Dhaka 12:34 am, Monday, 14 September 2026
সর্বশেষ
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কি সত্যিই আর ১৪ দিন চলার মতো তেল আছে? ভাত রান্না করার সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে ইঞ্জিনিয়ার নিহত স্থানীয় সরকার নির্বাচন স্বচ্ছ হবে : প্রতিমন্ত্রী পুতুল শেকৃবির ৬ শিক্ষক-কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ২৫ কোটি বরাদ্দ দেওয়া হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে : আইনমন্ত্রী লং মার্চের নামে লং ড্রাইভ করছে জামায়াত : রাশেদ খান স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের অধিকার : ডা. জুবাইদা রহমান ফ্রান্সের ৩ সিনেটরের সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ ইউনিট থেকেই বাংলাদেশে সরবরাহ শুরু

ব্রিকস নেতৃত্ব পুনরুদ্ধারে মরিয়া পশ্চিমারা : পুতিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 03:53:28 pm, Friday, 11 September 2026
  • / 13 Time View

পশ্চিমা দেশগুলো যেকোনো উপায়ে, এমনকি অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করেও হারানো বৈশ্বিক নেতৃত্ব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস বলছে, ব্রিকস বিজনেস ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন চলছে দাবি করে পুতিন বলেন, পুরনো নেতৃত্বের জায়গা নিচ্ছে নতুন নতুন প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র। আর এ পরিবর্তনের মধ্যেই পশ্চিমা প্রতিদ্বন্দ্বীরা নিজেদের পুরনো নেতৃত্ব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।

পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিল্প ও সরবরাহ অবকাঠামোয় সরাসরি আঘাত, পাইপলাইন ধ্বংস, আন্তর্জাতিক পরিবহন করিডর আটকে দেওয়া, সমুদ্রগামী জাহাজ জব্দ এবং নিজেদের স্বার্থে কাজ না করা দেশগুলোর ওপর ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা’র হুমকি—এসব পন্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।

ব্রিকসের সাফল্য তুলে ধরে পুতিন বলেন, গত পাঁচ বছরে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪০ শতাংশের বেশি এসেছে ব্রিকস দেশগুলো থেকে।

বিপরীতে একই সময়ে জি৭-এর অবদান ছিল ২৯ শতাংশ। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রায় অর্ধেকও এসেছে ব্রিকস সদস্যদের কাছ থেকে, যেখানে জি৭-এর অবদান মাত্র ১৮ শতাংশ। 

বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা ব্রিকস দেশগুলোতে বসবাস করে বলে জানান পুতিন। তিনি দাবি করেন, এসব দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে।

ব্রিকসের দেশগুলোর মধ্যে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ব্যবসায়িক সম্পর্ক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করছে এবং বিশ্বকে আরো স্থিতিশীল ও সংকট মোকাবেলায় সক্ষম করে তুলছে।  

রাশিয়ার ওপর ৩০ হাজারের বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে দাবি করে পুতিন বলেন, এটি বিশ্বের অন্য সব দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মোট সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। তবে এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও জাতীয় সার্বভৌমত্ব আরো শক্তিশালী করেছে মস্কো। শুধু তাই নয়, নির্ভরযোগ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতাও বাড়িয়েছে। 

গত চার বছরে রাশিয়ার বৈদেশিক বাণিজ্যের ভৌগোলিক পরিধিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে বলেও জানান পুতিন।

তিনি বলেন, গত তিন বছরে রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি ছিল। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির জিডিপি ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। অর্থনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি আরো শক্তিশালী, স্থিতিস্থাপক ও গতিশীল হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। 

পুতিনের ভাষ্য, ব্রিকস দেশগুলোর শক্তিশালী ব্যবসায়িক সম্পর্ক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি আরো দৃঢ় ও স্থিতিশীল করছে। ব্রিকসের নতুন বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম গঠনে রাশিয়ার উদ্যোগ অন্য সদস্যরা সমর্থন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ব্রিকস নেতৃত্ব পুনরুদ্ধারে মরিয়া পশ্চিমারা : পুতিন

Update Time : 03:53:28 pm, Friday, 11 September 2026

পশ্চিমা দেশগুলো যেকোনো উপায়ে, এমনকি অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করেও হারানো বৈশ্বিক নেতৃত্ব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস বলছে, ব্রিকস বিজনেস ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন চলছে দাবি করে পুতিন বলেন, পুরনো নেতৃত্বের জায়গা নিচ্ছে নতুন নতুন প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র। আর এ পরিবর্তনের মধ্যেই পশ্চিমা প্রতিদ্বন্দ্বীরা নিজেদের পুরনো নেতৃত্ব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।

পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিল্প ও সরবরাহ অবকাঠামোয় সরাসরি আঘাত, পাইপলাইন ধ্বংস, আন্তর্জাতিক পরিবহন করিডর আটকে দেওয়া, সমুদ্রগামী জাহাজ জব্দ এবং নিজেদের স্বার্থে কাজ না করা দেশগুলোর ওপর ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা’র হুমকি—এসব পন্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।

ব্রিকসের সাফল্য তুলে ধরে পুতিন বলেন, গত পাঁচ বছরে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪০ শতাংশের বেশি এসেছে ব্রিকস দেশগুলো থেকে।

বিপরীতে একই সময়ে জি৭-এর অবদান ছিল ২৯ শতাংশ। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রায় অর্ধেকও এসেছে ব্রিকস সদস্যদের কাছ থেকে, যেখানে জি৭-এর অবদান মাত্র ১৮ শতাংশ। 

বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা ব্রিকস দেশগুলোতে বসবাস করে বলে জানান পুতিন। তিনি দাবি করেন, এসব দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে।

ব্রিকসের দেশগুলোর মধ্যে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ব্যবসায়িক সম্পর্ক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করছে এবং বিশ্বকে আরো স্থিতিশীল ও সংকট মোকাবেলায় সক্ষম করে তুলছে।  

রাশিয়ার ওপর ৩০ হাজারের বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে দাবি করে পুতিন বলেন, এটি বিশ্বের অন্য সব দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মোট সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। তবে এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও জাতীয় সার্বভৌমত্ব আরো শক্তিশালী করেছে মস্কো। শুধু তাই নয়, নির্ভরযোগ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতাও বাড়িয়েছে। 

গত চার বছরে রাশিয়ার বৈদেশিক বাণিজ্যের ভৌগোলিক পরিধিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে বলেও জানান পুতিন।

তিনি বলেন, গত তিন বছরে রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি ছিল। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির জিডিপি ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। অর্থনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি আরো শক্তিশালী, স্থিতিস্থাপক ও গতিশীল হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। 

পুতিনের ভাষ্য, ব্রিকস দেশগুলোর শক্তিশালী ব্যবসায়িক সম্পর্ক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি আরো দৃঢ় ও স্থিতিশীল করছে। ব্রিকসের নতুন বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম গঠনে রাশিয়ার উদ্যোগ অন্য সদস্যরা সমর্থন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।