Dhaka 11:49 pm, Monday, 6 July 2026
সর্বশেষ

ব্যক্তি আক্রোশের শিকার এনবিআরের বহু কর্মকর্তা কর্মচারি, দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 02:16:07 pm, Monday, 6 July 2026
  • / 10 Time View

আবদুর রহমান শ্বেতপত্র-১
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের ব্যক্তি আক্রোশের শিকার এনবিআরের বহু কর্মকর্তা কর্মচারি, তার বিরুদ্ধে উঠেছে বহু দুর্নীতির অভিযোগও।

২০২৫ সালের জুনে তিনি সরকার ও এনবিআর কর্মকর্তাদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁর ষড়যন্ত্রে চাকরি হারান অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারি। এছাড়া চাকরির মেয়াদ ফুরানোর আগে আবারও চেয়ারম্যান হওয়ার লোভে নিজেকে বিএনপি ঘনিষ্ঠ প্রমাণ করতে জোর লবিং করেছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালে জামায়াত ঘনিষ্ঠ সদ্যবিদায়ী এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

জানা গেছে, এনবিআর দুই ভাগ করার ইস্যুতে বিসিএস আয়কর ও বিসিএস কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে থাকা অসন্তোষ বাড়ানোর পথেই হেঁটেছেন আবদুর রহমান। তার কারণেই কর্মকর্তারা ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে আন্দোলনের পথে হাঁটেন। আন্দোলনে অংশ নেয়া কর্মকর্তাদের বদলি করে তিনি আগুণে প্রথম ঘি ঢালা শুরু করেন। এরপর থেকে আন্দোলন আরো জোরালো হতে থাকে। যা কর্মবিরতি, কলমবিরতি থেকে আন্দোলনের পরিণতি আমদানি-রফতানি বন্ধে রূপ নেয়।

তখন কর্মকর্তা কর্মচারিদের চাকরি খাওয়ার নেশায় মত্ত হয়ে ওঠেন আবদুর রহমান। সৎ ও মেধাবী চারজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠান তিনি। তাদের মধ্যে তিনজন ছিলেন এনবিআরের সদস্য ও একজন কমিশনার। এছাড়া বিভিন্ন পদের প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন তিনি। পরে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা পেয়ে তারা আবারও চাকরিতে বহাল হন অনেকে। যেখানে তার বিরুদ্ধে উঠেছে তদবির ও দুর্নীতির অভিযোগ। তার এই তোপ থেকে রেহাই পায়নি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারিও। প্রশ্ন উঠেছে, এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিম্নপদস্থ কর্মচারিদের শাস্তি দেয়ার উদ্দেশ্য নিয়েও।

আবদুর রহমানের আক্রোশের প্রথম শিকার যুগ্ম কর কমিশনার শামসুজ্জামান। তাকে মিথ্যা অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে এবিষয়ে দুদক অনুসন্ধান করে। দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তাতে দেখা যায়, ২০২১ সালে এসআলমের দুই ছেলে আশরাফুল আলম ও আসাদুল আলম ভুয়া দুইটি পেঅর্ডার ব্যবহার করে সরকারের ৭৫ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়।

এবিষয়ে প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, করফাঁকির প্রকৃত সময়কাল ১৯ ডিসেম্বর ২০২১ এবং ২০ ডিসেম্বর ২০২১। কিন্তু শামসুজ্জামান যুগ্ম কর কমিশনার হিসেবে কর ফাঁকির কর অঞ্চলের যোগদান করেন ২০ এপ্রিল ২০২২ সালে। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, শামসুজ্জামান কর ফাঁকির সময় ওই কর অঞ্চলে ছিলেন না।

এছাড়া ২০২২ সালের জুন মাসে শামসুজ্জামান কর ফাঁকি যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে আশরাফুল আলম ও আসাদুল আলমকে ব্যাখ্যা দাখিল করতে চিঠি দেন। ওই দুইজন পাল্টা চিঠিতে জানান, তারা ভুয়া পেঅর্ডার দেয়নি। পরে শামসুজ্জামান ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংকের কাছে চিঠি দেন সত্যতা যাচাই করতে। ব্যাংকও জানায় পেঅর্ডারটি ভুয়া নয়। তবে এরপরে এই বিষয়ে ডেইলি স্টারে একটি সংবাদ প্রকাশ হলে, এনবিআর এবং দুদকের তদন্তে পেঅর্ডারটি ভুয়া ছিলো বলে প্রমাণিত হয়, যা শামসুজ্জামানের সন্দেহ ও চিঠি দ্বারাই প্রথমে উঠে আসে।

যে বিষয়টি যুগ্ম কর কমিশনার শামসুজ্জামান সন্দেহ করেছিলেন, সেই প্রতারণার বিষয়টিই তদন্তে উঠে আসে। যেহেতু এস.আলমের বিরুদ্ধে শামসুজ্জামান চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা নিতে চেয়েছেন, তাই এস.আলমের আর্থিক দোসর আবদুর রহমান বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। এবং বিনা অপরাধে শামসুজ্জামানকে ১১ নভেম্বর ২০২৫ সালে চেয়ারম্যানের ক্ষমতা অপব্যবহার করে শাস্তি দেন।

এবিষয়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিতের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে শামসুজ্জামান আবেদন জানালে, প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি বিষয়টি পুনতদন্তের জন্য ২০২৬ সালের জুন মাসে এনবিআরকে নির্দেশ দেয়। এবিষয়ে শামসুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে বিষয়টি বিচারাধীন বিষয় বলে এড়িয়ে যান। তবে নতুন তদন্তে পুরানো তদন্তকারীকেই আবারো শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্যে আবদুর রহমান নিয়োগ দিয়ে গেছেন। ফলে তার ন্যায় বিচার নিশ্চিত হওয়ায় সন্দেহ ঘণীভূত হয়েছে।

জানা গেছে, আবদুর রহমান ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাকে যেমন খুশি তেমন শাস্তি প্রদান করেছেন। এনবিআর এর যে সকল কর্মকর্তাকে তিনি শাস্তি দিয়েছেন তাদের সকলের তথ্য দৈনিক দিনকালের হাতে এসেছে। তার হাতে হয়রানির শিকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর ও শুল্ক বিভাগের কর্মরত কর্মকর্তাদের দন্ড প্রদানের ধরণ পর্যালোচনায় দেখা যায়, একই অপরাধে তিনি একেক জনকে নিজের খেয়াল খুশিমতো শাস্তি প্রদান করেছেন।

যেমন, মোনালিসা শারমিন সুস্মিতা যুগ্ম কর কমিশনার এর অপরাধ ছিল কর্মকর্তাদের বদলীর আদেশ জনসম্মুখে ছিড়ে ফেলা এবং সেই অপরাধে তাকে শাস্তি দেয়া হয় বেতন গ্রেডের প্রাথমিক ধাপে অবনমিতকরণ যা তিন বছরের জন্য বলবৎ থাকবে। একই অপরাধে জনাব হাসান মোহাম্মদ তারেক রিকাবদার, অতিরিক্ত কমিশনার, কাস্টমস, এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কর্মকর্তাকে বেতন স্কেলের তিন ধাপ অবনমিতকরণের লঘুদন্ড প্রদান করা হয়।

আবার সহকারী রাজস্ব আদায় বাধাগ্রস্থ করার দায়ে সেহেলা সিদ্দিকা, অতিরিক্ত কর কমিশনারকে বেতন স্কেলের দুই ধাপ নিম্নে অবনমিতকরণের লঘুদন্ড প্রদান করা হয়। জানা যায়, এই সেহেলা সিদ্দিকা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক আব্দুর রকিবের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ায় ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কর অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-১ ও পরিদর্শী রেঞ্জ-২ হিসেবে পদায়ন করা হয়।

অন্যদিকে একই অপরাধে কাস্টমস, এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কর্মকর্তা আলিমুল এহসান খানকে বেতন গ্রেডের প্রাথমিক ধাপে অবমনিতকরণ করা হয়, যাতে তিন বছরের জন্য সাজা বহাল হয়। এভাবে আবদুর রহমান এনবিআরের অসংখ্য অফিসারকে খেয়াল খুুশিমতো লঘুুদন্ড ও গুরুদন্ড বা সাজা প্রদান করেছেন।

আরো জানা যায়, আবদুর রহমানের ঘনিষ্টজন মহাপরিচালক আবদুর রকিব জামায়াতকে এনবিআর থেকে আর্থিকভাবে বিপুল সহায়তা দিয়ে আসছেন। বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের বিপাকে ফেলতে বা বিশেষ সুবিধা দিতে তিনি জামায়াতের পরামর্শ অনুযায়ী চলেন। এই আব্দুর রকিব এনবিআর বা আয়কর বিভাগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের মহাপরিচালক হিসেবে বছরের বেশি সময় ধরে বসে আছেন। এখনই তাকে সরানো না হলে দেশের আর্থিক খাত অচিরেই ধ্বংস হবে বলে এনবিআর কর্মকর্তারা মনে করছেন।া

আব্দুর রহমান খানের আয়কর নথির ২০২০-২০২১, ২০২১-২০২২ ও ২০২৩-২০২৪ করবর্ষের আয়কর নথির রেকর্ড অনুযায়ী ঢাকার লালমাটিয়া ও ধানমন্ডিতে নিজ নামে দুটি ফ্লাট রয়েছে। লালমাটিয়ার ফ্লাটটি ১০০০ বর্গফুটের আর ধানমন্ডির ফ্লাটটি ২৩৭৫ বর্গফুটের। ফ্লাট দুইটির দলিলে মূল্য ২ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা তিনি আয়কর নথিতে ঘোষণা দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে ফ্লাট দুটির মূল্য আরো অনেক বেশি। তার এক ছেলে এক মেয়ে অস্ট্রেলিয়ার বন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। এবং লেখাপড়ার খরচসহ তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বিপুল অর্থ পাচার করেছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ব্যক্তি আক্রোশের শিকার এনবিআরের বহু কর্মকর্তা কর্মচারি, দুর্নীতির অভিযোগ

Update Time : 02:16:07 pm, Monday, 6 July 2026

আবদুর রহমান শ্বেতপত্র-১
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের ব্যক্তি আক্রোশের শিকার এনবিআরের বহু কর্মকর্তা কর্মচারি, তার বিরুদ্ধে উঠেছে বহু দুর্নীতির অভিযোগও।

২০২৫ সালের জুনে তিনি সরকার ও এনবিআর কর্মকর্তাদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁর ষড়যন্ত্রে চাকরি হারান অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারি। এছাড়া চাকরির মেয়াদ ফুরানোর আগে আবারও চেয়ারম্যান হওয়ার লোভে নিজেকে বিএনপি ঘনিষ্ঠ প্রমাণ করতে জোর লবিং করেছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালে জামায়াত ঘনিষ্ঠ সদ্যবিদায়ী এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

জানা গেছে, এনবিআর দুই ভাগ করার ইস্যুতে বিসিএস আয়কর ও বিসিএস কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে থাকা অসন্তোষ বাড়ানোর পথেই হেঁটেছেন আবদুর রহমান। তার কারণেই কর্মকর্তারা ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে আন্দোলনের পথে হাঁটেন। আন্দোলনে অংশ নেয়া কর্মকর্তাদের বদলি করে তিনি আগুণে প্রথম ঘি ঢালা শুরু করেন। এরপর থেকে আন্দোলন আরো জোরালো হতে থাকে। যা কর্মবিরতি, কলমবিরতি থেকে আন্দোলনের পরিণতি আমদানি-রফতানি বন্ধে রূপ নেয়।

তখন কর্মকর্তা কর্মচারিদের চাকরি খাওয়ার নেশায় মত্ত হয়ে ওঠেন আবদুর রহমান। সৎ ও মেধাবী চারজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠান তিনি। তাদের মধ্যে তিনজন ছিলেন এনবিআরের সদস্য ও একজন কমিশনার। এছাড়া বিভিন্ন পদের প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন তিনি। পরে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা পেয়ে তারা আবারও চাকরিতে বহাল হন অনেকে। যেখানে তার বিরুদ্ধে উঠেছে তদবির ও দুর্নীতির অভিযোগ। তার এই তোপ থেকে রেহাই পায়নি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারিও। প্রশ্ন উঠেছে, এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিম্নপদস্থ কর্মচারিদের শাস্তি দেয়ার উদ্দেশ্য নিয়েও।

আবদুর রহমানের আক্রোশের প্রথম শিকার যুগ্ম কর কমিশনার শামসুজ্জামান। তাকে মিথ্যা অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে এবিষয়ে দুদক অনুসন্ধান করে। দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তাতে দেখা যায়, ২০২১ সালে এসআলমের দুই ছেলে আশরাফুল আলম ও আসাদুল আলম ভুয়া দুইটি পেঅর্ডার ব্যবহার করে সরকারের ৭৫ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়।

এবিষয়ে প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, করফাঁকির প্রকৃত সময়কাল ১৯ ডিসেম্বর ২০২১ এবং ২০ ডিসেম্বর ২০২১। কিন্তু শামসুজ্জামান যুগ্ম কর কমিশনার হিসেবে কর ফাঁকির কর অঞ্চলের যোগদান করেন ২০ এপ্রিল ২০২২ সালে। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, শামসুজ্জামান কর ফাঁকির সময় ওই কর অঞ্চলে ছিলেন না।

এছাড়া ২০২২ সালের জুন মাসে শামসুজ্জামান কর ফাঁকি যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে আশরাফুল আলম ও আসাদুল আলমকে ব্যাখ্যা দাখিল করতে চিঠি দেন। ওই দুইজন পাল্টা চিঠিতে জানান, তারা ভুয়া পেঅর্ডার দেয়নি। পরে শামসুজ্জামান ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংকের কাছে চিঠি দেন সত্যতা যাচাই করতে। ব্যাংকও জানায় পেঅর্ডারটি ভুয়া নয়। তবে এরপরে এই বিষয়ে ডেইলি স্টারে একটি সংবাদ প্রকাশ হলে, এনবিআর এবং দুদকের তদন্তে পেঅর্ডারটি ভুয়া ছিলো বলে প্রমাণিত হয়, যা শামসুজ্জামানের সন্দেহ ও চিঠি দ্বারাই প্রথমে উঠে আসে।

যে বিষয়টি যুগ্ম কর কমিশনার শামসুজ্জামান সন্দেহ করেছিলেন, সেই প্রতারণার বিষয়টিই তদন্তে উঠে আসে। যেহেতু এস.আলমের বিরুদ্ধে শামসুজ্জামান চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা নিতে চেয়েছেন, তাই এস.আলমের আর্থিক দোসর আবদুর রহমান বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। এবং বিনা অপরাধে শামসুজ্জামানকে ১১ নভেম্বর ২০২৫ সালে চেয়ারম্যানের ক্ষমতা অপব্যবহার করে শাস্তি দেন।

এবিষয়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিতের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে শামসুজ্জামান আবেদন জানালে, প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি বিষয়টি পুনতদন্তের জন্য ২০২৬ সালের জুন মাসে এনবিআরকে নির্দেশ দেয়। এবিষয়ে শামসুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে বিষয়টি বিচারাধীন বিষয় বলে এড়িয়ে যান। তবে নতুন তদন্তে পুরানো তদন্তকারীকেই আবারো শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্যে আবদুর রহমান নিয়োগ দিয়ে গেছেন। ফলে তার ন্যায় বিচার নিশ্চিত হওয়ায় সন্দেহ ঘণীভূত হয়েছে।

জানা গেছে, আবদুর রহমান ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাকে যেমন খুশি তেমন শাস্তি প্রদান করেছেন। এনবিআর এর যে সকল কর্মকর্তাকে তিনি শাস্তি দিয়েছেন তাদের সকলের তথ্য দৈনিক দিনকালের হাতে এসেছে। তার হাতে হয়রানির শিকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর ও শুল্ক বিভাগের কর্মরত কর্মকর্তাদের দন্ড প্রদানের ধরণ পর্যালোচনায় দেখা যায়, একই অপরাধে তিনি একেক জনকে নিজের খেয়াল খুশিমতো শাস্তি প্রদান করেছেন।

যেমন, মোনালিসা শারমিন সুস্মিতা যুগ্ম কর কমিশনার এর অপরাধ ছিল কর্মকর্তাদের বদলীর আদেশ জনসম্মুখে ছিড়ে ফেলা এবং সেই অপরাধে তাকে শাস্তি দেয়া হয় বেতন গ্রেডের প্রাথমিক ধাপে অবনমিতকরণ যা তিন বছরের জন্য বলবৎ থাকবে। একই অপরাধে জনাব হাসান মোহাম্মদ তারেক রিকাবদার, অতিরিক্ত কমিশনার, কাস্টমস, এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কর্মকর্তাকে বেতন স্কেলের তিন ধাপ অবনমিতকরণের লঘুদন্ড প্রদান করা হয়।

আবার সহকারী রাজস্ব আদায় বাধাগ্রস্থ করার দায়ে সেহেলা সিদ্দিকা, অতিরিক্ত কর কমিশনারকে বেতন স্কেলের দুই ধাপ নিম্নে অবনমিতকরণের লঘুদন্ড প্রদান করা হয়। জানা যায়, এই সেহেলা সিদ্দিকা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক আব্দুর রকিবের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ায় ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কর অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-১ ও পরিদর্শী রেঞ্জ-২ হিসেবে পদায়ন করা হয়।

অন্যদিকে একই অপরাধে কাস্টমস, এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কর্মকর্তা আলিমুল এহসান খানকে বেতন গ্রেডের প্রাথমিক ধাপে অবমনিতকরণ করা হয়, যাতে তিন বছরের জন্য সাজা বহাল হয়। এভাবে আবদুর রহমান এনবিআরের অসংখ্য অফিসারকে খেয়াল খুুশিমতো লঘুুদন্ড ও গুরুদন্ড বা সাজা প্রদান করেছেন।

আরো জানা যায়, আবদুর রহমানের ঘনিষ্টজন মহাপরিচালক আবদুর রকিব জামায়াতকে এনবিআর থেকে আর্থিকভাবে বিপুল সহায়তা দিয়ে আসছেন। বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের বিপাকে ফেলতে বা বিশেষ সুবিধা দিতে তিনি জামায়াতের পরামর্শ অনুযায়ী চলেন। এই আব্দুর রকিব এনবিআর বা আয়কর বিভাগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের মহাপরিচালক হিসেবে বছরের বেশি সময় ধরে বসে আছেন। এখনই তাকে সরানো না হলে দেশের আর্থিক খাত অচিরেই ধ্বংস হবে বলে এনবিআর কর্মকর্তারা মনে করছেন।া

আব্দুর রহমান খানের আয়কর নথির ২০২০-২০২১, ২০২১-২০২২ ও ২০২৩-২০২৪ করবর্ষের আয়কর নথির রেকর্ড অনুযায়ী ঢাকার লালমাটিয়া ও ধানমন্ডিতে নিজ নামে দুটি ফ্লাট রয়েছে। লালমাটিয়ার ফ্লাটটি ১০০০ বর্গফুটের আর ধানমন্ডির ফ্লাটটি ২৩৭৫ বর্গফুটের। ফ্লাট দুইটির দলিলে মূল্য ২ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা তিনি আয়কর নথিতে ঘোষণা দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে ফ্লাট দুটির মূল্য আরো অনেক বেশি। তার এক ছেলে এক মেয়ে অস্ট্রেলিয়ার বন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। এবং লেখাপড়ার খরচসহ তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বিপুল অর্থ পাচার করেছেন।