Dhaka 5:25 am, Friday, 7 August 2026
সর্বশেষ
থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় কফি ব্র্যান্ড ক্যাফে আমাজনের বাংলাদেশ অধ্যায় শুরু Biography of Rahat SIKDAR অ্যালগরিদম কি জনমত নিয়ন্ত্রণ করছে? জুলাই অভ্যুত্থানের আলোকে বিশ্লেষণ পুরোনো শিশু নির্যাতন অভিযোগে ফের আলোচনায় পাকিস্তানের প্রভাবশালী নেতা হাজারো আউটলেটের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ক্যাফে আমাজনের যাত্রা বাংলাদেশে আইএমএফের পূর্বাভাস: চার বছরের মধ্যে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি ভারত ‘জার্নাল অব নোয়াখালী সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি’র মোড়ক উন্মোচন রক্তদানের পাশাপাশি বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা: নোবিপ্রবিতে দিনব্যাপী আয়োজন ‘অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে’ অচেনা নোবিপ্রবি এবং আমাদের প্রথম বন্ধু দিবস

আইএমএফের পূর্বাভাস: চার বছরের মধ্যে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 10:50:31 am, Thursday, 6 August 2026
  • / 15 Time View

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) সর্বশেষ প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভারতের অর্থনীতি ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করতে পারে। সম্প্রতি ভারতের রাজ্যসভায় এক লিখিত জবাবে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এ তথ্য জানিয়েছেন।

আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (এপ্রিল ২০২৬) প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান মূল্যে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ৫.১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কৃষি, উৎপাদনশিল্প, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই), অবকাঠামো, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং উচ্চপ্রযুক্তি খাতকে কেন্দ্র করে সমন্বিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কৌশল গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য সামনে রেখে বিভিন্ন সংস্কার ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

উৎপাদন ও শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ‘প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI)’, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘পিএম গতিশক্তি’ এবং নতুন লজিস্টিকস নীতির আওতায় দেশীয় উৎপাদন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জরুরি ঋণ নিশ্চয়তা প্রকল্প (ECGS), ‘উদ্যম রেজিস্ট্রেশন’ এবং ‘পিএম বিশ্বকর্মা’ কর্মসূচির মাধ্যমে এমএসএমই খাতকে আরও শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCC) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)ভিত্তিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জাতীয় আতিথেয়তা ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক মেডিকেল হাব এবং অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং ও কমিকস (AVGC) খাতের জন্য কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব স্থাপনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং বায়োফার্মাসিউটিক্যালসের মতো কৌশলগত শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ‘পিএম-সেতু (PM-SETU)’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কৃষি খাতে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ফসলের বহুমুখীকরণ এবং বাজারজাতকরণ সহজ করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্প্রসারণ, পণ্য ও সেবা কর (GST) এবং আয়কর সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

এদিকে, রাজ্যসভায় আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সারফায়েসাই (SARFAESI) আইনের আওতায় খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলো ১ লাখ ৩ হাজার ১৮০ কোটি রুপির দাবির বিপরীতে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭০৯টি মামলা দায়ের করেছে। এসব মামলার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩২ হাজার ৪৬৬ কোটি রুপি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আইএমএফের পূর্বাভাস: চার বছরের মধ্যে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি ভারত

Update Time : 10:50:31 am, Thursday, 6 August 2026

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) সর্বশেষ প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভারতের অর্থনীতি ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করতে পারে। সম্প্রতি ভারতের রাজ্যসভায় এক লিখিত জবাবে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এ তথ্য জানিয়েছেন।

আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (এপ্রিল ২০২৬) প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান মূল্যে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ৫.১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কৃষি, উৎপাদনশিল্প, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই), অবকাঠামো, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং উচ্চপ্রযুক্তি খাতকে কেন্দ্র করে সমন্বিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কৌশল গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য সামনে রেখে বিভিন্ন সংস্কার ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

উৎপাদন ও শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ‘প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI)’, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘পিএম গতিশক্তি’ এবং নতুন লজিস্টিকস নীতির আওতায় দেশীয় উৎপাদন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জরুরি ঋণ নিশ্চয়তা প্রকল্প (ECGS), ‘উদ্যম রেজিস্ট্রেশন’ এবং ‘পিএম বিশ্বকর্মা’ কর্মসূচির মাধ্যমে এমএসএমই খাতকে আরও শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCC) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)ভিত্তিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জাতীয় আতিথেয়তা ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক মেডিকেল হাব এবং অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং ও কমিকস (AVGC) খাতের জন্য কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব স্থাপনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং বায়োফার্মাসিউটিক্যালসের মতো কৌশলগত শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ‘পিএম-সেতু (PM-SETU)’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কৃষি খাতে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ফসলের বহুমুখীকরণ এবং বাজারজাতকরণ সহজ করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্প্রসারণ, পণ্য ও সেবা কর (GST) এবং আয়কর সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

এদিকে, রাজ্যসভায় আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সারফায়েসাই (SARFAESI) আইনের আওতায় খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলো ১ লাখ ৩ হাজার ১৮০ কোটি রুপির দাবির বিপরীতে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭০৯টি মামলা দায়ের করেছে। এসব মামলার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩২ হাজার ৪৬৬ কোটি রুপি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।