Dhaka 2:29 am, Thursday, 1 October 2026
সর্বশেষ
সায়েদাবাদ থেকে দূরপাল্লার বাস কাঁচপুর টার্মিনালে স্থানান্তর করা হবে সাভারে এসআইকে পিটিয়ে হত্যা : আসামি জিল্লু ৩ দিনের রিমান্ডে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে মিলছে না এলপিজি, ডিসিদেরকে মাঠে নামার নির্দেশ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ৩ সেঞ্চুরিতে রেকর্ড সংগ্রহ ওয়েস্ট ইন্ডিজের, ভারতের লক্ষ্য ৪০৬ মিজান, রোকসানা ও শুক্কুরের মুখে হাসি ফোটালেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেল নিয়ে সবশেষ যা জানা গেল জনগণের সঙ্গে আবারো প্রতারণা শুরু করছে বিরোধী দল : আমিনুল হক যাচাই-বাছাইয়ের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে না : বাণিজ্যমন্ত্রী

পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন আইফেল টাওয়ারের প্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 12:59:02 pm, Wednesday, 30 September 2026
  • / 3 Time View

হিন্দু ধর্মীয় একটি সংগঠনের সফরের সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে পুরুষ কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী সংস্থার প্রধান নির্বাহী। এ ঘটনার পর তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী সংস্থা ‘এসইটিই’ জানিয়েছে, সংস্থার মহাপরিচালক প্যাট্রিক ব্র্যাঙ্কো রুইভো চলতি বছরের শেষে পদ ছাড়বেন। তিনি ২০১৮ সাল থেকে এই দায়িত্বে রয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে তদন্তে দেখা গেছে, ওই সফর আয়োজনের সময় ব্যবস্থাপনায় কিছু ভুল ও ঘাটতি ছিল। এর কারণে নারী কর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এসইটিই এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে। চলতি মাসের শুরুতে হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন বোচাসনবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থার (বিএপিএস) প্রায় ১০০ সদস্যের একটি দল আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে যায়। এ সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে তাদের জায়গায় পুরুষ কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

এসইটিই জানায়, বিএপিএস সফরের সময় নারী কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ কম রাখার অনুরোধ করেছিল।

তবে পরে সংস্থাটি জানায়, এই অনুরোধ মেনে নেওয়া ঠিক হয়নি। কর্মী ইউনিয়নের এক প্রতিনিধি জানান, নারী কর্মীদের তাদের কাজের জায়গা থেকে সরে যেতে বলা হয়েছিল। এতে তারা অপমানিত বোধ করেন। কর্মীদের আরো অভিযোগ, প্রতিনিধিদলটি আইফেল টাওয়ারে থাকা অবস্থায় নারী কর্মীদের কিছু নির্দিষ্ট এলাকা দিয়ে যাতায়াত করতেও নিষেধ করা হয়েছিল। 

ঘটনার প্রতিবাদে আইফেল টাওয়ারের কর্মীরা ধর্মঘট করেন।

এর ফলে টাওয়ারটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনীতিকও সমালোচনা করেন। ফ্রান্সের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভেট বলেন, বিদেশি দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য নারী কর্মীদের সরে যেতে বাধ্য করার বিষয়টি তিনি মেনে নেবেন না। 

প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার ঘটনাটিকে ‘অযৌক্তিক, অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি এ ঘটনায় দুটি পৃথক তদন্তের নির্দেশ দেন। এসইটিই-এর চেয়ারম্যান আরিয়েল ওয়েল মঙ্গলবার জানান, কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নেতৃত্বে পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনার পর চলতি মাসের শুরুতে বিএপিএস কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চায়। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, এই ঘটনায় কেউ কষ্ট বা অসুবিধার শিকার হয়ে থাকলে তারা দুঃখিত। তারা পারস্পরিক সম্মান ও সেবার মূল্যবোধে বিশ্বাস করে বলেও জানায়।

বিএপিএস নিজেদের একটি আধ্যাত্মিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেয়। তাদের দাবি, হিন্দু ধর্মীয় মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজের উন্নয়নে কাজ করাই সংগঠনটির লক্ষ্য। লন্ডন, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিডনিসহ বিশ্বের বিভিন্ন বড় শহরে বিএপিএসের মন্দির রয়েছে। সংগঠনটি ভগবান স্বামীনারায়ণের শিক্ষা অনুসরণ করে।

তার অনুসারীরা তাকে হিন্দু দেবতা বিষ্ণুর অবতার হিসেবে মনে করেন। বিএপিএসের দাবি, নারী ও পুরুষকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা নারীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এ ধরনের রীতি বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এর মাধ্যমে নারীদের প্রতি বৈষম্য করা হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন আইফেল টাওয়ারের প্রধান

Update Time : 12:59:02 pm, Wednesday, 30 September 2026

হিন্দু ধর্মীয় একটি সংগঠনের সফরের সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে পুরুষ কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী সংস্থার প্রধান নির্বাহী। এ ঘটনার পর তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী সংস্থা ‘এসইটিই’ জানিয়েছে, সংস্থার মহাপরিচালক প্যাট্রিক ব্র্যাঙ্কো রুইভো চলতি বছরের শেষে পদ ছাড়বেন। তিনি ২০১৮ সাল থেকে এই দায়িত্বে রয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে তদন্তে দেখা গেছে, ওই সফর আয়োজনের সময় ব্যবস্থাপনায় কিছু ভুল ও ঘাটতি ছিল। এর কারণে নারী কর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এসইটিই এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে। চলতি মাসের শুরুতে হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন বোচাসনবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থার (বিএপিএস) প্রায় ১০০ সদস্যের একটি দল আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে যায়। এ সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে তাদের জায়গায় পুরুষ কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

এসইটিই জানায়, বিএপিএস সফরের সময় নারী কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ কম রাখার অনুরোধ করেছিল।

তবে পরে সংস্থাটি জানায়, এই অনুরোধ মেনে নেওয়া ঠিক হয়নি। কর্মী ইউনিয়নের এক প্রতিনিধি জানান, নারী কর্মীদের তাদের কাজের জায়গা থেকে সরে যেতে বলা হয়েছিল। এতে তারা অপমানিত বোধ করেন। কর্মীদের আরো অভিযোগ, প্রতিনিধিদলটি আইফেল টাওয়ারে থাকা অবস্থায় নারী কর্মীদের কিছু নির্দিষ্ট এলাকা দিয়ে যাতায়াত করতেও নিষেধ করা হয়েছিল। 

ঘটনার প্রতিবাদে আইফেল টাওয়ারের কর্মীরা ধর্মঘট করেন।

এর ফলে টাওয়ারটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনীতিকও সমালোচনা করেন। ফ্রান্সের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভেট বলেন, বিদেশি দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য নারী কর্মীদের সরে যেতে বাধ্য করার বিষয়টি তিনি মেনে নেবেন না। 

প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার ঘটনাটিকে ‘অযৌক্তিক, অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি এ ঘটনায় দুটি পৃথক তদন্তের নির্দেশ দেন। এসইটিই-এর চেয়ারম্যান আরিয়েল ওয়েল মঙ্গলবার জানান, কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নেতৃত্বে পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনার পর চলতি মাসের শুরুতে বিএপিএস কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চায়। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, এই ঘটনায় কেউ কষ্ট বা অসুবিধার শিকার হয়ে থাকলে তারা দুঃখিত। তারা পারস্পরিক সম্মান ও সেবার মূল্যবোধে বিশ্বাস করে বলেও জানায়।

বিএপিএস নিজেদের একটি আধ্যাত্মিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেয়। তাদের দাবি, হিন্দু ধর্মীয় মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজের উন্নয়নে কাজ করাই সংগঠনটির লক্ষ্য। লন্ডন, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিডনিসহ বিশ্বের বিভিন্ন বড় শহরে বিএপিএসের মন্দির রয়েছে। সংগঠনটি ভগবান স্বামীনারায়ণের শিক্ষা অনুসরণ করে।

তার অনুসারীরা তাকে হিন্দু দেবতা বিষ্ণুর অবতার হিসেবে মনে করেন। বিএপিএসের দাবি, নারী ও পুরুষকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা নারীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এ ধরনের রীতি বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এর মাধ্যমে নারীদের প্রতি বৈষম্য করা হয়।