নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে কেন ‘গাঁজাখোর’ বললেন রাশেদ খান
- Update Time : 02:14:28 pm, Saturday, 10 October 2026
- / 5 Time View
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ‘গাঁজাখোর’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে শহীদ ওসমান হাদির রাজনৈতিক আদর্শ, ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন এবং তাকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেন রাশেদ খান।
পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, জীবদ্দশায় শহীদ ওসমান হাদির সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরোধ থাকলেও তার মৃত্যুর পর দলগুলো তাকে নিজেদের আদর্শিক নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাশেদ খান লেখেন, ঢাকা-৮ আসনে শহীদ ওসমান হাদির বিপরীতে এনসিপি রিকশাচালক সুজনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল।
অন্যদিকে জামায়াতের আমিরের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও বুয়েট শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের তাকে ওই আসনে নির্বাচন না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জুবায়ের জানিয়েছিলেন, ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েম নির্বাচন করবেন।
রাশেদ খানের দাবি, সে সময় শহীদ ওসমান হাদি বলেছিলেন, প্রয়োজনে ৫০০ ভোট পেলেও তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকেই নির্বাচন করবেন। এ বিষয়ে ওসমান হাদির ভাই ওমর হাদি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একই সঙ্গে জুবায়ের বর্তমানে দেশে আছেন কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন রাশেদ খান।
জামায়াত ও এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে রাশেদ খান লেখেন, জীবদ্দশায় ওসমান হাদি এনসিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলার পাশাপাশি জুলাইয়ের ঐক্য বিনষ্ট করা এবং জুলাইকে কুক্ষিগত করার মতো বিষয় নিয়ে কথা বলেছিলেন। একই সঙ্গে জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান লেখেন, ‘শহীদ ওসমান হাদির প্রতি আমাদের সবার শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু এনসিপির গাঁজাখোর নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী যখন বলে, জিয়াউর রহমানের চেয়ে হাদির লড়াই বেশি শক্তিশালী, তখন তো আর বলতে বাকি থাকে না, জামায়াত-এনসিপি ওসমান হাদিকে বিতর্কিত করতে ব্যবসায় নেমেছে! বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে শহীদ ওসমান হাদিকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেয়, সেই নোংরা প্ল্যান থেকেই গাঁজাখোর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এমন মন্তব্য করেছে।
বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এ ধরনের বিতর্কে না জড়ানোর আহ্বান জানান রাশেদ খান। তার দাবি, শহীদ ওসমান হাদি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতিকে আদর্শ হিসেবে ধারণ করে সংগ্রাম করেছেন। তাই তাঁকে বিএনপির মুখোমুখি দাঁড় করানোর কোনো উদ্যোগ সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারের পাশে ওসমান হাদিকে দাফন করা নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন রাশেদ খান। তিনি লেখেন, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা জাবেরদের কিছু বক্তব্যের কারণে এ দাফন নিয়ে কারো কারো মনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের শিকার একজন ব্যক্তির দাফন নিয়ে বিতর্ক করা ঠিক নয় বলে মনে করেন তিনি।
পোস্টের শেষদিকে রাশেদ খান লেখেন, ‘আজকে সকালে শহীদ ওসমান হাদির বড় ভাইয়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা হচ্ছিল, তিনি বললেন, “যেসময় কেউ কথা বলত না, সে সময় নুর ভাই কথা বলতেন, একজন মৃত মানুষকে নিয়ে বিরোধীপক্ষ বিতর্ক করার সুযোগ পায়, এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত না।’ আমিও শহীদ ওসমান হাদির বড় ভাইয়ের সঙ্গে একমত। আমাদের ভাই শহীদ ওসমান হাদিকে আমরা আজীবন হৃদয়ে ধারণ করব, ইনশাআল্লাহ। তাকে যারা বিতর্কিত করতে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইবে, তাদের বিষয়েও আমাদের সচেতন ও সোচ্চার থাকতে হবে।’









