Dhaka 4:48 pm, Thursday, 16 April 2026
সর্বশেষ

পাকিস্তানকে উড়িয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
  • Update Time : 01:11:07 pm, Wednesday, 11 March 2026
  • / 78 Time View

পাকিস্তানকে অল্প রানে আটকে রাখার পর জয়টা সহজই মনে হচ্ছিলো। ব্যাট হাতেও সেটা করে দেখালেন বাংলাদেশি ব্যাটাররা। তাতে ১১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেট ও ২০৯ বল হাতে রেখেই ১৫.১ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে গেল মেহেদি হাসান মিরাজের দল। ৩২ বলে ফিফটা করা তানজিদ অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ৬৭ রানে। ২৭ রান করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ পরের ম্যাচ একই মাঠে, ১৩ মার্চ।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩০.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান করে পাকিস্তান। যা বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন রান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেছেন ফাহিম আশরাফ। বাংলাদেশের হয়ে ২৪ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। জবাবে ১৫.১ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
রান তাড়ায় সামনে থেকে পথ দেখিয়েছেন ওপেনার তানজিদ হাসান। আক্রমণাত্মক ব‍্যাটিংয়ে ৪২ বলে পাঁচ ছক্কা ও সাত চারে ৬৭ রানের ইনিংসে ফিরেছেন দলকে জিতিয়ে। তাকে সঙ্গ দিয়েছেন শান্ত। ১০ ওভার একসঙ্গে থেকে দ্বিতীয় উইকেটে ৮২ রানের জুটি হয়েছে তানজিদ-শান্তর। ৫ বাউন্ডারিতে ৩৩ বলে ২৭ রান করে শান্ত আউট হয়ে গেলেও পাঁচ ছক্কা আর সাত বাউন্ডারিতে তানজিদ অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ৬৭ রান করে। শেষদিকে লিটনের সঙ্গে জুটি বেধে জিতে মাঠ ছাড়েন তানজিদ।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরুতে উইকেট না হারালেও রান তুলতে হিমশিম খেতে থাকে পাকিস্তান। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। দশম ওভারেই প্রথম সাফল্য এনে দেন তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরের বল উঁচুতে তুলে দেন ওপেনার ফারহান। সহজ ক্যাচ নেন আফিফ হোসেন। আউট হওয়ার আগে ৩৮ বলে চারটি চারে ২৭ রান করেন তিনি।

নিজের পরের ওভারেই আবার আঘাত হানেন নাহিদ। বড় শট খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় বল তুলে দেন শামিল হোসেন। উইকেটের পেছনে দারুণ ক্যাচ নেন লিটন দাস। ৭ বলে ৪ রান করেই ফিরতে হয় তাকে। নাহিদের ঝড় এখানেই থামেনি। টানা তৃতীয় ওভারে ফেরান ওপেনার মাজ সাদকাতকে। অপ্রস্তুত শটে বল তুলে দেন তিনি, ক্যাচ নেন সাইফ হাসান। ২৮ বলে ১৮ রান করেন সাদকাত।

এরপর কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। দৃষ্টিনন্দন শটে একটি চারও হাঁকান তিনি। কিন্তু পরের বলেই তাকে ফিরিয়ে দেন নাহিদ। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ নেন লিটন দাস। পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আলি আগাকে ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন নাহিদ। দুর্দান্ত ক্যাচ নেন তানজিদ হাসান। ৮ বলে ৫ রান করেন সালমান।
নাহিদের পর আক্রমণে এসে সাফল্য পান অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথমে ফেরান আব্দুল সামাদকে। এরপর পাকিস্তানের শেষ ভরসা হুসাইন তালাতকে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন তিনি। প্রথমে আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সিদ্ধান্ত বদলে দেন মিরাজ। ১৩ বলে ৪ রান করেন তালাত। পরে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে ফেরেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। চার বলে ৪ রান করেন তিনি।

এর আগে রানের খাতা খোলার আগেই মোহাম্মদ ওয়াসিমকে আউট করেন তাসকিন আহমেদ। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিতে গিয়ে ক্যাচ দেন নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে। শেষদিকে ফাহিম আশরাফ ও আবরার আহমেদের জুটিতে কোনো মতে একশ পার করে পাকিস্তান। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি ফাহিমও। মোস্তাফিজুর রহমানের বলে তাসকিন আহমেদের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। ৪৭ বলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন ফাহিম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান:
৩০.৪ ওভারে ১১৪/১০ (ফাহিম ৩৭, ফারহান ২৭; নাহিদ ৫/২৪, মিরাজ ৩/২৯)।
বাংলাদেশ:
১৫.১ ওভারে ১১৫/২ (তানজিদ ৬৭*, নাজমুল ২৭; আফ্রিদি ১/৩৫)।
ফল:
বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: নাহিদ রানা।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পাকিস্তানকে উড়িয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ

Update Time : 01:11:07 pm, Wednesday, 11 March 2026

পাকিস্তানকে অল্প রানে আটকে রাখার পর জয়টা সহজই মনে হচ্ছিলো। ব্যাট হাতেও সেটা করে দেখালেন বাংলাদেশি ব্যাটাররা। তাতে ১১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেট ও ২০৯ বল হাতে রেখেই ১৫.১ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে গেল মেহেদি হাসান মিরাজের দল। ৩২ বলে ফিফটা করা তানজিদ অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ৬৭ রানে। ২৭ রান করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ পরের ম্যাচ একই মাঠে, ১৩ মার্চ।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩০.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান করে পাকিস্তান। যা বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন রান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেছেন ফাহিম আশরাফ। বাংলাদেশের হয়ে ২৪ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। জবাবে ১৫.১ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
রান তাড়ায় সামনে থেকে পথ দেখিয়েছেন ওপেনার তানজিদ হাসান। আক্রমণাত্মক ব‍্যাটিংয়ে ৪২ বলে পাঁচ ছক্কা ও সাত চারে ৬৭ রানের ইনিংসে ফিরেছেন দলকে জিতিয়ে। তাকে সঙ্গ দিয়েছেন শান্ত। ১০ ওভার একসঙ্গে থেকে দ্বিতীয় উইকেটে ৮২ রানের জুটি হয়েছে তানজিদ-শান্তর। ৫ বাউন্ডারিতে ৩৩ বলে ২৭ রান করে শান্ত আউট হয়ে গেলেও পাঁচ ছক্কা আর সাত বাউন্ডারিতে তানজিদ অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ৬৭ রান করে। শেষদিকে লিটনের সঙ্গে জুটি বেধে জিতে মাঠ ছাড়েন তানজিদ।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরুতে উইকেট না হারালেও রান তুলতে হিমশিম খেতে থাকে পাকিস্তান। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। দশম ওভারেই প্রথম সাফল্য এনে দেন তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরের বল উঁচুতে তুলে দেন ওপেনার ফারহান। সহজ ক্যাচ নেন আফিফ হোসেন। আউট হওয়ার আগে ৩৮ বলে চারটি চারে ২৭ রান করেন তিনি।

নিজের পরের ওভারেই আবার আঘাত হানেন নাহিদ। বড় শট খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় বল তুলে দেন শামিল হোসেন। উইকেটের পেছনে দারুণ ক্যাচ নেন লিটন দাস। ৭ বলে ৪ রান করেই ফিরতে হয় তাকে। নাহিদের ঝড় এখানেই থামেনি। টানা তৃতীয় ওভারে ফেরান ওপেনার মাজ সাদকাতকে। অপ্রস্তুত শটে বল তুলে দেন তিনি, ক্যাচ নেন সাইফ হাসান। ২৮ বলে ১৮ রান করেন সাদকাত।

এরপর কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। দৃষ্টিনন্দন শটে একটি চারও হাঁকান তিনি। কিন্তু পরের বলেই তাকে ফিরিয়ে দেন নাহিদ। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ নেন লিটন দাস। পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আলি আগাকে ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন নাহিদ। দুর্দান্ত ক্যাচ নেন তানজিদ হাসান। ৮ বলে ৫ রান করেন সালমান।
নাহিদের পর আক্রমণে এসে সাফল্য পান অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথমে ফেরান আব্দুল সামাদকে। এরপর পাকিস্তানের শেষ ভরসা হুসাইন তালাতকে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন তিনি। প্রথমে আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সিদ্ধান্ত বদলে দেন মিরাজ। ১৩ বলে ৪ রান করেন তালাত। পরে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে ফেরেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। চার বলে ৪ রান করেন তিনি।

এর আগে রানের খাতা খোলার আগেই মোহাম্মদ ওয়াসিমকে আউট করেন তাসকিন আহমেদ। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিতে গিয়ে ক্যাচ দেন নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে। শেষদিকে ফাহিম আশরাফ ও আবরার আহমেদের জুটিতে কোনো মতে একশ পার করে পাকিস্তান। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি ফাহিমও। মোস্তাফিজুর রহমানের বলে তাসকিন আহমেদের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। ৪৭ বলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন ফাহিম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান:
৩০.৪ ওভারে ১১৪/১০ (ফাহিম ৩৭, ফারহান ২৭; নাহিদ ৫/২৪, মিরাজ ৩/২৯)।
বাংলাদেশ:
১৫.১ ওভারে ১১৫/২ (তানজিদ ৬৭*, নাজমুল ২৭; আফ্রিদি ১/৩৫)।
ফল:
বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: নাহিদ রানা।