Dhaka 9:38 pm, Tuesday, 27 October 2026
সর্বশেষ
মজুরি বোর্ড গঠন নিয়ে বড় সুখবর দিলেন শ্রমমন্ত্রী এইচএসসি ও সমমানের ফল দেখা যাবে যেভাবে, জানাল বোর্ড আ.লীগের যারা ভালো মানুষ, তারা আপন ঠিকানা খুঁজে নেবেন : জামায়াত আমির ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে প্রতিবন্ধী ইমাম হোসেনের টিউমার অপসারণ জাহাজভাঙা শিল্পের নিয়ম শিথিলের সিদ্ধান্তে বাপার উদ্বেগ ‘দেশেই আছেন রুমি’—জানালেন আইনজীবী, হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ অনুসন্ধানে পাওয়ার গ্রিডের পাঁচ সদস্যের কমিটি ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু দারিদ্র্য থামাতে পারেনি শুভর স্বপ্ন, পাশে দাঁড়াল এবিজি ফাউন্ডেশন যে তিন পারফরম্যান্সে ব্যালন ডি’অর জিতলেন কেইন

জাহাজভাঙা শিল্পের নিয়ম শিথিলের সিদ্ধান্তে বাপার উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 01:50:54 pm, Tuesday, 27 October 2026
  • / 5 Time View

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে এক দিনে ১০ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার দেড় মাসের মাথায় এ শিল্পের পরিবেশগত শ্রেণি ‘লাল’ থেকে ‘কমলা’ করার সরকারি সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সংগঠনটি এ সিদ্ধান্ত স্থগিত করে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও আইনজ্ঞদের যুক্ত করে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বাপার সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, গত ১৪ আগস্ট সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে এক দিনে ১০ শ্রমিক প্রাণ হারান। ওই ঘটনায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি নিরাপত্তাব্যবস্থায় গুরুতর ঘাটতি ও অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে। এ ঘটনার দেড় মাসের মাথায় ২৯ সেপ্টেম্বর সরকারের একটি কমিটি জাহাজভাঙা শিল্পকে পরিবেশগত শ্রেণিবিন্যাসে ‘লাল’ থেকে ‘কমলা’ শ্রেণিতে নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

এতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক পেশা হিসেবে চিহ্নিত করা এ শিল্পের ওপর রাষ্ট্রীয় নজরদারি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

বিবৃতিতে বলা হয়, পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা-২০২৩ অনুযায়ী, ‘লাল’ শ্রেণির শিল্প পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের ওপর তীব্র প্রভাব ফেলে। এ কারণে নতুন ইয়ার্ড স্থাপনের আগে পূর্ণাঙ্গ পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) বাধ্যতামূলক। মালিকপক্ষের যুক্তি অনুযায়ী, ‘লাল’ শ্রেণিতে অনুমোদন পেতে প্রায় ৯০ দিন সময় লাগে, যা তাদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়।

তবে ওই যুক্তির কাছে ১০ শ্রমিকের প্রাণহানির বিষয়টি গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। 

বাপা জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গঠিত একটি কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিটির সভাপতি পরিবেশমন্ত্রী; সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পমন্ত্রী, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও কয়েকজন সচিব। কিন্তু সেখানে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, শ্রমিক প্রতিনিধি কিংবা নাগরিক সংগঠনের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। অথচ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সরকারের পক্ষ থেকে পরিবেশবাদীদের মতামত নেওয়া হয়েছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে সিদ্ধান্তটি স্থগিত করে ‘লাল’ শ্রেণি বহাল রাখা এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের যুক্ত করে পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইআইএ বহাল রেখে অনুমোদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ, অনলাইন ট্র্যাকিং চালু এবং প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। 

বাপা বলছে, কোনো ‘গ্রিন ইয়ার্ডে’ প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সনদ পুনর্মূল্যায়ন এবং বারবার দুর্ঘটনা ঘটলে সনদ বাতিলের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ এবং নিহত বা আহত শ্রমিকের বয়স, অবশিষ্ট কর্মজীবন ও পরিবারের ক্ষতি বিবেচনায় ক্ষতিপূরণের আইনি মানদণ্ড নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জাহাজভাঙা শিল্পের নিয়ম শিথিলের সিদ্ধান্তে বাপার উদ্বেগ

Update Time : 01:50:54 pm, Tuesday, 27 October 2026

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে এক দিনে ১০ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার দেড় মাসের মাথায় এ শিল্পের পরিবেশগত শ্রেণি ‘লাল’ থেকে ‘কমলা’ করার সরকারি সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সংগঠনটি এ সিদ্ধান্ত স্থগিত করে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও আইনজ্ঞদের যুক্ত করে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বাপার সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, গত ১৪ আগস্ট সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে এক দিনে ১০ শ্রমিক প্রাণ হারান। ওই ঘটনায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি নিরাপত্তাব্যবস্থায় গুরুতর ঘাটতি ও অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে। এ ঘটনার দেড় মাসের মাথায় ২৯ সেপ্টেম্বর সরকারের একটি কমিটি জাহাজভাঙা শিল্পকে পরিবেশগত শ্রেণিবিন্যাসে ‘লাল’ থেকে ‘কমলা’ শ্রেণিতে নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

এতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক পেশা হিসেবে চিহ্নিত করা এ শিল্পের ওপর রাষ্ট্রীয় নজরদারি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

বিবৃতিতে বলা হয়, পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা-২০২৩ অনুযায়ী, ‘লাল’ শ্রেণির শিল্প পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের ওপর তীব্র প্রভাব ফেলে। এ কারণে নতুন ইয়ার্ড স্থাপনের আগে পূর্ণাঙ্গ পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) বাধ্যতামূলক। মালিকপক্ষের যুক্তি অনুযায়ী, ‘লাল’ শ্রেণিতে অনুমোদন পেতে প্রায় ৯০ দিন সময় লাগে, যা তাদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়।

তবে ওই যুক্তির কাছে ১০ শ্রমিকের প্রাণহানির বিষয়টি গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। 

বাপা জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গঠিত একটি কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিটির সভাপতি পরিবেশমন্ত্রী; সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পমন্ত্রী, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও কয়েকজন সচিব। কিন্তু সেখানে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, শ্রমিক প্রতিনিধি কিংবা নাগরিক সংগঠনের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। অথচ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সরকারের পক্ষ থেকে পরিবেশবাদীদের মতামত নেওয়া হয়েছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে সিদ্ধান্তটি স্থগিত করে ‘লাল’ শ্রেণি বহাল রাখা এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের যুক্ত করে পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইআইএ বহাল রেখে অনুমোদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ, অনলাইন ট্র্যাকিং চালু এবং প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। 

বাপা বলছে, কোনো ‘গ্রিন ইয়ার্ডে’ প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সনদ পুনর্মূল্যায়ন এবং বারবার দুর্ঘটনা ঘটলে সনদ বাতিলের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ এবং নিহত বা আহত শ্রমিকের বয়স, অবশিষ্ট কর্মজীবন ও পরিবারের ক্ষতি বিবেচনায় ক্ষতিপূরণের আইনি মানদণ্ড নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।