Dhaka 4:48 pm, Thursday, 16 April 2026
সর্বশেষ

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

সময়ের কাগজ ডেস্ক
  • Update Time : 10:04:23 am, Thursday, 12 March 2026
  • / 73 Time View

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) নির্বাচিত হয়েছেন। ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। এই অধিবেশনের শুরুতেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের রয়েছে বর্ণ্যাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। মহান মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য সাহসিকতার জন্য তিনি রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব পদবি বীর বিক্রমে ভূষিত হন। ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তান ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক। ১৯৬৪ সাল থেকে পর পর তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব ছিলেন। তার বাবা ডাক্তার আজহার উদ্দিন ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে দুই বার পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরে এসে বাবার পথ অনুসরণ করে রাজনীতিতে এসেও তিনি মানুষের মন কেড়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোলা-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে পর পর দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরশাদ পতনের পর ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে পান প্রতীকে ভোলা-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিত হন। তার সঙ্গে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা।
বিজয়ের পর ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির হয়ে বিজয়ী হন তিনি। খালেদা জিয়ার মন্ত্রী পরিষদে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে তিনি ১৯ মার্চ ১৯৯৬ থেকে ২৯ মার্চ ১৯৯৬ পর্যন্ত বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অষ্টম জাতীয় সংসদে খালেদা জিয়ার তৃতীয় মন্ত্রিসভায় তিনি ১১ অক্টোবর ২০০১ থেকে ২২ মে ২০০৩ সাল পর্যন্ত পাটমন্ত্রী, ২২ মে ২০০৩ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০০৬ পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। ২৪ এর গণঅভুত্থানের পর লালমোহন-তজুমদ্দিনের বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেন। রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সপ্তমবারের মতো সংসদে যান। ৮১ বছর বয়সী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
অপরদিকে, ত্রয়োদশ সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচিত ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হোসেন নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পান। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তিনি ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন। কামাল ৭২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান।
কায়সার কামাল ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার চত্রাংপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা প্রয়াত মোস্তফা কামাল মনছুর এবং মাতা বেগম যোবায়দা কামাল। পারিবারিকভাবেই জনপ্রতিনিধিত্ব ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একটি ধারার মধ্যেই তার বেড়ে ওঠা।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে ব্যারিস্টার অ্যাট ল ডিগ্রি লাভ করেন। আইন পেশায় সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।

এসকাগজ/আরডি

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

Update Time : 10:04:23 am, Thursday, 12 March 2026

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) নির্বাচিত হয়েছেন। ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। এই অধিবেশনের শুরুতেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের রয়েছে বর্ণ্যাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। মহান মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য সাহসিকতার জন্য তিনি রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব পদবি বীর বিক্রমে ভূষিত হন। ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তান ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক। ১৯৬৪ সাল থেকে পর পর তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব ছিলেন। তার বাবা ডাক্তার আজহার উদ্দিন ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে দুই বার পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরে এসে বাবার পথ অনুসরণ করে রাজনীতিতে এসেও তিনি মানুষের মন কেড়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোলা-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে পর পর দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরশাদ পতনের পর ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে পান প্রতীকে ভোলা-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিত হন। তার সঙ্গে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা।
বিজয়ের পর ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির হয়ে বিজয়ী হন তিনি। খালেদা জিয়ার মন্ত্রী পরিষদে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে তিনি ১৯ মার্চ ১৯৯৬ থেকে ২৯ মার্চ ১৯৯৬ পর্যন্ত বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অষ্টম জাতীয় সংসদে খালেদা জিয়ার তৃতীয় মন্ত্রিসভায় তিনি ১১ অক্টোবর ২০০১ থেকে ২২ মে ২০০৩ সাল পর্যন্ত পাটমন্ত্রী, ২২ মে ২০০৩ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০০৬ পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। ২৪ এর গণঅভুত্থানের পর লালমোহন-তজুমদ্দিনের বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেন। রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সপ্তমবারের মতো সংসদে যান। ৮১ বছর বয়সী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
অপরদিকে, ত্রয়োদশ সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচিত ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হোসেন নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পান। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তিনি ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন। কামাল ৭২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান।
কায়সার কামাল ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার চত্রাংপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা প্রয়াত মোস্তফা কামাল মনছুর এবং মাতা বেগম যোবায়দা কামাল। পারিবারিকভাবেই জনপ্রতিনিধিত্ব ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একটি ধারার মধ্যেই তার বেড়ে ওঠা।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে ব্যারিস্টার অ্যাট ল ডিগ্রি লাভ করেন। আইন পেশায় সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।

এসকাগজ/আরডি