Dhaka 9:23 pm, Wednesday, 16 September 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 02:51:27 pm, Wednesday, 16 September 2026
  • / 5 Time View

স্ত্রী হত্যায় অভিযুক্ত হন স্বামী, ১২ বছর পর জীবিত শনাক্ত সেই নারী
১২ বছর আগে যাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল, সেই নারীকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার স্বামী ও পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

এখন নতুন করে শুরু হয়েছে ২০১৪ সালের ভারতের বিহারের সেই হত্যা মামলার তদন্ত। পাশাপাশি উঠেছে আরেক প্রশ্ন-খাল থেকে যে নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল এবং যাকে তার মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল, তিনি আসলে কে? 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে বিহারের রোহতাস জেলায় শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ হন শকুন্তলা দেবী। তার ভাই নিখোঁজের অভিযোগ করে পুলিশকে জানান, যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হয়রানির অভিযোগ করতেন শকুন্তলা।

মামলা দায়েরের দুই দিন পর খান্ডা গ্রামের কাছে একটি খাল থেকে এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শকুন্তলার ভাই এবং স্থানীয় এক কর্মকর্তা ওই মরদেহটিকে শকুন্তলার বলেই শনাক্ত করেন। এরপর মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয় এবং মামলায় হত্যাসংক্রান্ত ধারা যুক্ত করা হয়। 

এ ঘটনার জেরে শকুন্তলার স্বামী অরুণ মেহতা, তার বাবা দিলীপ এবং ভাই গোবিন্দ কুমারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অরুণ কিছু সময় কারাগারে থাকার পর জামিন পান।

তবে আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকে। পরিবারটির দাবি, পরে আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে মামলাটিরও সমাপ্তি ঘটে। 

পরিবারের আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, বিরোধ মেটাতে শকুন্তলার পরিবার ৮ লাখ রুপি দাবি করেছিল। মেহতা পরিবারের অভিযোগ, ওই অর্থ জোগাড় করতে তাদের পৈতৃক জমি বিক্রি করতে হয়। বছরের পর বছর মামলাটি একটি ধারণার ওপর ভিত্তি করেই চলেছে যে শকুন্তলা মারা গেছেন।

অন্য রাজ্যে জীবিত অবস্থায় শনাক্ত, ছিলেন আরেকজনের সঙ্গে

এরপরই আসে একটি অপ্রত্যশিত তথ্য। পরিবারের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস আগে শকুন্তলার শ্বশুর জানতে পারেন, প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে তাকে দেখা গেছে। পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে ওই নারীকে শনাক্ত করার দাবিও করেন।

পরে তারা রোহতাস পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তদন্তে ওই নারীকে ঝাড়খণ্ডের গড়ওয়া জেলার লাভারি গ্রামে খুঁজে পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে তিনি কান্তি দেবী নামে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে বসবাস করছিলেন। পুলিশ তাকে রোহতাসে ফিরিয়ে নিয়ে সাসারামের একটি আদালতে হাজির করে। এখন তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এসব অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন।

খাল থেকে উদ্ধার মরদেহটি কার ছিল?

শকুন্তলাকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়ার পর এক দশকেরও বেশি আগের ঘটনাগুলো নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। এখন তদন্তকারীরা ২০১৪ সালে খাল থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে চান। একই সঙ্গে কীভাবে ওই মরদেহকে শকুন্তলার মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

শকুন্তলার ভাই কেন ওই মরদেহকে তার বোনের বলে শনাক্ত করেছিলেন, তাও তদন্তের আওতায় নেয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর কোনো অনিয়মের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Update Time : 02:51:27 pm, Wednesday, 16 September 2026

স্ত্রী হত্যায় অভিযুক্ত হন স্বামী, ১২ বছর পর জীবিত শনাক্ত সেই নারী
১২ বছর আগে যাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল, সেই নারীকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার স্বামী ও পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

এখন নতুন করে শুরু হয়েছে ২০১৪ সালের ভারতের বিহারের সেই হত্যা মামলার তদন্ত। পাশাপাশি উঠেছে আরেক প্রশ্ন-খাল থেকে যে নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল এবং যাকে তার মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল, তিনি আসলে কে? 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে বিহারের রোহতাস জেলায় শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ হন শকুন্তলা দেবী। তার ভাই নিখোঁজের অভিযোগ করে পুলিশকে জানান, যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হয়রানির অভিযোগ করতেন শকুন্তলা।

মামলা দায়েরের দুই দিন পর খান্ডা গ্রামের কাছে একটি খাল থেকে এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শকুন্তলার ভাই এবং স্থানীয় এক কর্মকর্তা ওই মরদেহটিকে শকুন্তলার বলেই শনাক্ত করেন। এরপর মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয় এবং মামলায় হত্যাসংক্রান্ত ধারা যুক্ত করা হয়। 

এ ঘটনার জেরে শকুন্তলার স্বামী অরুণ মেহতা, তার বাবা দিলীপ এবং ভাই গোবিন্দ কুমারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অরুণ কিছু সময় কারাগারে থাকার পর জামিন পান।

তবে আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকে। পরিবারটির দাবি, পরে আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে মামলাটিরও সমাপ্তি ঘটে। 

পরিবারের আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, বিরোধ মেটাতে শকুন্তলার পরিবার ৮ লাখ রুপি দাবি করেছিল। মেহতা পরিবারের অভিযোগ, ওই অর্থ জোগাড় করতে তাদের পৈতৃক জমি বিক্রি করতে হয়। বছরের পর বছর মামলাটি একটি ধারণার ওপর ভিত্তি করেই চলেছে যে শকুন্তলা মারা গেছেন।

অন্য রাজ্যে জীবিত অবস্থায় শনাক্ত, ছিলেন আরেকজনের সঙ্গে

এরপরই আসে একটি অপ্রত্যশিত তথ্য। পরিবারের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস আগে শকুন্তলার শ্বশুর জানতে পারেন, প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে তাকে দেখা গেছে। পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে ওই নারীকে শনাক্ত করার দাবিও করেন।

পরে তারা রোহতাস পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তদন্তে ওই নারীকে ঝাড়খণ্ডের গড়ওয়া জেলার লাভারি গ্রামে খুঁজে পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে তিনি কান্তি দেবী নামে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে বসবাস করছিলেন। পুলিশ তাকে রোহতাসে ফিরিয়ে নিয়ে সাসারামের একটি আদালতে হাজির করে। এখন তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এসব অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন।

খাল থেকে উদ্ধার মরদেহটি কার ছিল?

শকুন্তলাকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়ার পর এক দশকেরও বেশি আগের ঘটনাগুলো নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। এখন তদন্তকারীরা ২০১৪ সালে খাল থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে চান। একই সঙ্গে কীভাবে ওই মরদেহকে শকুন্তলার মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

শকুন্তলার ভাই কেন ওই মরদেহকে তার বোনের বলে শনাক্ত করেছিলেন, তাও তদন্তের আওতায় নেয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর কোনো অনিয়মের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।