Dhaka 12:34 am, Monday, 14 September 2026
সর্বশেষ
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কি সত্যিই আর ১৪ দিন চলার মতো তেল আছে? ভাত রান্না করার সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে ইঞ্জিনিয়ার নিহত স্থানীয় সরকার নির্বাচন স্বচ্ছ হবে : প্রতিমন্ত্রী পুতুল শেকৃবির ৬ শিক্ষক-কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ২৫ কোটি বরাদ্দ দেওয়া হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে : আইনমন্ত্রী লং মার্চের নামে লং ড্রাইভ করছে জামায়াত : রাশেদ খান স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের অধিকার : ডা. জুবাইদা রহমান ফ্রান্সের ৩ সিনেটরের সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ ইউনিট থেকেই বাংলাদেশে সরবরাহ শুরু

মোদি ও পুতিনের বৈঠকে কী কথা হলো?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 03:35:35 pm, Friday, 11 September 2026
  • / 9 Time View

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দেশের বিশেষ ও কৌশলগত সম্পর্ক আরো জোরদারে সম্মত হয়েছেন। শুক্রবার দুই নেতার বৈঠকে জ্বালানি ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধের কারণে নৌপথ ও বাণিজ্যিক যোগাযোগে বিঘ্নের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো, রাশিয়া, ইরান ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে ভারত।

দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি মোদি ও পুতিনের দ্বিতীয় বৈঠক। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকস নেতাদের বার্ষিক সম্মেলনের এক দিন আগে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানসহ অন্য নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত নিয়ে দুই নেতা মতবিনিময় করেন। এ অঞ্চলে সংঘাত সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলেছে। এ বিষয়ে মোদি বলেন, সংঘাতের সমাধান সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে হওয়া উচিত এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় ভারত সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

জ্বালানি সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতা

রাশিয়ার তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা ভারত।

২০২৬ সালে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ বেড়ে জুলাইয়ে রেকর্ড ৫১ শতাংশে পৌঁছায়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন বাড়ায় রুশ তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা আরো বেড়েছে। 

রয়টার্স বলছে, বড় জনসংখ্যা ও অর্থনীতির জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ প্রয়োজন—এই যুক্তিতে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য কমানোর চাপ প্রতিহত করে আসছে নয়াদিল্লি। ইউক্রেন সংকটও সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলে জানিয়েছে ভারত।

এদিকে শুক্রবার মোদি পুতিনকে ভারতের প্রাচীন তামিল গ্রন্থ ‘তিরুক্কুরালের’ রুশ ভাষার অনুবাদ উপহার দেন।

পরে দুই নেতা ভারত-রাশিয়া শিল্পমেলাও পরিদর্শন করেন। সেখানে রাশিয়ার প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিমান, মহাকাশ, পারমাণবিক বিজ্ঞান, ভারী প্রকৌশল, খনি ও ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। 

২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ভারত ও রাশিয়া।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মোদি ও পুতিনের বৈঠকে কী কথা হলো?

Update Time : 03:35:35 pm, Friday, 11 September 2026

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দেশের বিশেষ ও কৌশলগত সম্পর্ক আরো জোরদারে সম্মত হয়েছেন। শুক্রবার দুই নেতার বৈঠকে জ্বালানি ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধের কারণে নৌপথ ও বাণিজ্যিক যোগাযোগে বিঘ্নের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো, রাশিয়া, ইরান ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে ভারত।

দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি মোদি ও পুতিনের দ্বিতীয় বৈঠক। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকস নেতাদের বার্ষিক সম্মেলনের এক দিন আগে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানসহ অন্য নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত নিয়ে দুই নেতা মতবিনিময় করেন। এ অঞ্চলে সংঘাত সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলেছে। এ বিষয়ে মোদি বলেন, সংঘাতের সমাধান সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে হওয়া উচিত এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় ভারত সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

জ্বালানি সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতা

রাশিয়ার তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা ভারত।

২০২৬ সালে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ বেড়ে জুলাইয়ে রেকর্ড ৫১ শতাংশে পৌঁছায়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন বাড়ায় রুশ তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা আরো বেড়েছে। 

রয়টার্স বলছে, বড় জনসংখ্যা ও অর্থনীতির জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ প্রয়োজন—এই যুক্তিতে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য কমানোর চাপ প্রতিহত করে আসছে নয়াদিল্লি। ইউক্রেন সংকটও সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলে জানিয়েছে ভারত।

এদিকে শুক্রবার মোদি পুতিনকে ভারতের প্রাচীন তামিল গ্রন্থ ‘তিরুক্কুরালের’ রুশ ভাষার অনুবাদ উপহার দেন।

পরে দুই নেতা ভারত-রাশিয়া শিল্পমেলাও পরিদর্শন করেন। সেখানে রাশিয়ার প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিমান, মহাকাশ, পারমাণবিক বিজ্ঞান, ভারী প্রকৌশল, খনি ও ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। 

২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ভারত ও রাশিয়া।