ১৯৬৯ সালের সেই সফরে জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোর বিপক্ষে চমৎকার নৈপুণ্য প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি নজর কাড়েন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে কুমিল্লা জেলা দলের অধিনায়কত্ব করেন তিনি।
​১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের প্রথম আনুষ্ঠানিক সফরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে দলের নেতৃত্ব দেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ যখন প্রথমবার এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়, তখনও হকি দলের অধিনায়ক ছিলেন আবদুস সাদেক।
​সফল প্রশিক্ষক ও দূরদর্শী সংগঠক
​খেলোয়াড়ি জীবনের পর আবদুস সাদেক আবাহনী ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব নেন এবং সেখানেও ইতিহাস গড়েন। ১৯৭৭ সালে তাঁর অধীনেই ঘরোয়া ফুটবল লিগে কোনো ম্যাচ না হেরে প্রথম দল হিসেবে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে আবাহনী।
​পরবর্তীতে একজন দূরদর্শী ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের (১৯৮৩-১৯৮৫) দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তাঁরই একক প্রচেষ্টা ও কূটনৈতিক দক্ষতায় ১৯৮৫ সালে জাপানের পরিবর্তে ঢাকাকে দ্বিতীয় এশিয়া কাপ হকির ভেন্যু হিসেবে নির্বাচিত করেছিল এশিয়ান হকি ফেডারেশন।
​আবদুস সাদেকের প্রয়াণে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন, ক্লাব ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বহুমুখী ক্রীড়া প্রতিভা ও সফল সংগঠক আবদুস সাদেকের ইন্তেকাল

Update Time : 11:53:36 am, Saturday, 20 June 2026

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় ও সংগঠক আবদুস সাদেক আর নেই। আজ সকাল ৮টায় (২০ জুন/২৬) রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

​মরহুমের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ বাদ আসর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ‘আই’ ব্লকের বায়তুস সোবহান জামে মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বনানী ওল্ড ডিওএইচএস মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে।

​উল্লেখ্য, আবদুস সাদেক দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের বড় ভাই। এছাড়া ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও দেশের একমাত্র ক্রীড়াভিত্তিক স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘টি স্পোর্টস’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইশতিয়াক সাদেক তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র। তাঁর পিতা অ্যাডভোকেট আবদুস সোবহানও ছিলেন ব্রিটিশ আমলের একজন খ্যাতনামা সাঁতারু।
​বহুমুখী ক্রীড়া প্রতিভা ও সোনালী ক্যারিয়ার
​আবদুস সাদেক ছিলেন স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। কেবল হকি নয়, ফুটবল ও ক্রিকেটেও ছিল তাঁর সমান পারদর্শিতা। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী ক্রীড়াচক্রের ফুটবল ও হকি—উভয় দলেরই প্রথম অধিনায়ক হওয়ার অনন্য গৌরব রয়েছে তাঁর।
ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৬ সালে তিনি ‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার’-এ ভূষিত হন।
​স্বাধীনতার পূর্বে অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের হয়ে ইউরোপ সফরে মাঠ কাঁপিয়েছেন আবদুস সাদেক। ১৯৬৯ সালের সেই সফরে জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোর বিপক্ষে চমৎকার নৈপুণ্য প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি নজর কাড়েন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে কুমিল্লা জেলা দলের অধিনায়কত্ব করেন তিনি।
​১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের প্রথম আনুষ্ঠানিক সফরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে দলের নেতৃত্ব দেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ যখন প্রথমবার এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়, তখনও হকি দলের অধিনায়ক ছিলেন আবদুস সাদেক।
​সফল প্রশিক্ষক ও দূরদর্শী সংগঠক
​খেলোয়াড়ি জীবনের পর আবদুস সাদেক আবাহনী ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব নেন এবং সেখানেও ইতিহাস গড়েন। ১৯৭৭ সালে তাঁর অধীনেই ঘরোয়া ফুটবল লিগে কোনো ম্যাচ না হেরে প্রথম দল হিসেবে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে আবাহনী।
​পরবর্তীতে একজন দূরদর্শী ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের (১৯৮৩-১৯৮৫) দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তাঁরই একক প্রচেষ্টা ও কূটনৈতিক দক্ষতায় ১৯৮৫ সালে জাপানের পরিবর্তে ঢাকাকে দ্বিতীয় এশিয়া কাপ হকির ভেন্যু হিসেবে নির্বাচিত করেছিল এশিয়ান হকি ফেডারেশন।
​আবদুস সাদেকের প্রয়াণে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন, ক্লাব ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।