Dhaka 1:42 am, Sunday, 12 July 2026
সর্বশেষ
বাবার রক্তের বদলা নেওয়ার হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির টানা ১২ দিন বিচ্ছিন্ন সেন্টমার্টিন, খাদ্য-ওষুধ সংকট ও বিদ্যুৎহীনতায় চরম দুর্ভোগ শিল্প খাত ভালো থাকলে রাজস্ব ও কর্মসংস্থানও বাড়বে: অর্থমন্ত্রী আবাসন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিমালা সংশোধনের আহ্বান ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সিরিয়াসলি চিন্তা করুন: প্রধানমন্ত্রী বিষ্ণুদিয়া টেকনিক্যাল স্কুলে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ উদযাপন এবার তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করতে চান প্রধানমন্ত্রী মাঠের বাইরে সবচেয়ে বড় ম্যাচ: ক্ষমতা বনাম ফুটবল বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয় ঢাকা

টানা ১২ দিন বিচ্ছিন্ন সেন্টমার্টিন, খাদ্য-ওষুধ সংকট ও বিদ্যুৎহীনতায় চরম দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার:
  • Update Time : 07:37:55 am, Saturday, 11 July 2026
  • / 40 Time View

বৈরী আবহাওয়ার কারণে টানা প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন ধরে টেকনাফে আটকা পড়ে আছেন সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রায় দুই শতাধিক বাসিন্দা। একই সঙ্গে টানা বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসে দ্বীপের জনজীবন চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে।

ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে দ্বীপের অধিকাংশ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ২নং ওয়ার্ডের মাঝেরপাড়া এবং ৪ ও ৬নং ওয়ার্ডের অনেক বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার সংকটে রয়েছেন। এছাড়া দ্বীপে দেখা দিয়েছে খাদ্যপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও জরুরি ওষুধের সংকট।

দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
সাবেক ইউপি সদস্য ও সেন্টমার্টিন বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খান তার ফেসবুক পোস্টে জানান, অনেকেই ব্যক্তিগত প্রয়োজন কিংবা চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কাজে এক-দুই দিনের জন্য টেকনাফে গিয়েছিলেন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া ও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারির কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপে ফিরতে পারছেন না।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিদিন আলোচনায় আসছে।
তিনি বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সেন্টমার্টিনবাসী সরকারের কাছে একটি সি-ট্রাক ও একটি সি-অ্যাম্বুলেন্সের দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্বীপবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
হাবিবুর রহমান খান আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দ্বীপে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, নিত্যপণ্য ও বিভিন্ন রোগীর জরুরি ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।

কোনোভাবে পণ্য দ্বীপে পৌঁছালেও পরিবহন ব্যয়, শ্রমিক খরচ এবং বিভিন্ন পর্যায়ে ইজারা বাবদ অতিরিক্ত ব্যয় যোগ হওয়ায় ব্যবসায়ীদের দ্বিগুণ দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকলে পণ্য দিনের পর দিন আটকে থাকে। এতে কাঁচামাল নষ্ট হয়ে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়।


তার ভাষ্য, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ধারাবাহিক লোকসান সামাল দিতে না পেরে অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার পরিস্থিতিতে পড়েছেন। পাশাপাশি দ্বীপে ব্যাংকিং সুবিধা সীমিত থাকায় ব্যবসায়ীরা সহজে ঋণও পান না। তিনি বাজারের ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চালুরও দাবি জানান।


এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা এরশাদ মুন্না বলেন, “দ্বীপের বিদ্যুৎ সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। বিকেলের পর থেকেই বিদ্যুৎ চলে যায়, যা অনেক সময় পরদিন সকাল পর্যন্তও থাকে না। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। আজ টানা ১২ দিন ধরে দ্বীপে কার্যত বিদ্যুৎ নেই।”

তিনি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ, চিকিৎসা ও বিদ্যুৎসহ মৌলিক সেবার সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় সেন্টমার্টিনবাসী বছরের পর বছর দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে।


এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ এবং সেন্টমার্টিনের জন্য স্থায়ী ও নিরাপদ নৌ-যোগাযোগ, একটি সি-ট্রাক, একটি সি-অ্যাম্বুলেন্স এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন দ্বীপের বাসিন্দারা।

এসকাগজ/আরডি

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

টানা ১২ দিন বিচ্ছিন্ন সেন্টমার্টিন, খাদ্য-ওষুধ সংকট ও বিদ্যুৎহীনতায় চরম দুর্ভোগ

Update Time : 07:37:55 am, Saturday, 11 July 2026

বৈরী আবহাওয়ার কারণে টানা প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন ধরে টেকনাফে আটকা পড়ে আছেন সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রায় দুই শতাধিক বাসিন্দা। একই সঙ্গে টানা বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসে দ্বীপের জনজীবন চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে।

ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে দ্বীপের অধিকাংশ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ২নং ওয়ার্ডের মাঝেরপাড়া এবং ৪ ও ৬নং ওয়ার্ডের অনেক বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার সংকটে রয়েছেন। এছাড়া দ্বীপে দেখা দিয়েছে খাদ্যপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও জরুরি ওষুধের সংকট।

দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
সাবেক ইউপি সদস্য ও সেন্টমার্টিন বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খান তার ফেসবুক পোস্টে জানান, অনেকেই ব্যক্তিগত প্রয়োজন কিংবা চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কাজে এক-দুই দিনের জন্য টেকনাফে গিয়েছিলেন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া ও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারির কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপে ফিরতে পারছেন না।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিদিন আলোচনায় আসছে।
তিনি বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সেন্টমার্টিনবাসী সরকারের কাছে একটি সি-ট্রাক ও একটি সি-অ্যাম্বুলেন্সের দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্বীপবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
হাবিবুর রহমান খান আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দ্বীপে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, নিত্যপণ্য ও বিভিন্ন রোগীর জরুরি ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।

কোনোভাবে পণ্য দ্বীপে পৌঁছালেও পরিবহন ব্যয়, শ্রমিক খরচ এবং বিভিন্ন পর্যায়ে ইজারা বাবদ অতিরিক্ত ব্যয় যোগ হওয়ায় ব্যবসায়ীদের দ্বিগুণ দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকলে পণ্য দিনের পর দিন আটকে থাকে। এতে কাঁচামাল নষ্ট হয়ে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়।


তার ভাষ্য, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ধারাবাহিক লোকসান সামাল দিতে না পেরে অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার পরিস্থিতিতে পড়েছেন। পাশাপাশি দ্বীপে ব্যাংকিং সুবিধা সীমিত থাকায় ব্যবসায়ীরা সহজে ঋণও পান না। তিনি বাজারের ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চালুরও দাবি জানান।


এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা এরশাদ মুন্না বলেন, “দ্বীপের বিদ্যুৎ সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। বিকেলের পর থেকেই বিদ্যুৎ চলে যায়, যা অনেক সময় পরদিন সকাল পর্যন্তও থাকে না। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। আজ টানা ১২ দিন ধরে দ্বীপে কার্যত বিদ্যুৎ নেই।”

তিনি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ, চিকিৎসা ও বিদ্যুৎসহ মৌলিক সেবার সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় সেন্টমার্টিনবাসী বছরের পর বছর দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে।


এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ এবং সেন্টমার্টিনের জন্য স্থায়ী ও নিরাপদ নৌ-যোগাযোগ, একটি সি-ট্রাক, একটি সি-অ্যাম্বুলেন্স এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন দ্বীপের বাসিন্দারা।

এসকাগজ/আরডি