দুটি স্পিড বোর্ডে আগুনসন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীতে দুই পক্ষের গোলাগুলি
- Update Time : 04:06:57 pm, Sunday, 11 October 2026
- / 62 Time View
দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিত কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুটি স্পিডবোটে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর সেগুলো মাঝনদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন বলে নিশ্চিত করেছে পদ্মা পাড়ের স্থানীয় বাসিন্দারা।

(১১ অক্টোবর রোববার) দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের আরকান্দি, লিসেনদিয়া ও মাধবপুর সীমান্তসংলগ্ন পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় চারটি স্পিডবোট নিয়ে চলাচল করছিল একটি চক্র। একপর্যায়ে নদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে এক পক্ষ অপর পক্ষের দুটি স্পিডবোটকে ধাওয়া করে। ধাওয়া খেয়ে বোট দুটির আরোহীরা নদীর তীরে স্পিডবোট দুটি রেখে পালিয়ে যান।
পরে ধাওয়া করা পক্ষের লোকজন স্পিডবোট দুটিতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ সময় নদীর তীরবর্তী পানবরজে কাজ করা কৃষকেরা কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনতে পান। কিছুক্ষণ পর তাঁরা নদীতে আগুন ও কালো ধোঁয়া দেখতে পান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয়রা আগুন নেভানোর পর অন্য একটি স্পিডবোট ঘটনাস্থলে আসে। পরে ওই বোটের সাহায্যে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত স্পিডবোট দুটি টেনে মাঝনদীতে নিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ। এ সময় তিনি বলেন, আমরা ঘটনাটি শুনেছি। তবে ঘটনাস্থলটি নৌ-পুলিশের আওতায় হওয়ায় নৌ-পুলিশ প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা নেবে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য : নাটোরের লালপুর, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও ভেড়ামারা, রাজশাহীর বাঘা ও পাবনার ঈশ্বরদীর সীমা নাই অবস্থিত পদ্মার চরে দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র অবস্থায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক অফিসার ফোর্স নিয়ে কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করে ওইসব সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর কিছু সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও বাকিরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মূলত দুর্গম চরাঞ্চল ও পদ্মা নদী বেষ্টিত এলাকা হওয়ার কারণে এইসব সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন রকম বাধার সম্মুখীন হতে হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশের একাধিক সূত্র।
এসকাগজ/আরডি














