Dhaka 6:59 pm, Tuesday, 6 October 2026
সর্বশেষ
১০ম গ্রেডে বেতন পাবেন প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা, বকেয়ার কী হবে ‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো’—ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বার্তা রাহুল গান্ধীর বসতি মেলায় স্বজন গ্রুপের স্টল পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী ঢামেকে কারাবন্দির মৃত্যু চ্যাটজিপিটির লেখায় অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক দিচ্ছে ওপেনএআই মালয়েশিয়ায় ‘যেমনে-তেমনে’ কর্মী পাঠানো যাবে না : প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে ডিএমপি ভূমিকম্প মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, আক্রান্ত ছাড়াল ৯০ হাজার চলতি মাসেই জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

তদবির ঠেকাতে লটারিতে ঢাকার ৭ ভূমি অফিসে বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 11:49:36 am, Tuesday, 6 October 2026
  • / 3 Time View

বদলি নিয়ে তদবির, প্রভাব বিস্তার ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের সুযোগ বন্ধ করে প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। জেলার সাতটি ভূমি অফিস ও রাজস্ব সার্কেলে কর্মরত ৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে এ লটারি অনুষ্ঠিত হয়। আজ মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উন্মুক্তভাবে ও সর্বসম্মতিক্রমে লটারির মাধ্যমে বদলির কর্মস্থল নির্ধারণ করা হয়। ফলে কে কোন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করবেন, তা নির্ধারণে ব্যক্তিগত তদবির বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ রাখা হয়নি।

লটারির আওতায় থাকা কর্মস্থলগুলো হলো—সাভার উপজেলা ভূমি অফিস; ধামরাই উপজেলা ভূমি অফিস; আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল; উত্তরখান ভূমি অফিস, ক্যান্টনমেন্ট সার্কেল; বালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ধামরাই; কেরাণীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস এবং জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, নবাবগঞ্জ।

লটারির মাধ্যমে বদলি হওয়া ৯ জনের মধ্যে রয়েছেন দুজন চেইনম্যান, তিনজন অফিস সহায়ক, একজন মালি, একজন অফিস সহকারী, একজন সার্টিফিকেট সহকারী এবং একজন প্রধান সহকারী।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভূমি অফিসে নাগরিকদের সরাসরি বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়। এসব দপ্তরে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের ফলে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা স্বার্থের সম্পর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একই সঙ্গে বদলির ক্ষেত্রে তদবির বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

এ ধরনের সম্ভাবনা কমিয়ে বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই লটারির মাধ্যমে কর্মস্থল নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ভূমি অফিসের মতো সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। অন্যায় তদবির ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে বদলি প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই আমরা লটারির পথ বেছে নিয়েছি। এতে কারও প্রতি পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থাকবে না। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কর্মস্থলে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সাধারণ মানুষ আরো দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে সেবাগ্রহীতাদের আস্থাও বাড়বে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, উন্মুক্তভাবে লটারির মাধ্যমে কর্মস্থল নির্ধারণ হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি তাদের কাছে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এতে বদলি নিয়ে কারও বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব বা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠার সুযোগও কমেছে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বদলি প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত লটারি পদ্ধতি অনুসরণের ফলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। একই সঙ্গে ভূমি সেবায় অনিয়ম ও তদবিরের সুযোগ কমিয়ে নাগরিকদের জন্য আরো নিরপেক্ষ ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

তদবির ঠেকাতে লটারিতে ঢাকার ৭ ভূমি অফিসে বদলি

Update Time : 11:49:36 am, Tuesday, 6 October 2026

বদলি নিয়ে তদবির, প্রভাব বিস্তার ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের সুযোগ বন্ধ করে প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। জেলার সাতটি ভূমি অফিস ও রাজস্ব সার্কেলে কর্মরত ৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে এ লটারি অনুষ্ঠিত হয়। আজ মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উন্মুক্তভাবে ও সর্বসম্মতিক্রমে লটারির মাধ্যমে বদলির কর্মস্থল নির্ধারণ করা হয়। ফলে কে কোন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করবেন, তা নির্ধারণে ব্যক্তিগত তদবির বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ রাখা হয়নি।

লটারির আওতায় থাকা কর্মস্থলগুলো হলো—সাভার উপজেলা ভূমি অফিস; ধামরাই উপজেলা ভূমি অফিস; আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল; উত্তরখান ভূমি অফিস, ক্যান্টনমেন্ট সার্কেল; বালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ধামরাই; কেরাণীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস এবং জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, নবাবগঞ্জ।

লটারির মাধ্যমে বদলি হওয়া ৯ জনের মধ্যে রয়েছেন দুজন চেইনম্যান, তিনজন অফিস সহায়ক, একজন মালি, একজন অফিস সহকারী, একজন সার্টিফিকেট সহকারী এবং একজন প্রধান সহকারী।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভূমি অফিসে নাগরিকদের সরাসরি বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়। এসব দপ্তরে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের ফলে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা স্বার্থের সম্পর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একই সঙ্গে বদলির ক্ষেত্রে তদবির বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

এ ধরনের সম্ভাবনা কমিয়ে বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই লটারির মাধ্যমে কর্মস্থল নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ভূমি অফিসের মতো সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। অন্যায় তদবির ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে বদলি প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই আমরা লটারির পথ বেছে নিয়েছি। এতে কারও প্রতি পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থাকবে না। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কর্মস্থলে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সাধারণ মানুষ আরো দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে সেবাগ্রহীতাদের আস্থাও বাড়বে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, উন্মুক্তভাবে লটারির মাধ্যমে কর্মস্থল নির্ধারণ হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি তাদের কাছে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এতে বদলি নিয়ে কারও বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব বা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠার সুযোগও কমেছে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বদলি প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত লটারি পদ্ধতি অনুসরণের ফলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। একই সঙ্গে ভূমি সেবায় অনিয়ম ও তদবিরের সুযোগ কমিয়ে নাগরিকদের জন্য আরো নিরপেক্ষ ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।