Dhaka 11:51 pm, Thursday, 9 July 2026
সর্বশেষ
ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সিরিয়াসলি চিন্তা করুন: প্রধানমন্ত্রী বিষ্ণুদিয়া টেকনিক্যাল স্কুলে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ উদযাপন এবার তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করতে চান প্রধানমন্ত্রী মাঠের বাইরে সবচেয়ে বড় ম্যাচ: ক্ষমতা বনাম ফুটবল বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয় ঢাকা আন্তর্জাতিক ফুটবলে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি শিক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধি, কিন্তু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে আগের মতো ব্যক্তি আক্রোশের শিকার এনবিআরের বহু কর্মকর্তা কর্মচারি, দুর্নীতির অভিযোগ বটবাহিনী ঠেকাতে এখনই উদ্যোগ জরুরি

সরকারি তেল কোম্পানির ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 09:27:10 am, Tuesday, 28 October 2025
  • / 317 Time View

সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (এসএওসিএল) ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গার গুপ্তখাল এলাকায় অবস্থিত এসএওসিএল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম দুদক কার্যালয়ে মামলাটি রেকর্ড করা হয়। সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেন। দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের তিন কর্মকর্তা ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. মোশারফ হোসেন, ব্যবস্থাপক (হিসাব ও নিরীক্ষা) বেলায়েত হোসেন এবং উপব্যবস্থাপক (হিসাব ও নিরীক্ষা) আতিকুর রহমানকে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে কোম্পানির বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। কোম্পানির তৎকালীন পরিচালক মঈন উদ্দিন আহমেদের মালিকানাধীন আরেক প্রতিষ্ঠান এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (এওসিএল) কাছে এসএওসিএলের পাওনা ছিল ১১৯ কোটি ২৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৪৯ টাকা।

কিন্তু সেই পাওনা অর্থ ব্যাংকে জমা না করে হিসাব বইয়ে জমা দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট চেকগুলো ব্যাংকে জমা না দিয়েই আদায় দেখানো হয়, আবার পরে ‘চেক প্রত্যাখ্যাত’ দেখিয়ে ফেরত দেওয়া হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির অর্থ অনাদায়ী থেকে যায়।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, পরিচালক মঈন উদ্দিন আহমেদ কোম্পানির অংশীদার হয়েও নিজের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা করেছেন, যা কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ১০৫ অনুযায়ী অবৈধ। তবে তিনি চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি।

এজাহারে আরও বলা হয়, আসামি তিন কর্মকর্তা প্রতারণামূলকভাবে প্রতিষ্ঠানের বিল ও ভাউচার প্রস্তুত করে স্বাক্ষর করেছেন এবং কোম্পানির প্রকৃত আয় গোপন রেখে ১১৯ কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাত করেছেন। পরে এই অর্থ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করে মানিলন্ডারিং করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সরকারি তেল কোম্পানির ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, দুদকের মামলা

Update Time : 09:27:10 am, Tuesday, 28 October 2025

সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (এসএওসিএল) ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গার গুপ্তখাল এলাকায় অবস্থিত এসএওসিএল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম দুদক কার্যালয়ে মামলাটি রেকর্ড করা হয়। সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেন। দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের তিন কর্মকর্তা ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. মোশারফ হোসেন, ব্যবস্থাপক (হিসাব ও নিরীক্ষা) বেলায়েত হোসেন এবং উপব্যবস্থাপক (হিসাব ও নিরীক্ষা) আতিকুর রহমানকে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে কোম্পানির বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। কোম্পানির তৎকালীন পরিচালক মঈন উদ্দিন আহমেদের মালিকানাধীন আরেক প্রতিষ্ঠান এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (এওসিএল) কাছে এসএওসিএলের পাওনা ছিল ১১৯ কোটি ২৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৪৯ টাকা।

কিন্তু সেই পাওনা অর্থ ব্যাংকে জমা না করে হিসাব বইয়ে জমা দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট চেকগুলো ব্যাংকে জমা না দিয়েই আদায় দেখানো হয়, আবার পরে ‘চেক প্রত্যাখ্যাত’ দেখিয়ে ফেরত দেওয়া হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির অর্থ অনাদায়ী থেকে যায়।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, পরিচালক মঈন উদ্দিন আহমেদ কোম্পানির অংশীদার হয়েও নিজের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা করেছেন, যা কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ১০৫ অনুযায়ী অবৈধ। তবে তিনি চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি।

এজাহারে আরও বলা হয়, আসামি তিন কর্মকর্তা প্রতারণামূলকভাবে প্রতিষ্ঠানের বিল ও ভাউচার প্রস্তুত করে স্বাক্ষর করেছেন এবং কোম্পানির প্রকৃত আয় গোপন রেখে ১১৯ কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাত করেছেন। পরে এই অর্থ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করে মানিলন্ডারিং করেন।