Dhaka 2:13 pm, Monday, 20 April 2026
সর্বশেষ
তিন অঞ্চলে ৮০ কিমি ঝড়ের শঙ্কা, ২ নম্বর সতর্কসংকেত হাম-রুবেলা টিকা পাবে পৌনে দুই কোটি শিশু, কর্মসূচি শুরু আজ এক দিনেই দেখেছে ৪০ লাখ দর্শকের ভালোবাসা, কী আছে এই নাটকে? “কাকে কুলাঙ্গার বললেন?”—রাশেদ প্রধানকে প্রশ্ন অতিরিক্ত আইজিপির এইচএসসি পরীক্ষা ২ জুলাই: শিক্ষামন্ত্রী পাকিস্তানে সোমবার হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিতীয় দফার আলোচনা হরমুজ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে মাঠে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নয় : ইরান লেবানন-ইসরায়েলের মাঝে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের রিহ্যাব নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতের অভিযোগ, আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় ক্ষোভ রিহ্যাব নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলনে নানা অভিযোগ করেন বক্তারা

বিদ্যুৎ সংকটে সেন্টমার্টিন, বিকেলের পর অন্ধকারে ডুবে থাকে দ্বীপ

নাঈম ইকবাল স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : 10:00:36 am, Thursday, 16 April 2026
  • / 45 Time View


কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিদ্যুৎ সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। বিকেলের পর থেকেই বিদ্যুৎ চলে যায়, যা পরদিন সকাল পর্যন্ত অনেক সময় থাকে না। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেন্টমার্টিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান Blue Marine Energy Limited। সোলার ও ডিজেল জেনারেটরভিত্তিক এই অফ-গ্রিড ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

দ্বীপবাসীর অভিযোগ, বিকেলের পর থেকেই অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায় এবং অনেক সময় পরদিন সকাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। এতে রাতে অন্ধকারে থাকতে হয় পরিবারগুলোকে, ব্যাহত হয় শিশুদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জরুরি কার্যক্রম।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কোম্পানিটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় পুরো দ্বীপে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া অবকাঠামোগত দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিও এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“বিকেলের পর থেকেই লোডশেডিং শুরু হয়। রাতে ঘর অন্ধকার থাকে, ফ্যান চলে না, বাচ্চারা পড়তে পারে না। আমরা যেন আধুনিক যুগে থেকেও অন্ধকারে বন্দি।”

দ্বীপের বিভিন্ন পেশাজীবীরাও একই অভিযোগ করেছেন। পর্যটন নির্ভর ব্যবসা, হোটেল-মোটেল ও ছোট দোকানগুলো বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

ছাত্রনেতা শাহজাহান বলেন,
“সেন্টমার্টিনে বিদ্যুৎ এখন বিলাসিতার মতো হয়ে গেছে। সরকার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানি একে অপরের ওপর দায় চাপালেও সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভুগছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে দ্বীপের জীবনযাত্রা আরও বিপর্যস্ত হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন আলম রাব্বি বলেন,
“আমরা বারবার অভিযোগ করেও কোনো স্থায়ী সমাধান পাই না। বিদ্যুৎ কখন আসবে, কখন যাবে—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দ্বীপবাসী এখন পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছে।”

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান, সীমিত উৎপাদন সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অভাবই এই সংকটের মূল কারণ। তারা বলছেন, জাতীয় গ্রিড সংযোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং আধুনিক ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থা ছাড়া এই সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

বর্তমানে সেন্টমার্টিনের সাধারণ মানুষ প্রতিদিনের বিদ্যুৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিকেলের পর অন্ধকারে ডুবে যাওয়া দ্বীপে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত থমকে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এসকাগজ/আরডি

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিদ্যুৎ সংকটে সেন্টমার্টিন, বিকেলের পর অন্ধকারে ডুবে থাকে দ্বীপ

Update Time : 10:00:36 am, Thursday, 16 April 2026


কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিদ্যুৎ সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। বিকেলের পর থেকেই বিদ্যুৎ চলে যায়, যা পরদিন সকাল পর্যন্ত অনেক সময় থাকে না। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেন্টমার্টিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান Blue Marine Energy Limited। সোলার ও ডিজেল জেনারেটরভিত্তিক এই অফ-গ্রিড ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

দ্বীপবাসীর অভিযোগ, বিকেলের পর থেকেই অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায় এবং অনেক সময় পরদিন সকাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। এতে রাতে অন্ধকারে থাকতে হয় পরিবারগুলোকে, ব্যাহত হয় শিশুদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জরুরি কার্যক্রম।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কোম্পানিটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় পুরো দ্বীপে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া অবকাঠামোগত দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিও এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“বিকেলের পর থেকেই লোডশেডিং শুরু হয়। রাতে ঘর অন্ধকার থাকে, ফ্যান চলে না, বাচ্চারা পড়তে পারে না। আমরা যেন আধুনিক যুগে থেকেও অন্ধকারে বন্দি।”

দ্বীপের বিভিন্ন পেশাজীবীরাও একই অভিযোগ করেছেন। পর্যটন নির্ভর ব্যবসা, হোটেল-মোটেল ও ছোট দোকানগুলো বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

ছাত্রনেতা শাহজাহান বলেন,
“সেন্টমার্টিনে বিদ্যুৎ এখন বিলাসিতার মতো হয়ে গেছে। সরকার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানি একে অপরের ওপর দায় চাপালেও সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভুগছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে দ্বীপের জীবনযাত্রা আরও বিপর্যস্ত হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন আলম রাব্বি বলেন,
“আমরা বারবার অভিযোগ করেও কোনো স্থায়ী সমাধান পাই না। বিদ্যুৎ কখন আসবে, কখন যাবে—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দ্বীপবাসী এখন পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছে।”

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান, সীমিত উৎপাদন সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অভাবই এই সংকটের মূল কারণ। তারা বলছেন, জাতীয় গ্রিড সংযোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং আধুনিক ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থা ছাড়া এই সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

বর্তমানে সেন্টমার্টিনের সাধারণ মানুষ প্রতিদিনের বিদ্যুৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিকেলের পর অন্ধকারে ডুবে যাওয়া দ্বীপে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত থমকে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এসকাগজ/আরডি