Dhaka 4:45 am, Sunday, 16 August 2026
সর্বশেষ
৮০ বছরে ভারত: দক্ষিণ এশীয় ভূরাজনীতি ও বাংলাদেশের প্রত্যাশা ভারতের সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্র: বাংলাদেশের জন্য যেসব শিক্ষা ও সুযোগ প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক রোডম্যাপ বাস্তবায়নে অদৃশ্য বাধা কোথায়? ফিফা আসিয়ান কাপে ভারতের জায়গায় বাংলাদেশ সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেব না : নাহিদ ইসলাম ক্রেতার পছন্দ, বিক্রেতার সুযোগ—আইসিসিবিতে ‘সুপার সেল কার বাজার’ বাংলাদেশকে ঘাঁটি বানানোর চেষ্টা একিউআইএসের, উদ্বেগ জাতিসংঘের জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ: সময়ের দাবি বিতর্কের ঊর্ধ্বে এক রাজনীতিকের রাষ্ট্রপতি হওয়ার যাত্রা অটোমোবাইলের ক্রেতা-বিক্রেতার সেতুবন্ধন করবে ‘সুপার সেল’

ভারতের সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্র: বাংলাদেশের জন্য যেসব শিক্ষা ও সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 02:29:21 pm, Saturday, 15 August 2026
  • / 8 Time View

১৫ আগস্ট ভারত তার ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে। ভৌগোলিক নৈকট্য, অভিন্ন ইতিহাস ও সংস্কৃতি, নদ-নদী, বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী সম্পর্ক—সব মিলিয়ে ভারতের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পথচলা বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে বিশাল এবং ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ভারত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান শক্তি। দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও কৌশলগত অবস্থানের প্রভাব শুধু প্রতিবেশী বাংলাদেশ নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার ওপরই পড়ে।

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার সময় ভারত ছিল দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অশিক্ষা ও দুর্বল অবকাঠামোর নানা সমস্যায় জর্জরিত। একই সঙ্গে এত বিপুল ভাষাগত, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কতটা স্থায়ী হতে পারবে, তা নিয়েও নানা মহলে সংশয় ছিল।

কিন্তু গত আট দশকে ভারতের অন্যতম বড় সাফল্য হলো সাংবিধানিক কাঠামো ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক হস্তক্ষেপের ইতিহাসের বিপরীতে ভারত নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য তৈরি করেছে।

বহুত্ববাদী সমাজকে একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে ধরে রাখার এই অভিজ্ঞতা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সামাজিক বিভাজনের মতো চ্যালেঞ্জ ভারতের বাস্তবতার বাইরে নয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মতপ্রকাশের পরিসর কতটা শক্তিশালী থাকে, সেটিও ভারতের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাধীনতার শুরুর দিকে খাদ্যসংকট ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করা ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি। কৃষি, শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ উৎপাদন, অবকাঠামো ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে ভারতের সক্ষমতা গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মহাকাশ গবেষণায় চন্দ্রযান ও মঙ্গলযানের সাফল্য দেখিয়েছে, সীমিত সম্পদের মধ্যেও উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন সম্ভব। একইভাবে বিপুল পরিমাণ টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা ভারতকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দিয়েছে।

ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি সেবা ও আর্থিক ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও ভারতের বড় পরিবর্তনের একটি দৃষ্টান্ত। বিপুল জনগোষ্ঠীকে প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনার এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্যও শিক্ষণীয়।

ভারতের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত অগ্রগতি পুরো অঞ্চলের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সড়ক, রেল ও নৌপথে যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়তে পারে। তবে এ ধরনের আঞ্চলিক সংযোগ অবশ্যই হতে হবে পারস্পরিক স্বার্থ, সমতা ও ন্যায্য সুবিধার ভিত্তিতে।

বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় দুই দেশের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়েছে। তারপরও কিছু বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন, সীমান্তে প্রাণহানি, বাণিজ্য ভারসাম্য এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানকে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা—এসব বিষয় দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক কেবল সহযোগিতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; মতপার্থক্যগুলো কীভাবে সমাধান করা হচ্ছে, তার ওপরও সম্পর্কের গভীরতা নির্ভর করে। তাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংবেদনশীলতা, কূটনৈতিক সংলাপ ও সমতার ভিত্তিতে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান জরুরি।

বাংলাদেশ ও ভারতের তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার মধ্যেও রয়েছে অনেক মিল। স্বাধীনতার ইতিহাস দুই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমান প্রজন্মের প্রধান প্রত্যাশা হলো দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা।

দুই দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল শক্তিতে পরিণত করতে পারলে আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি, শিক্ষা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে পারস্পরিক সহযোগিতা উভয় দেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

ভারতের শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তার বৈচিত্র্যকে ধারণ করার সক্ষমতা। একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য যেমন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা প্রয়োজন, তেমনি প্রতিবেশী হিসেবে একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভারত পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই ইতিবাচক শক্তি হতে পারে।

বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বাধীন ও সার্বভৌম দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেই ভারতের ৮০ বছরের অর্জনকে মূল্যায়ন করে। দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা, স্বচ্ছতা এবং একে অপরের জাতীয় স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে।

ভারত তার অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সক্ষমতাকে কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ নির্মাণ এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গঠনে কাজে লাগাতে পারে, তার ওপরই আঞ্চলিক ভবিষ্যতের বড় অংশ নির্ভর করবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক তাই কেবল দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্ক নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও শান্তির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। আগামী দিনের পথচলায় আস্থা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক মর্যাদা যত বেশি গুরুত্ব পাবে, দুই দেশের সম্পর্কও তত বেশি টেকসই ও ফলপ্রসূ হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভারতের সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্র: বাংলাদেশের জন্য যেসব শিক্ষা ও সুযোগ

Update Time : 02:29:21 pm, Saturday, 15 August 2026

১৫ আগস্ট ভারত তার ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে। ভৌগোলিক নৈকট্য, অভিন্ন ইতিহাস ও সংস্কৃতি, নদ-নদী, বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী সম্পর্ক—সব মিলিয়ে ভারতের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পথচলা বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে বিশাল এবং ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ভারত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান শক্তি। দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও কৌশলগত অবস্থানের প্রভাব শুধু প্রতিবেশী বাংলাদেশ নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার ওপরই পড়ে।

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার সময় ভারত ছিল দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অশিক্ষা ও দুর্বল অবকাঠামোর নানা সমস্যায় জর্জরিত। একই সঙ্গে এত বিপুল ভাষাগত, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কতটা স্থায়ী হতে পারবে, তা নিয়েও নানা মহলে সংশয় ছিল।

কিন্তু গত আট দশকে ভারতের অন্যতম বড় সাফল্য হলো সাংবিধানিক কাঠামো ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক হস্তক্ষেপের ইতিহাসের বিপরীতে ভারত নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য তৈরি করেছে।

বহুত্ববাদী সমাজকে একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে ধরে রাখার এই অভিজ্ঞতা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সামাজিক বিভাজনের মতো চ্যালেঞ্জ ভারতের বাস্তবতার বাইরে নয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মতপ্রকাশের পরিসর কতটা শক্তিশালী থাকে, সেটিও ভারতের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাধীনতার শুরুর দিকে খাদ্যসংকট ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করা ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি। কৃষি, শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ উৎপাদন, অবকাঠামো ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে ভারতের সক্ষমতা গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মহাকাশ গবেষণায় চন্দ্রযান ও মঙ্গলযানের সাফল্য দেখিয়েছে, সীমিত সম্পদের মধ্যেও উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন সম্ভব। একইভাবে বিপুল পরিমাণ টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা ভারতকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দিয়েছে।

ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি সেবা ও আর্থিক ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও ভারতের বড় পরিবর্তনের একটি দৃষ্টান্ত। বিপুল জনগোষ্ঠীকে প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনার এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্যও শিক্ষণীয়।

ভারতের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত অগ্রগতি পুরো অঞ্চলের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সড়ক, রেল ও নৌপথে যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়তে পারে। তবে এ ধরনের আঞ্চলিক সংযোগ অবশ্যই হতে হবে পারস্পরিক স্বার্থ, সমতা ও ন্যায্য সুবিধার ভিত্তিতে।

বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় দুই দেশের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়েছে। তারপরও কিছু বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন, সীমান্তে প্রাণহানি, বাণিজ্য ভারসাম্য এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানকে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা—এসব বিষয় দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক কেবল সহযোগিতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; মতপার্থক্যগুলো কীভাবে সমাধান করা হচ্ছে, তার ওপরও সম্পর্কের গভীরতা নির্ভর করে। তাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংবেদনশীলতা, কূটনৈতিক সংলাপ ও সমতার ভিত্তিতে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান জরুরি।

বাংলাদেশ ও ভারতের তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার মধ্যেও রয়েছে অনেক মিল। স্বাধীনতার ইতিহাস দুই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমান প্রজন্মের প্রধান প্রত্যাশা হলো দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা।

দুই দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল শক্তিতে পরিণত করতে পারলে আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি, শিক্ষা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে পারস্পরিক সহযোগিতা উভয় দেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

ভারতের শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তার বৈচিত্র্যকে ধারণ করার সক্ষমতা। একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য যেমন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা প্রয়োজন, তেমনি প্রতিবেশী হিসেবে একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভারত পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই ইতিবাচক শক্তি হতে পারে।

বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বাধীন ও সার্বভৌম দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেই ভারতের ৮০ বছরের অর্জনকে মূল্যায়ন করে। দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা, স্বচ্ছতা এবং একে অপরের জাতীয় স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে।

ভারত তার অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সক্ষমতাকে কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ নির্মাণ এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গঠনে কাজে লাগাতে পারে, তার ওপরই আঞ্চলিক ভবিষ্যতের বড় অংশ নির্ভর করবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক তাই কেবল দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্ক নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও শান্তির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। আগামী দিনের পথচলায় আস্থা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক মর্যাদা যত বেশি গুরুত্ব পাবে, দুই দেশের সম্পর্কও তত বেশি টেকসই ও ফলপ্রসূ হবে।