Dhaka 11:19 am, Friday, 16 October 2026
সর্বশেষ
সিআইসিএ সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালে বাংলাদেশের ওয়াকআউট পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দুর্গাপূজার আগে ৩৪ স্থানে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ বিদেশি কম্পানিকে কনটেইনার টার্মিনাল লিজের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী : বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ১৮ তারিখ পর্যন্ত দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত পরিবারসহ সাবেক এসবি প্রধান মনিরুলের ৮৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ সরকারি আবাসন বরাদ্দে স্বচ্ছতা ও গতি আনতে চালু হলো অনলাইন সেবা মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ হবে যে প্রক্রিয়ায় বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় যাবেন ১০ হাজার কর্মী, নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু মাদকাসক্তির ভয়ানক বলি নিহত ১, আশঙ্কা জনক ২

সিসা দূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর : পরিবেশমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 03:07:07 pm, Wednesday, 14 October 2026
  • / 13 Time View

সিসাদূষণ প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, সিসা দূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।

শিশুদের সুস্থ বিকাশ, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিসাদূষণ প্রতিরোধে কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীতে আন্তর্জাতিক সিসা বিষক্রিয়া প্রতিরোধ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত ‘সিসামুক্ত বাংলাদেশের পথে অগ্রযাত্রা : সমাধানের সম্প্রসারণ ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় পিওর আর্থ বাংলাদেশ এ সেমিনারের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা ‘সিসামুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাতীয় কৌশল ও বহুবর্ষমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা ২০২৬–২০৩৫’ অনুমোদন করেছে।

এ কর্মপরিকল্পনায় সিসাদূষণের উৎস শনাক্তকরণ, পরিবেশগত নজরদারি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আইন ও বিধিবিধান শক্তিশালীকরণ, শিল্পখাতের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ, জনসচেতনতা সৃষ্টি, গবেষণা এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, জাতীয় কৌশল অনুমোদনের পর এখন এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দূষিত এলাকা পুনর্বাসন, নিরাপদ শিল্পব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ জোরদার করা প্রয়োজন। জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগী, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বেসরকারি খাতকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান তিনি।

পরিবেশমন্ত্রী আরো বলেন, সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারিশিল্পে পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সম্প্রসারিত উৎপাদক দায়বদ্ধতা বা এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি (ইপিআর) কাঠামো প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাটারি উৎপাদক, আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নির্ধারণ, ব্যবহৃত ব্যাটারি নিরাপদে সংগ্রহ এবং পরিবেশসম্মত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রচলিত পরিবেশ আইন ও বিধিবিধান প্রতিপালন এবং শ্রমিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তরুণদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সিসাদূষণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী সমাধান বাস্তবায়নে তরুণ সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তরুণদের সৃজনশীল উদ্যোগকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি সিসামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে তরুণদের আরো সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। 

সেমিনারে সিসাদূষণ প্রতিরোধে ‘সিসামুক্ত বাংলাদেশের জন্য জাতীয় যুব জোট’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। এ ছাড়া সিসাদূষণ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর সমাধান উদ্ভাবনে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিসাদূষণ শনাক্তকরণ সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুটি বহনযোগ্য এক্স-রে ফ্লুরোসেন্স (এক্সআরএফ) বিশ্লেষণযন্ত্র হস্তান্তর করা হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সিসা দূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর : পরিবেশমন্ত্রী

Update Time : 03:07:07 pm, Wednesday, 14 October 2026

সিসাদূষণ প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, সিসা দূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।

শিশুদের সুস্থ বিকাশ, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিসাদূষণ প্রতিরোধে কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীতে আন্তর্জাতিক সিসা বিষক্রিয়া প্রতিরোধ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত ‘সিসামুক্ত বাংলাদেশের পথে অগ্রযাত্রা : সমাধানের সম্প্রসারণ ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় পিওর আর্থ বাংলাদেশ এ সেমিনারের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা ‘সিসামুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাতীয় কৌশল ও বহুবর্ষমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা ২০২৬–২০৩৫’ অনুমোদন করেছে।

এ কর্মপরিকল্পনায় সিসাদূষণের উৎস শনাক্তকরণ, পরিবেশগত নজরদারি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আইন ও বিধিবিধান শক্তিশালীকরণ, শিল্পখাতের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ, জনসচেতনতা সৃষ্টি, গবেষণা এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, জাতীয় কৌশল অনুমোদনের পর এখন এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দূষিত এলাকা পুনর্বাসন, নিরাপদ শিল্পব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ জোরদার করা প্রয়োজন। জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগী, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বেসরকারি খাতকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান তিনি।

পরিবেশমন্ত্রী আরো বলেন, সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারিশিল্পে পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সম্প্রসারিত উৎপাদক দায়বদ্ধতা বা এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি (ইপিআর) কাঠামো প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাটারি উৎপাদক, আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নির্ধারণ, ব্যবহৃত ব্যাটারি নিরাপদে সংগ্রহ এবং পরিবেশসম্মত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রচলিত পরিবেশ আইন ও বিধিবিধান প্রতিপালন এবং শ্রমিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তরুণদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সিসাদূষণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী সমাধান বাস্তবায়নে তরুণ সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তরুণদের সৃজনশীল উদ্যোগকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি সিসামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে তরুণদের আরো সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। 

সেমিনারে সিসাদূষণ প্রতিরোধে ‘সিসামুক্ত বাংলাদেশের জন্য জাতীয় যুব জোট’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। এ ছাড়া সিসাদূষণ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর সমাধান উদ্ভাবনে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিসাদূষণ শনাক্তকরণ সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুটি বহনযোগ্য এক্স-রে ফ্লুরোসেন্স (এক্সআরএফ) বিশ্লেষণযন্ত্র হস্তান্তর করা হয়।