Dhaka 10:25 pm, Friday, 6 November 2026
সর্বশেষ
নারীর অগ্রগতিতে শুধু শীর্ষ পদ নয়, সুযোগ তৈরিই বড় বিষয়: জুবাইদা ভাত-খিচুড়িতে সীসা মেশার শঙ্কা, অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র নিয়ে নতুন গবেষণা সরকারি দপ্তরের বাড়তি খরচেই শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে পারছেন না মালিকরা: মাসুদ পায়ের আঁকাবাঁকা মোটা শিরা: অবহেলা থেকে জটিলতা, চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা দেশের শিল্প ও বাণিজ্যে গতি ফেরাতে রাজধানীতে বসল এআই সামিট সৌদি আরবের এক শহরে সতর্কতা জারি তিন দিনের সফর শেষে ঢাকা ছাড়লেন চীনা মন্ত্রী লিউ হাইসিং আলোকস্বল্পতায় এবার সিলেট টেস্টও বন্ধ সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ কোটালীপাড়ার ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারি দপ্তরের বাড়তি খরচেই শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে পারছেন না মালিকরা: মাসুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 01:07:22 pm, Friday, 6 November 2026
  • / 9 Time View

নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের মজুরি ও ব্যবসায়ীদের ব্যয়সংকট নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রশাসনিক জটিলতা ও অতিরিক্ত খরচের বিষয়টি সামনে এনেছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তাঁর দাবি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে অতিরিক্ত ব্যয়, লাইসেন্স ও নবায়ন ফি এবং নানা ধরনের অননুমোদিত খরচ কমানো গেলে শ্রমিকদের বর্তমান ৩০ হাজার টাকার বদলে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দেওয়ার সক্ষমতা মালিকদের থাকত।

বুধবার নারায়ণগঞ্জের চাঁদমারী এলাকার চেম্বার ভবনে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।

সভায় শিল্প ও ব্যবসা খাতের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, “আপনাদের পয়সা না দিলে শ্রমিকদের ৩০ না, ৪০ হাজার টাকা বেতন দিতে পারতাম।”

তিনি বলেন, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দপ্তরে নানা ধরনের ব্যয় বহন করতে হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, জন্মদিন, কাস্টমসের ফি, এনবিআরের বিভিন্ন দাবি এবং বিভিন্ন ধরনের লাইসেন্স ও নবায়নের ক্ষেত্রে কাগজপত্রের কাজ করতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়। বছরের পর বছর এসব খাতে লাখ লাখ থেকে কোটি কোটি টাকা খরচ করতে করতে ব্যবসায়ীরা চাপে পড়ে যাচ্ছেন।

তার ভাষ্য, এ ধরনের বাড়তি ব্যয়ের কারণে অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের কাঙ্ক্ষিত বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রকৃত ব্যয় কমানো গেলে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর সুযোগ আরও তৈরি হতো।

মাসুদুজ্জামান মাসুদ এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কাছে দ্রুত ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর দাবি জানান। তাঁর মতে, বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে ঘুরে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা কমানো, দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং অপ্রয়োজনীয় হয়রানি বন্ধ করা গেলে ব্যবসার খরচ কমবে। তখন শ্রমিকদের যে পরিমাণ বেতন নির্ধারণ করা হোক, মালিকপক্ষ তা পরিশোধ করতে আরও সক্ষম হবে।

সভায় ব্যবসায়ীদের নিয়ে সমাজের বিভিন্ন মহলের সমালোচনার বিষয়েও কথা বলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, গণমাধ্যমে বা বিভিন্ন বক্তব্যে অনেক সময় ব্যবসায়ীদের এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন তারা শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে কেবল মুনাফার চিন্তা করেন। অথচ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে দাপ্তরিক বিভিন্ন ব্যয় ও হয়রানির কারণে ব্যবসায়ীদের যে চাপের মধ্যে থাকতে হয়, তা অনেকের নজরে আসে না।

তিনি বলেন, শিল্প ও কলকারখানা টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হলে শুধু মালিকদের ওপর চাপ বাড়ালেই হবে না; ব্যবসার পরিবেশও সহজ করতে হবে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও অতিরিক্ত ব্যয় কমানো গেলে শিল্প খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের মজুরি ও মালিকদের ব্যয়সংকট নিয়ে সভায় ওঠা এসব বক্তব্যের পর প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, সেবাপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং শিল্প খাতে অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয় বন্ধের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সরকারি দপ্তরের বাড়তি খরচেই শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে পারছেন না মালিকরা: মাসুদ

Update Time : 01:07:22 pm, Friday, 6 November 2026

নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের মজুরি ও ব্যবসায়ীদের ব্যয়সংকট নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রশাসনিক জটিলতা ও অতিরিক্ত খরচের বিষয়টি সামনে এনেছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তাঁর দাবি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে অতিরিক্ত ব্যয়, লাইসেন্স ও নবায়ন ফি এবং নানা ধরনের অননুমোদিত খরচ কমানো গেলে শ্রমিকদের বর্তমান ৩০ হাজার টাকার বদলে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দেওয়ার সক্ষমতা মালিকদের থাকত।

বুধবার নারায়ণগঞ্জের চাঁদমারী এলাকার চেম্বার ভবনে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।

সভায় শিল্প ও ব্যবসা খাতের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, “আপনাদের পয়সা না দিলে শ্রমিকদের ৩০ না, ৪০ হাজার টাকা বেতন দিতে পারতাম।”

তিনি বলেন, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দপ্তরে নানা ধরনের ব্যয় বহন করতে হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, জন্মদিন, কাস্টমসের ফি, এনবিআরের বিভিন্ন দাবি এবং বিভিন্ন ধরনের লাইসেন্স ও নবায়নের ক্ষেত্রে কাগজপত্রের কাজ করতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়। বছরের পর বছর এসব খাতে লাখ লাখ থেকে কোটি কোটি টাকা খরচ করতে করতে ব্যবসায়ীরা চাপে পড়ে যাচ্ছেন।

তার ভাষ্য, এ ধরনের বাড়তি ব্যয়ের কারণে অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের কাঙ্ক্ষিত বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রকৃত ব্যয় কমানো গেলে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর সুযোগ আরও তৈরি হতো।

মাসুদুজ্জামান মাসুদ এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কাছে দ্রুত ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর দাবি জানান। তাঁর মতে, বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে ঘুরে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা কমানো, দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং অপ্রয়োজনীয় হয়রানি বন্ধ করা গেলে ব্যবসার খরচ কমবে। তখন শ্রমিকদের যে পরিমাণ বেতন নির্ধারণ করা হোক, মালিকপক্ষ তা পরিশোধ করতে আরও সক্ষম হবে।

সভায় ব্যবসায়ীদের নিয়ে সমাজের বিভিন্ন মহলের সমালোচনার বিষয়েও কথা বলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, গণমাধ্যমে বা বিভিন্ন বক্তব্যে অনেক সময় ব্যবসায়ীদের এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন তারা শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে কেবল মুনাফার চিন্তা করেন। অথচ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে দাপ্তরিক বিভিন্ন ব্যয় ও হয়রানির কারণে ব্যবসায়ীদের যে চাপের মধ্যে থাকতে হয়, তা অনেকের নজরে আসে না।

তিনি বলেন, শিল্প ও কলকারখানা টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হলে শুধু মালিকদের ওপর চাপ বাড়ালেই হবে না; ব্যবসার পরিবেশও সহজ করতে হবে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও অতিরিক্ত ব্যয় কমানো গেলে শিল্প খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের মজুরি ও মালিকদের ব্যয়সংকট নিয়ে সভায় ওঠা এসব বক্তব্যের পর প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, সেবাপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং শিল্প খাতে অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয় বন্ধের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।