গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই অসুস্থ গরু জবাই, জরিমানা
- Update Time : 02:14:51 pm, Tuesday, 29 September 2026
- / 13 Time View
অসুস্থ গরু জবাই করায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নে গরুর মালিক ও ৬ কসাইকে জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাদুল্লাপুর উপজেলায় একই অভিযোগে জেলাল শেখ নামের এক মাংস বিক্রেতাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই উপজেলায় পৃথক অভিযানে তাদের জরিমানা করা হয়। জবাই করা গরুর মাংস জব্দ করে তা মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জের উত্তর সাহাবাজ গ্রামের অসুস্থ গরুর মালিক মো. রফিকুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক। অসুস্থ গরু জবাই করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহরাব আল আকাশ গরু মালিকের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিত্বে এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মেডিক্যাল সনদ না নিয়ে পশু জবাই করার অপরাধে উপজেলার বিভিন্ন বাজারের ৬ কসাইয়ের প্রত্যেকের ২ হাজার এবং ১ জনকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সময় উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন।
যাদের জরিমানা করা হয়েছে তারা হলেন, বামনডাঙ্গা হল মোড়ের কসাই মো. ফজলু মিয়া, পৌরসভার মো. আব্দুল্লাহ, মো. শাহিন মিয়া, রামভদ্রের সফিউল ইসলাম, রামগঞ্জ বাজারের মো. রেজাউল ইসলাম, বামনডাঙ্গা স্লুইচ গেটের মো. জহুরুল ইসলাম।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, গরু মালিক ও কসাইদের সচেতন করার জন্য দীর্ঘ দুই মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে।
তারপরও অনেকে টাকার লোভে অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করছেন। এই কারণেই বর্তমানে সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্স রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
তিনি জানান, গরু মালিক এবং কসাইদের সতর্ক করার জন্যই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় জোর দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সাদুল্লাপুর উপজেলায় একই দিন উপজেলা শহরের বাজার মোড় এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওজাতুন জান্নাত।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, দুপুরে অসুস্থ একটি গরু জবাই করে তার মাংস সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে খবর পেয়ে এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাংস জব্দ করা হয়। অভিযুক্ত বিক্রেতা অসুস্থ গরু জবাই করার কথা স্বীকার করেন। পরে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দ করা মাংস উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার হেফাজতে দেওয়া হয়।
সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তানভীক জাহান বলেন, অভিযুক্ত মাংস বিক্রেতা নিজ বাড়িতে একটি অসুস্থ গরু জবাই করে পরে সেই মাংস বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যান। গরুটির পা ও পেটে সমস্যা ছিল। জব্দ করা মাংসগুলো তাৎক্ষণিকভাবে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
সাদুল্লাপুরের ইউএনও রওজাতুন জান্নাত বলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও অনিরাপদ মাংস বিক্রি না করতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় পশু আইনে তাদের জরিমানা করা হয়।