বিদেশি কম্পানিকে কনটেইনার টার্মিনাল লিজের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী : বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি
- Update Time : 12:58:50 pm, Thursday, 15 October 2026
- / 6 Time View
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ দেশের লাভজনক ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা বিদেশি কম্পানির কাছে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘আত্মঘাতী ও অদূরদর্শী’ বলে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়ে দলটি বলেছে, মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলা কোনো সমাধান হতে পারে না।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ ও সমাবেশে দলের শীর্ষ নেতারা এ দাবি জানান। বন্দর লিজের সিদ্ধান্ত বাতিল, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, মব সন্ত্রাস রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “জাতীয় অর্থনীতির অতিসংবেদনশীল লাইফলাইন অস্বচ্ছ ও অযৌক্তিকভাবে বিদেশি প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা সরকার দিতে পারেনি। বিনিয়োগ ও আর্থিক লাভের যে হিসাব দেওয়া হচ্ছে, তা অবাস্তব ও তথ্যভিত্তিক নয়।
তিনি আরো প্রশ্ন তোলেন, ‘৫৪ বছরেও যদি একটি রাষ্ট্র তার প্রধান বন্দর পরিচালনার স্বাবলম্বিতা অর্জন করতে না পারে, তবে দেশ বা সরকার কিভাবে চলবে? নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বন্দরের মান উন্নত ও গতিশীল করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচিত সরকারকে জনগণের মতামত ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’
তিনি অবিলম্বে বাজার সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি দমনের পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের জন্য ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানান।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কোনো অপরাধী বা দুর্বৃত্তকে রাজনৈতিক পরিচয়ে ছাড় দেওয়া যাবে না।
সমাবেশে পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী বলেন, ভুল পরামর্শের ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গণশুনানি ছাড়া গ্যাস ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জবরদখলের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক পরিষদের আরেক সদস্য আকবর খান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব উপেক্ষা করে বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ সফল হতে দেওয়া হবে না। অতীতেও এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছিল এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
পার্টির ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাকের সভাপতিত্বে ও মীর রেজাউল আলমের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা রাশিদা আক্তার, সাইফুর রেজা মামুন, সাইফুল ইসলাম ও বিপ্লবী রিকশা শ্রমিক সংহতির সভাপতি জামাল সিকদার।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সেগুনবাগিচায় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।









