বিএনপির ১৭ বছরের রাজনৈতিক লড়াই ও ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পটভূমি
- Update Time : 12:43:29 pm, Thursday, 11 June 2026
- / 10 Time View
স্টাফ রিপোর্টার: একটি গণ-অভ্যুত্থান বা বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন সাধারণত আকস্মিকভাবে ঘটে না; বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অসন্তোষ ও আন্দোলনের ধারাবাহিকতার ফল হিসেবে তা গড়ে ওঠে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসেও বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন একটির সঙ্গে আরেকটি যুক্ত হয়ে বড় পরিবর্তনের পটভূমি তৈরি করেছে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে যেমন ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল—তেমনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহও দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও আন্দোলনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন পরবর্তীতে বৃহত্তর সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনের পেছনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈষম্য, ভোটাধিকার নিয়ে বিতর্ক, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষ ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করা হয়।
রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০১ সালের নির্বাচনের পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নানা টানাপোড়েন, ক্ষমতার পালাবদল এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সরকারের দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকে। ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে অনেকেই সেই ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ঘিরে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্ক সৃষ্টি করে।
বিএনপির দাবি অনুযায়ী, এই সময়কালে দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাবন্দী থাকেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্বে থাকা তারেক রহমান প্রবাস থেকে দল পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই সময়ে তারা সংগঠনকে পুনর্গঠন এবং রাজনৈতিক আন্দোলনকে সমন্বিত করার চেষ্টা করেন।
২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন নিয়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পর্যবেক্ষক মহলের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনকে বিরোধী পক্ষ ‘রাতের ভোট’ হিসেবে অভিহিত করে নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংঘাত, মামলা-মোকদ্দমা ও সহিংসতার অভিযোগের মধ্যেই ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। আন্দোলনটি ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়ে সরকারবিরোধী গণ-আন্দোলনের রূপ নেয় বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ মনে করে।
এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি নেতারা দাবি করেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা এবং সংগঠনের তৃণমূল কাঠামো ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সঙ্গে এক ধরনের সংহতি তৈরি করে। তবে সরকারপক্ষ এ ধরনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনকে স্বতন্ত্র ছাত্র-জনতার উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করে।
২০২৪ সালের আগস্টের শুরুতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে, যা নিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলে নানা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও জনঅসন্তোষের একটি চূড়ান্ত প্রতিফলন।























