Dhaka 5:15 am, Thursday, 1 October 2026
সর্বশেষ
সায়েদাবাদ থেকে দূরপাল্লার বাস কাঁচপুর টার্মিনালে স্থানান্তর করা হবে সাভারে এসআইকে পিটিয়ে হত্যা : আসামি জিল্লু ৩ দিনের রিমান্ডে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে মিলছে না এলপিজি, ডিসিদেরকে মাঠে নামার নির্দেশ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ৩ সেঞ্চুরিতে রেকর্ড সংগ্রহ ওয়েস্ট ইন্ডিজের, ভারতের লক্ষ্য ৪০৬ মিজান, রোকসানা ও শুক্কুরের মুখে হাসি ফোটালেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেল নিয়ে সবশেষ যা জানা গেল জনগণের সঙ্গে আবারো প্রতারণা শুরু করছে বিরোধী দল : আমিনুল হক যাচাই-বাছাইয়ের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে না : বাণিজ্যমন্ত্রী

এইচআইভি আক্রান্ত ৩২ বন্দি, ৩৩ কারাগারে পরীক্ষার ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 06:04:53 am, Sunday, 27 September 2026
  • / 19 Time View

দেশের বিভিন্ন কারাগারে ৩২ জন এইচআইভি আক্রান্ত বন্দি চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত একজন বন্দি গত ২২ বছর ধরে কারাগারের ভেতরে নিয়মিত চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় আক্রান্ত বন্দিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) দেওয়া হচ্ছে। জেল কোড অনুযায়ী তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা, ওষুধ এবং বিশেষ খাদ্য ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়।

এক প্রতিবেদনে বণিক বার্তা জানায়, বর্তমানে দেশের ৩৩টি কারাগারে এইচআইভি পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো বন্দির মধ্যে সংক্রমণের সন্দেহ দেখা দিলে পরীক্ষা করা হয়।

পরীক্ষায় এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা হয়। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জামিনে মুক্তি, খালাস বা সাজা শেষে কোনো বন্দি কারাগার থেকে বের হলে তার চিকিৎসা যাতে বন্ধ না হয় সে জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। 

তবে সামাজিক বৈষম্য ও হয়রানির আশঙ্কায় অনেক বন্দি কারাগারে প্রবেশের সময় নিজেদের এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার তথ্য গোপন করেন। ফলে আক্রান্তদের একটি অংশ শনাক্ত ও চিকিৎসার বাইরে থেকে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারা উপমহাপরিদর্শক (হেলথ) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আখতার হাসিব দেওয়ান বলেন, বর্তমানে ৩৩টি কারাগারে এইচআইভি পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় কর্মসূচির আওতায় আক্রান্তদের নিয়মিত পরীক্ষা, এআরটি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্র্যাকের সহযোগিতায় সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু শারীরিক লক্ষণ দেখে এইচআইভি শনাক্ত করা সম্ভব নয়। আবার অনেকে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য গোপন করেন।

তাই দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, এইচআইভির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা। নিয়মিত এআরটির মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। একই সঙ্গে কারাগারের মতো আবদ্ধ পরিবেশে নিয়মিত পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং আক্রান্তদের গোপনীয়তা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করাও জরুরি।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭৫টি কারাগারের ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৮৬ জন হলেও বর্তমানে সেখানে বন্দি রয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ১৮০ জন। ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় ৫৭ হাজার বেশি বন্দি থাকায় চিকিৎসা, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এইচআইভি আক্রান্ত ৩২ বন্দি, ৩৩ কারাগারে পরীক্ষার ব্যবস্থা

Update Time : 06:04:53 am, Sunday, 27 September 2026

দেশের বিভিন্ন কারাগারে ৩২ জন এইচআইভি আক্রান্ত বন্দি চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত একজন বন্দি গত ২২ বছর ধরে কারাগারের ভেতরে নিয়মিত চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় আক্রান্ত বন্দিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) দেওয়া হচ্ছে। জেল কোড অনুযায়ী তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা, ওষুধ এবং বিশেষ খাদ্য ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়।

এক প্রতিবেদনে বণিক বার্তা জানায়, বর্তমানে দেশের ৩৩টি কারাগারে এইচআইভি পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো বন্দির মধ্যে সংক্রমণের সন্দেহ দেখা দিলে পরীক্ষা করা হয়।

পরীক্ষায় এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা হয়। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জামিনে মুক্তি, খালাস বা সাজা শেষে কোনো বন্দি কারাগার থেকে বের হলে তার চিকিৎসা যাতে বন্ধ না হয় সে জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। 

তবে সামাজিক বৈষম্য ও হয়রানির আশঙ্কায় অনেক বন্দি কারাগারে প্রবেশের সময় নিজেদের এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার তথ্য গোপন করেন। ফলে আক্রান্তদের একটি অংশ শনাক্ত ও চিকিৎসার বাইরে থেকে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারা উপমহাপরিদর্শক (হেলথ) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আখতার হাসিব দেওয়ান বলেন, বর্তমানে ৩৩টি কারাগারে এইচআইভি পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় কর্মসূচির আওতায় আক্রান্তদের নিয়মিত পরীক্ষা, এআরটি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্র্যাকের সহযোগিতায় সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু শারীরিক লক্ষণ দেখে এইচআইভি শনাক্ত করা সম্ভব নয়। আবার অনেকে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য গোপন করেন।

তাই দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, এইচআইভির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা। নিয়মিত এআরটির মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। একই সঙ্গে কারাগারের মতো আবদ্ধ পরিবেশে নিয়মিত পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং আক্রান্তদের গোপনীয়তা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করাও জরুরি।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭৫টি কারাগারের ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৮৬ জন হলেও বর্তমানে সেখানে বন্দি রয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ১৮০ জন। ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় ৫৭ হাজার বেশি বন্দি থাকায় চিকিৎসা, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।