আদালতের নির্দেশ ছাড়া একাধিক মামলার সাজা একই সঙ্গে চলার সুযোগ নেই
- Update Time : 12:14:00 pm, Friday, 25 September 2026
- / 6 Time View
কোনো ব্যক্তি একাধিক ফৌজদারি মামলায় পৃথকভাবে দণ্ডিত হলে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়া সেই সাজা একই সঙ্গে চলার বা গণনার কোনো আইনি সুযোগ নেই বলে পূর্ণাঙ্গ রায়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছেন, পৃথক মামলায় দণ্ড দেওয়ার সময় বিচারিক আদালতের রায়ে যদি ‘সাজা একই সঙ্গে চলবে’ বলে উল্লেখ না থাকে, তবে একটি মামলার নির্ধারিত সাজা ভোগ শেষ হওয়ার পরই কেবল ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী মামলার সাজা কার্যকর হবে।
চেক ডিজঅনারের পৃথক ছয়টি মামলায় দণ্ডিত এক আসামির সাজা ভোগ ও কারাগারে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের রুল খারিজ করে বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট প্রদত্ত উক্ত রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
মামলার নথি ও প্রকাশিত রায়ের বিবরণী থেকে জানা যায়, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মো. নাসির উদ্দিন দ্য নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট (এনআই অ্যাক্ট), ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় দায়েরকৃত চেক ডিজঅনারের পৃথক ছয়টি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডপ্রাপ্ত হন। ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি গ্রেপ্তার হন এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
নির্ধারিত সাজার মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে দাবি করে তাকে বেআইনিভাবে আটকে রাখার অভিযোগ এনে ২০২২ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন নাসির উদ্দিন।
ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং রিটকারীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। রুল শুনানিতে রিটকারীর আইনজীবী দাবি করেন, বিচারাধীন অবস্থায় রিটকারী কারাগারে ছিলেন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী হাজতবাসের মেয়াদ মূল সাজা থেকে সমন্বয় করলে তার কারাভোগ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, বিবাদীদের আইনজীবী আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৭ ধারা অনুযায়ী একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি অন্য মামলায় পুনরায় দণ্ডিত হলে আদালত যদি সুস্পষ্টভাবে সাজা ‘একসঙ্গে চলবে’ বলে নির্দেশ না দেন, তবে একটির সাজা শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী সাজা শুরু হবে।
আলোচ্য ক্ষেত্রে বিচারিক আদালত সাজা একসঙ্গে চলার কোনো নির্দেশ দেননি।
সুপ্রিম কোর্টের সার্কুলার ও আইন অনুযায়ী, আসামি নির্দিষ্ট যে মামলায় বিচারের সময়ে হেফাজতে ছিলেন, কেবল সেই নির্দিষ্ট মামলার মোট সাজা থেকেই ওই মেয়াদ বাদ যাবে। এক মামলার হাজতবাস অন্য মামলার সাজা কাটানোর কাজে ব্যবহার করা যাবে না। দুই পক্ষের শুনানি ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর রুলটি চূড়ান্তভাবে খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৭ ধারা অনুযায়ী যেহেতু বিচারিক আদালত পৃথক মামলাগুলোতে সাজা একই সঙ্গে চলার নির্দেশ দেননি, তাই প্রতিটি মামলার সাজা একের পর এক (ধারাবাহিকভাবে) কার্যকর হবে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী আসামি যে নির্দিষ্ট মামলায় বিচার চলাকালে কারাভোগ করেছেন, কেবল সেই মামলার মূল সাজা থেকেই ওই সময় বাদ যাবে।
সংশ্লিষ্ট আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা ছাড়া রিট এখতিয়ারের অধীন কোনো ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল করার সুযোগ নেই এবং হাইকোর্ট রিট এখতিয়ার প্রয়োগ করে বিচারিক আদালতের বিচারিক রায়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারেন না।








