যৌতুকের বলি তরুণ উদ্যোক্তা প্রমি, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ
- Update Time : 02:20:38 pm, Friday, 10 April 2026
- / 228 Time View
যৌতুকের দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীতে স্বামীর হাতে সুমাইয়া জাহান প্রমি (২২) নামে এক তরুণ উদ্যোক্তা হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন সাজেদা আক্তার বাদী হয়ে স্বামী আবু সৈয়দ মো. আনাস, তার মা ও বোনকে আসামি করে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
নিহত প্রমি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ঝাটিয়ারখিল গ্রামের সৌদি প্রবাসী ওমর ফারুকের মেয়ে। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুর এলাকায় বসবাস করতেন এবং স্থানীয়ভাবে একজন পরিচিত তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
মামলার অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে প্রমিকে বিয়ে করেন আনাস। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন তিনি। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রমির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বজনদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে আনাস প্রমির কাছে ৭ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে একাধিকবার মারধর করা হয়। এমনকি দাবিকৃত অর্থ না দিলে অন্যত্র বিয়ে করার হুমকিও দেন আনাস।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে প্রমিকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়। ঘটনার পর থেকেই স্বামী আনাস পলাতক রয়েছেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
নিহতের পরিবার দাবি করেছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা অভিযোগ করেন, প্রমিকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।
ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে স্বজনরা জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় বেশ কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। যেমন—ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেহের হাঁটু খাটের সঙ্গে লেগে ছিল, যা স্বাভাবিক আত্মহত্যার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক। এছাড়া গলায় প্যাঁচানো ওড়না সহজেই খুলে আসা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের মতে, একজন ব্যক্তি নিজে ফাঁস দিলে তা সাধারণত এত সহজে খোলা সম্ভব নয়।
নিহতের বড় বোন সাজেদা আক্তার বলেন, “আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখন ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর অপচেষ্টা চলছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির কারণে এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এসকাগজ/আরডি


















