Dhaka 2:58 am, Wednesday, 24 June 2026

কাইল্যা পলাশ হামলা: তদন্তের কেন্দ্রে ইস্টার্ন হাউজিং কর্মকর্তা রিপন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 04:17:06 pm, Tuesday, 23 June 2026
  • / 16 Time View

দেশের অন্যতম রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কর্মকর্তা রিপনকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তারের পর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সময়ে রাজধানীর আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মারুফ সুলতান ওরফে ফেরদৌস নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

পুলিশ সূত্র জানায়, খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা সুজনের দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় রবিবার রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে ছয় দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, রাজধানীতে অবস্থিত ইস্টার্ন হাউজিংয়ের প্রধান কার্যালয় থেকে রিপনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাকে খিলগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রিপন এলাকায় চাঁদাবাজ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিদ্দিকুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে জমি দখলসহ নানা কর্মকাণ্ডে রিপনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাজধানীর রামপুরা এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশকে গুলির ঘটনার সঙ্গে রিপন ও ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

কাইল্যা পলাশকে গুলির ঘটনায় আরও একজন গ্রেপ্তার
এদিকে কাইল্যা পলাশকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় মারুফ সুলতান ওরফে ফেরদৌস (৩৭) নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩। রবিবার রাতে হাতিরঝিলের উত্তর নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলি এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, হাতিরঝিল এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কাইল্যা পলাশের সঙ্গে মারুফ সুলতান ও তার সহযোগীদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পলাশকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে পশ্চিম রামপুরার বিটিভি ভবনের বিপরীতে লাবিবা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সামনে পৌঁছালে পলাশকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালানো হয়। এতে তার মাথায় গুলি লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে তার ছেলে ইউসুফ খান পলক ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রামপুরার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পরদিন পলাশের স্ত্রী মাহমুদা খানম বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানকে। এছাড়া বাদশা ওরফে গুজা বাদশা, গলদা বাদশা, শান্ত ওরফে পিচ্চি শান্ত, সোলাইমান খন্দকার, ফারুক ওরফে চাচা ফারুক, হেবেল, মোল্লা জনি, ফিরোজ মোহাম্মদ মোল্লা, পিচ্চি আলামিন ওরফে তোতলা আলামিন এবং সজীবসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কাইল্যা পলাশ হামলা: তদন্তের কেন্দ্রে ইস্টার্ন হাউজিং কর্মকর্তা রিপন

Update Time : 04:17:06 pm, Tuesday, 23 June 2026

দেশের অন্যতম রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কর্মকর্তা রিপনকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তারের পর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সময়ে রাজধানীর আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মারুফ সুলতান ওরফে ফেরদৌস নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

পুলিশ সূত্র জানায়, খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা সুজনের দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় রবিবার রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে ছয় দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, রাজধানীতে অবস্থিত ইস্টার্ন হাউজিংয়ের প্রধান কার্যালয় থেকে রিপনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাকে খিলগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রিপন এলাকায় চাঁদাবাজ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিদ্দিকুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে জমি দখলসহ নানা কর্মকাণ্ডে রিপনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাজধানীর রামপুরা এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশকে গুলির ঘটনার সঙ্গে রিপন ও ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

কাইল্যা পলাশকে গুলির ঘটনায় আরও একজন গ্রেপ্তার
এদিকে কাইল্যা পলাশকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় মারুফ সুলতান ওরফে ফেরদৌস (৩৭) নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩। রবিবার রাতে হাতিরঝিলের উত্তর নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলি এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, হাতিরঝিল এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কাইল্যা পলাশের সঙ্গে মারুফ সুলতান ও তার সহযোগীদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পলাশকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে পশ্চিম রামপুরার বিটিভি ভবনের বিপরীতে লাবিবা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সামনে পৌঁছালে পলাশকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালানো হয়। এতে তার মাথায় গুলি লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে তার ছেলে ইউসুফ খান পলক ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রামপুরার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পরদিন পলাশের স্ত্রী মাহমুদা খানম বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানকে। এছাড়া বাদশা ওরফে গুজা বাদশা, গলদা বাদশা, শান্ত ওরফে পিচ্চি শান্ত, সোলাইমান খন্দকার, ফারুক ওরফে চাচা ফারুক, হেবেল, মোল্লা জনি, ফিরোজ মোহাম্মদ মোল্লা, পিচ্চি আলামিন ওরফে তোতলা আলামিন এবং সজীবসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।