র্যাবের সঙ্গে এসআরবির কোনো সংস্পর্শ নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- Update Time : 02:35:22 pm, Thursday, 10 September 2026
- / 2 Time View
র্যাব বিলুপ্ত করার পর নতুন করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠন করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, র্যাবের সঙ্গে এসআরবির কোনো সংস্পর্শ নেই। র্যাব বিলুপ্ত হওয়ার পর রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় না করে নতুন সংস্থায় সেগুলো হস্তান্তর করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র্যাব বিলুপ্ত করার বিষয়টি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অঙ্গীকারের অংশ। বিভিন্ন পক্ষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেও র্যাব বিলুপ্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এই বিল যতই বিলম্বিত হবে, র্যাব কিন্তু অস্তিত্ব ঠিকই রয়ে যাবে। এখন বিরোধীদলীয় সদস্যরা কি তা-ই চান?’
বিলটি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা ও পরামর্শ হয়নি—বিরোধী দলের এমন বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিলটি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে খসড়া প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর চার-পাঁচ কার্যদিবস আলোচনা হয়েছে।
স্থায়ী কমিটিতেও আলোচনা হয়েছে এবং বাইরের বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। এসব মতামত বিবেচনায় নিয়েই বিলটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে বিরোধী সদস্যদের প্রস্তাব অনুযায়ী সংশোধনী গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা কিভাবে নিষ্পত্তি হবে—এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিলের ধারা ২৪-এ অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তবে এটি মূলত বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য।
তিনি বলেন, কোনো সদস্য অপরাধে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধারা ২১-এও এ বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কর্তব্যরত অবস্থায় মাতাল বা নেশাগ্রস্ত থাকা, দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত থাকা, পেট্রোল ডিউটিতে না যাওয়া, আইনসংগত দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানানো কিংবা কোনো সদস্যকে আঘাত করার মতো বিষয়গুলো শৃঙ্খলাভঙ্গের আওতায় পড়বে। এসব ক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে কোনো সদস্য অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
গ্রেপ্তারের পর আসামিকে কোথায় নেওয়া হবে—বিরোধী দলের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্রেপ্তারের পর আসামিকে অবিলম্বে নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করা হবে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি ও জব্দ করা আলামত অনতিবিলম্বে নিকটস্থ থানা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সোপর্দ বা হস্তান্তর করতে হবে এবং এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দিতে হবে।
র্যাব বিলুপ্তির পর এসআরবি গঠন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র্যাব বিলুপ্ত করার পর নতুন একটি ব্যাটালিয়ন গঠন করা হবে, যার নাম হবে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন। এর সঙ্গে র্যাবের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।
তবে র্যাবের অস্ত্র, সরঞ্জাম, গোয়েন্দা সরঞ্জামসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট বা নিলাম করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সম্পদ নতুন সংস্থা কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি বলেন, ‘এত অস্ত্রশস্ত্র, এত ইকুইপমেন্ট, এত ইন্টেলিজেন্স ইকুইপমেন্ট, এত সম্পদ—এগুলো কোথায় যাবে? কোথাও না কোথাও তো যাবে। রাষ্ট্রের সম্পদ।’
রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় না করার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন বাহিনী গঠনের সময় বিদ্যমান সম্পদ ব্যবহার করা হবে। প্রয়োজনে সেগুলো আরো উন্নত করা হবে। এতে নতুন করে একই ধরনের সরঞ্জাম কিনে অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না।
দেশে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে সাইবার স্পেসের সম্পৃক্ততা বাড়ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় নতুন একটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টে সংশোধনী আনার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি পুলিশের অধীনে ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ নামে একটি নতুন ইউনিট গঠন করা হবে।
র্যাবের আইনগত ভিত্তি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৩ বা ২০০৪ সালে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইনের একটি ধারার অধীনে র্যাব গঠন করা হয়েছিল। তার দাবি, ওই আইনে র্যাবের জন্য পূর্ণাঙ্গ আইনগত কাঠামো ছিল না এবং দীর্ঘদিন অ্যাডহক ভিত্তিতে বাহিনীটি পরিচালিত হয়েছে।
এ কারণে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন থেকে র্যাবকে বাদ দিয়ে তা বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৭৯ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্সটি ইংরেজিতে ছিল এবং এতে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে। সেটি বাংলায় অনুবাদ করে নতুন আইন হিসেবে আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুরোনো অর্ডিন্যান্সটি রহিত করা হবে।
তিনি বলেন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইনে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ র্যাব বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনও সংশোধন করা জরুরি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র্যাব বিলুপ্ত করা ছিল সরকারের প্রতিশ্রুতি। তবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সময়ের চাহিদা বিবেচনায় নতুন একটি বাহিনী গঠনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সেই প্রয়োজন থেকেই এসআরবি গঠন করা হচ্ছে।