Dhaka 1:53 am, Thursday, 8 October 2026
সর্বশেষ
বিশ্ব বসতি দিবসের বসতি মেলায় শরীফ মেটালের সেরা স্টল পুরস্কার অর্জন সৃজনশীল ডিজাইনের স্বীকৃতি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রেডক্রসকে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান রোহিঙ্গারা অধিকার চায়, দান নয় : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পরকীয়া অভিযোগে ৫০ হাজার টাকায় করা হয়েছিল খুনের চুক্তি : পিবিআই ঢাবির বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সংস্কারকাজের উদ্বোধন করলেন উপাচার্য সব বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল চেয়ে রিট সন্ত্রাসী-দুষ্কৃতকারীদের রাজনৈতিক আশ্রয় নয় : হুইপ বকুল বাংলাদেশ-জার্মানি সম্পর্ক আরো গভীর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দুই দেশ জেট ফুয়েলের নতুন দাম ঘোষণা, রাত ১২টা থেকেই কার্যকর তরুণদের মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হত্যা মামলার জেরে জাপানে মার্কিন সেনাদের চলাফেরায় বিধি-নিষেধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 06:35:01 am, Wednesday, 7 October 2026
  • / 5 Time View

জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে থাকা মার্কিন সেনাদের এক মাসের জন্য কারফিউ দেওয়া হয়েছে। তাদের অ্যালকোহল পানও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্থানীয় এক নারীকে হত্যা ও লুট করার অভিযোগ ওঠার পর শৃঙ্খলা প্রশিক্ষণ চলাকালে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

রয়টার্স জানায়, শনিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশটির রাজধানী নাহার একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী আনা ইয়াগিকে হত্যার সন্দেহ করা হচ্ছে ২০ বছর বয়সী মার্কিন মেরিন সেনা ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ডের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তিনি ইয়াগির মানিব্যাগ ও ব্যাকপ্যাকও নিয়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যালার্ড এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তাইওয়ান ও চীনের কাছাকাছি এই দ্বীপপুঞ্জে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়ে বহু বছর ধরেই অস্বস্তি রয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাটি সেই উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এসব ঘটনা পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

মঙ্গলবার এসব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে এক বিবৃতিতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে প্রতিটি যোগাযোগ আমাদের দলের জন্য প্রয়োজনীয় আস্থা তৈরি করে অথবা সেই আস্থা নষ্ট করে।

এই আস্থা নষ্ট হলে তা আমাদের জোটের শক্তি এবং এই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে।’ 

ওয়াটসন আরো বলেন, প্রশিক্ষণের সময় সেনাদের আচরণ ও শৃঙ্খলার মান সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ সময় ওকিনাওয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সব কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকবে।

শনিবারের হত্যাকাণ্ডকে ‘অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তিনি বলেন, এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। 

‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’ পত্রিকাকে পুলিশ জানিয়েছে, ব্যালার্ড তার গলায় চাপ দেওয়ার পর ইয়াগির শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। শনিবার ভোরে হোটেলের কর্মীরা ইয়াগিকে তার কক্ষে অচেতন অবস্থায় পান। তিনি নির্ধারিত সময়ে হোটেল ছাড়েননি। এর আগে সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে ইয়াগির সঙ্গে হোটেলে ঢুকতে দেখা যায়। ওই ব্যক্তির খোঁজে প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য তল্লাশি চালান বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

নাহা ও টোকিওতে বিক্ষোভের জন্ম দেওয়া এই অপরাধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বুধবার তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন ওকিনাওয়ার গভর্নর গেন্তা কোজা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন বাহিনীর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিদেশি সেনাঘাঁটি রয়েছে জাপানে। জাপানে থাকা প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন মেরিন সেনার বেশির ভাগই ওকিনাওয়ায় অবস্থান করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ওকিনাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে ওকিনাওয়ার বাসিন্দাদের মধ্যে বারবার ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এর কারণের মধ্যে রয়েছে শব্দদূষণ, সামরিক বিমান দুর্ঘটনা এবং মার্কিন সেনাদের নানা কর্মকাণ্ড। ১৯৯৫ সালে ১২ বছর বয়সী এক ওকিনাওয়ান মেয়েকে তিন মার্কিন সেনা ধর্ষণ করেন। ওই ঘটনার পর ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।

শনিবারের হত্যাকাণ্ড তাকাইচির জন্য আরেকটি সমস্যার কারণ হতে পারে। তিনি ব্যস্ত ফুতেনমা বিমানঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন মেরিন সেনাকে আরো দূরের হেনোকো ঘাঁটিতে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে বিরোধীরা চাইছেন, মার্কিন সেনাদের ওকিনাওয়া প্রদেশ থেকেই সরিয়ে নেওয়া হোক।

ওকিনাওয়ার সবচেয়ে কাছের অংশ তাইওয়ান থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে। সম্ভাব্য চীনা সামরিক আগ্রাসন ঠেকানোর ক্ষেত্রে টোকিও ও ওয়াশিংটন ওকিনাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে দেখে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হত্যা মামলার জেরে জাপানে মার্কিন সেনাদের চলাফেরায় বিধি-নিষেধ

Update Time : 06:35:01 am, Wednesday, 7 October 2026

জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে থাকা মার্কিন সেনাদের এক মাসের জন্য কারফিউ দেওয়া হয়েছে। তাদের অ্যালকোহল পানও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্থানীয় এক নারীকে হত্যা ও লুট করার অভিযোগ ওঠার পর শৃঙ্খলা প্রশিক্ষণ চলাকালে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

রয়টার্স জানায়, শনিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশটির রাজধানী নাহার একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী আনা ইয়াগিকে হত্যার সন্দেহ করা হচ্ছে ২০ বছর বয়সী মার্কিন মেরিন সেনা ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ডের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তিনি ইয়াগির মানিব্যাগ ও ব্যাকপ্যাকও নিয়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যালার্ড এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তাইওয়ান ও চীনের কাছাকাছি এই দ্বীপপুঞ্জে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়ে বহু বছর ধরেই অস্বস্তি রয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাটি সেই উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এসব ঘটনা পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

মঙ্গলবার এসব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে এক বিবৃতিতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে প্রতিটি যোগাযোগ আমাদের দলের জন্য প্রয়োজনীয় আস্থা তৈরি করে অথবা সেই আস্থা নষ্ট করে।

এই আস্থা নষ্ট হলে তা আমাদের জোটের শক্তি এবং এই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে।’ 

ওয়াটসন আরো বলেন, প্রশিক্ষণের সময় সেনাদের আচরণ ও শৃঙ্খলার মান সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ সময় ওকিনাওয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সব কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকবে।

শনিবারের হত্যাকাণ্ডকে ‘অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তিনি বলেন, এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। 

‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’ পত্রিকাকে পুলিশ জানিয়েছে, ব্যালার্ড তার গলায় চাপ দেওয়ার পর ইয়াগির শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। শনিবার ভোরে হোটেলের কর্মীরা ইয়াগিকে তার কক্ষে অচেতন অবস্থায় পান। তিনি নির্ধারিত সময়ে হোটেল ছাড়েননি। এর আগে সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে ইয়াগির সঙ্গে হোটেলে ঢুকতে দেখা যায়। ওই ব্যক্তির খোঁজে প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য তল্লাশি চালান বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

নাহা ও টোকিওতে বিক্ষোভের জন্ম দেওয়া এই অপরাধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বুধবার তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন ওকিনাওয়ার গভর্নর গেন্তা কোজা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন বাহিনীর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিদেশি সেনাঘাঁটি রয়েছে জাপানে। জাপানে থাকা প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন মেরিন সেনার বেশির ভাগই ওকিনাওয়ায় অবস্থান করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ওকিনাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে ওকিনাওয়ার বাসিন্দাদের মধ্যে বারবার ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এর কারণের মধ্যে রয়েছে শব্দদূষণ, সামরিক বিমান দুর্ঘটনা এবং মার্কিন সেনাদের নানা কর্মকাণ্ড। ১৯৯৫ সালে ১২ বছর বয়সী এক ওকিনাওয়ান মেয়েকে তিন মার্কিন সেনা ধর্ষণ করেন। ওই ঘটনার পর ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।

শনিবারের হত্যাকাণ্ড তাকাইচির জন্য আরেকটি সমস্যার কারণ হতে পারে। তিনি ব্যস্ত ফুতেনমা বিমানঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন মেরিন সেনাকে আরো দূরের হেনোকো ঘাঁটিতে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে বিরোধীরা চাইছেন, মার্কিন সেনাদের ওকিনাওয়া প্রদেশ থেকেই সরিয়ে নেওয়া হোক।

ওকিনাওয়ার সবচেয়ে কাছের অংশ তাইওয়ান থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে। সম্ভাব্য চীনা সামরিক আগ্রাসন ঠেকানোর ক্ষেত্রে টোকিও ও ওয়াশিংটন ওকিনাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে দেখে।