Dhaka 3:15 pm, Tuesday, 3 November 2026
সর্বশেষ
৮০ লাখ টাকা ‘ঘুষ দাবি’, নগদ আদায়ের সময় ধরা সার্ভেয়ার একটি রাজনৈতিক দল আন্দোলনে ঢুকে অরাজকতার চেষ্টা করছে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সমর্থন চায় বাংলাদেশ আগামী গ্রীষ্মের আগেই ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব আন্দোলন দমাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আশুলিয়ায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, কাভার্ডভ্যানে আগুন হকারদের নিবন্ধন ও পুনর্বাসনে খুলতে পারে অর্থনীতির নতুন দুয়ার মেহেরপুর সীমান্তে সাড়ে ৭ কোটি টাকার স্বর্ণের বারসহ আটক ২ সব অফিসের জন্য সরকারের জরুরি নির্দেশ

আগামী গ্রীষ্মের আগেই ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 08:23:49 am, Tuesday, 3 November 2026
  • / 4 Time View

আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই দেশে তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সৌরবিদ্যুতের প্রসারে এরই মধ্যে নীতিগত সহায়তা, প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে চায় সরকার। নিজস্ব উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর কেবল সম্ভাবনার খাত নয়, বরং এটি একটি অনিবার্য বাস্তবতা।

সঠিক নীতি, প্রযুক্তি ও উদ্যোগের সমন্বয় ঘটাতে পারলে সৌরবিদ্যুৎ থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণে আইনি ও নীতিগত বাধা দূর করার পাশাপাশি অর্থায়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার। উদ্যোক্তাদের ভালো উদ্যোগ ও উদ্ভাবনী ধারণা যেন অর্থের অভাবে হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সৌরবিদ্যুতের প্রসারে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দসহ পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হচ্ছে। 

তারেক রহমান বলেন, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি মানুষকে সম্পৃক্ত হতে হবে।

জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহ ব্যয় বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের মানুষকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়া সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় প্রস্তুতিও বাড়ানো হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা, ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বাড়ানো এবং জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে সহজ সুযোগ সৃষ্টি, সাশ্রয়ী বিনিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও আর্থিক প্রণোদনা দিচ্ছে। উদ্যোক্তাদের সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি, উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আগামী গ্রীষ্মের আগেই ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব

Update Time : 08:23:49 am, Tuesday, 3 November 2026

আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই দেশে তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সৌরবিদ্যুতের প্রসারে এরই মধ্যে নীতিগত সহায়তা, প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে চায় সরকার। নিজস্ব উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর কেবল সম্ভাবনার খাত নয়, বরং এটি একটি অনিবার্য বাস্তবতা।

সঠিক নীতি, প্রযুক্তি ও উদ্যোগের সমন্বয় ঘটাতে পারলে সৌরবিদ্যুৎ থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণে আইনি ও নীতিগত বাধা দূর করার পাশাপাশি অর্থায়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার। উদ্যোক্তাদের ভালো উদ্যোগ ও উদ্ভাবনী ধারণা যেন অর্থের অভাবে হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সৌরবিদ্যুতের প্রসারে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দসহ পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হচ্ছে। 

তারেক রহমান বলেন, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি মানুষকে সম্পৃক্ত হতে হবে।

জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহ ব্যয় বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের মানুষকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়া সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় প্রস্তুতিও বাড়ানো হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা, ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বাড়ানো এবং জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে সহজ সুযোগ সৃষ্টি, সাশ্রয়ী বিনিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও আর্থিক প্রণোদনা দিচ্ছে। উদ্যোক্তাদের সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি, উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।