Dhaka 10:24 pm, Tuesday, 8 September 2026
সর্বশেষ
আপিল বিভাগে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, এজলাস ছাড়লেন পাঁচ বিচারক কালই অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন, ফাঁস হলো দাম-ফিচারের তথ্য সব মাদরাসায় মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে : সংসদে শিক্ষামন্ত্রী জোড়া খুনের মামলায় কারাগারে ১০৪ বছরের নুর মুহাম্মদ বাড়ল একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদনের সময় নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মার্কিন ব্যাংকে ইরানের ৯০০ কোটি ডলার কক্সবাজারে দেড় লাখ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক ট্রেন চালুর বিষয়ে ভারত-বাংলাদেশ ইতিবাচক : সড়কমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৩ মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টনে ভারতের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জেমিনির পরামর্শ মেনে পাহাড়ে গিয়ে বিপদে ৩ পর্বতারোহী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 01:29:33 pm, Sunday, 6 September 2026
  • / 6 Time View

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর অতিরিক্ত ভরসা করে বিপদে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার তিন পর্বতারোহী। গুগলের এআই চ্যাটবট জেমিনির পরামর্শ নিয়ে মাউন্ট শাস্তা জয় করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পাহাড়ে পথ হারিয়ে রাত কাটাতে হয়েছে তাদের।

পরে উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় পাহাড় থেকে নামানো হয় তিনজনকে। 

ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

তিনজনই ক্যালিফোর্নিয়ার রোজভিলের বাসিন্দা। গত ২৯ আগস্ট তারা মাউন্ট শাস্তার ক্লিয়ার ক্রিক ট্রেইলহেড থেকে যাত্রা শুরু করেন।

প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যে অভিযান শেষ করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। এই পরিকল্পনায় তারা গুগল জেমিনি, ইউটিউব ও অলট্রেইলসের সহায়তা নিয়েছিলেন। 

পরদিন ভোর ৩টার দিকে প্রায় ৮ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় তৈরি করা ক্যাম্প থেকে চূড়ার উদ্দেশে রওনা দেন তারা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগে তাদের।

শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা মাউন্ট শাস্তার চূড়ায় পৌঁছান। অথচ নিরাপত্তার কারণে দুপুর ১২টার মধ্যে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। 

চূড়ায় পৌঁছানোর পর অন্ধকারেই নামতে শুরু করেন তিনজন। নামার প্রায় এক ঘণ্টা পর পথ নিয়ে সমস্যায় পড়েন তারা। দিকনির্দেশনার জন্য সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ে ফোনও করেন।

কিন্তু পরে নির্ধারিত পথ থেকে সরে গিয়ে মাড ক্রিক ক্যানিয়নের দিকে চলে যান। 

পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় কিছুক্ষণ পর। দলের একজন পড়ে গিয়ে হাঁটুতে গুরুতর আঘাত পান। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকা পড়ে তিনজনই রাত কাটাতে বাধ্য হন। তখন তারা ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েছিলেন।

উদ্ধারের পর জানা যায়, অভিযানের প্রস্তুতিতে তারা জেমিনির ওপর অনেকটাই নির্ভর করেছিলেন। বিশেষ করে খাবার ও পানি কতটা নিতে হবে, সে বিষয়েও এআইয়ের পরামর্শ নিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, জেমিনি তাদের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম খাবার ও পানি নিতে বলেছিল। আট ঘণ্টার অভিযান শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ অভিযানে পরিণত হওয়ায় সেই ঘাটতি বড় সমস্যায় পরিণত হয়।

পরদিন সকালে প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের ক্লাইম্বিং রেঞ্জাররা তাদের খুঁজে পান। আহত পর্বতারোহীকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তিনজনকে খাবার ও পানি দেওয়া হয়। পরে উদ্ধারকারীদের সঙ্গে হেঁটেই পাহাড় থেকে নামতে হয় তাদের।

উদ্ধার অভিযানও সহজ ছিল না। প্রবল বাতাসের কারণে হেলিকপ্টারে উদ্ধারের দুটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত রেঞ্জার ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের সঙ্গে পায়ে হেঁটেই পাহাড় থেকে নামেন তিনজন। পরে তাদের নিরাপদে ট্রেইলহেডে ফিরিয়ে আনা হয়।

ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেছে সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পাহাড়ে যাওয়ার আগে স্থানীয় রেঞ্জারদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধু এআইয়ের ওপর নির্ভর না করার ব্যাপারেও সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, এআই দৈনন্দিন নানা কাজে সহায়ক হলেও জীবন-মরণ পরিস্থিতিতে এর তথ্য যাচাই না করে অনুসরণ করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়, জঙ্গল বা দুর্গম এলাকায় অভিযানের ক্ষেত্রে স্থানীয় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, নির্ভরযোগ্য মানচিত্র ও পর্যাপ্ত জরুরি সরঞ্জাম সঙ্গে রাখার বিকল্প নেই।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জেমিনির পরামর্শ মেনে পাহাড়ে গিয়ে বিপদে ৩ পর্বতারোহী

Update Time : 01:29:33 pm, Sunday, 6 September 2026

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর অতিরিক্ত ভরসা করে বিপদে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার তিন পর্বতারোহী। গুগলের এআই চ্যাটবট জেমিনির পরামর্শ নিয়ে মাউন্ট শাস্তা জয় করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পাহাড়ে পথ হারিয়ে রাত কাটাতে হয়েছে তাদের।

পরে উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় পাহাড় থেকে নামানো হয় তিনজনকে। 

ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

তিনজনই ক্যালিফোর্নিয়ার রোজভিলের বাসিন্দা। গত ২৯ আগস্ট তারা মাউন্ট শাস্তার ক্লিয়ার ক্রিক ট্রেইলহেড থেকে যাত্রা শুরু করেন।

প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যে অভিযান শেষ করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। এই পরিকল্পনায় তারা গুগল জেমিনি, ইউটিউব ও অলট্রেইলসের সহায়তা নিয়েছিলেন। 

পরদিন ভোর ৩টার দিকে প্রায় ৮ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় তৈরি করা ক্যাম্প থেকে চূড়ার উদ্দেশে রওনা দেন তারা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগে তাদের।

শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা মাউন্ট শাস্তার চূড়ায় পৌঁছান। অথচ নিরাপত্তার কারণে দুপুর ১২টার মধ্যে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। 

চূড়ায় পৌঁছানোর পর অন্ধকারেই নামতে শুরু করেন তিনজন। নামার প্রায় এক ঘণ্টা পর পথ নিয়ে সমস্যায় পড়েন তারা। দিকনির্দেশনার জন্য সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ে ফোনও করেন।

কিন্তু পরে নির্ধারিত পথ থেকে সরে গিয়ে মাড ক্রিক ক্যানিয়নের দিকে চলে যান। 

পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় কিছুক্ষণ পর। দলের একজন পড়ে গিয়ে হাঁটুতে গুরুতর আঘাত পান। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকা পড়ে তিনজনই রাত কাটাতে বাধ্য হন। তখন তারা ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েছিলেন।

উদ্ধারের পর জানা যায়, অভিযানের প্রস্তুতিতে তারা জেমিনির ওপর অনেকটাই নির্ভর করেছিলেন। বিশেষ করে খাবার ও পানি কতটা নিতে হবে, সে বিষয়েও এআইয়ের পরামর্শ নিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, জেমিনি তাদের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম খাবার ও পানি নিতে বলেছিল। আট ঘণ্টার অভিযান শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ অভিযানে পরিণত হওয়ায় সেই ঘাটতি বড় সমস্যায় পরিণত হয়।

পরদিন সকালে প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের ক্লাইম্বিং রেঞ্জাররা তাদের খুঁজে পান। আহত পর্বতারোহীকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তিনজনকে খাবার ও পানি দেওয়া হয়। পরে উদ্ধারকারীদের সঙ্গে হেঁটেই পাহাড় থেকে নামতে হয় তাদের।

উদ্ধার অভিযানও সহজ ছিল না। প্রবল বাতাসের কারণে হেলিকপ্টারে উদ্ধারের দুটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত রেঞ্জার ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের সঙ্গে পায়ে হেঁটেই পাহাড় থেকে নামেন তিনজন। পরে তাদের নিরাপদে ট্রেইলহেডে ফিরিয়ে আনা হয়।

ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেছে সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পাহাড়ে যাওয়ার আগে স্থানীয় রেঞ্জারদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধু এআইয়ের ওপর নির্ভর না করার ব্যাপারেও সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, এআই দৈনন্দিন নানা কাজে সহায়ক হলেও জীবন-মরণ পরিস্থিতিতে এর তথ্য যাচাই না করে অনুসরণ করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়, জঙ্গল বা দুর্গম এলাকায় অভিযানের ক্ষেত্রে স্থানীয় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, নির্ভরযোগ্য মানচিত্র ও পর্যাপ্ত জরুরি সরঞ্জাম সঙ্গে রাখার বিকল্প নেই।