হংকংয়ে বহুতল আবাসিক ভবনে আগুন এখনও জ্বলছে, মৃত্যু বেড়ে ৫৫, নিখোঁজ ২৭৯
- Update Time : 10:09:34 am, Thursday, 27 November 2025
- / 44 Time View
একাধিক আবাসিক ভবনে কয়েক দশকের অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হংকংয়ে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের একদিন পরও হংকংয়ের ফায়ার সার্ভিস বিভাগ পুড়ে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধারে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৭৯ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই হাজার ইউনিটের আটটি ভবনের ওই আবাসিক এলাকায় আগুন লাগার ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পরও কিছু জানালায় আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছে। আর দমকলকর্মীরা কালো হয়ে যাওয়া ভবনগুলোর বাইরের দিকে পানি ছিটাচ্ছেন।
বিপর্যয়কর এই অগ্নিকাণ্ড কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে ভবনগুলো ঘিরে থাকা বাঁশের মাচা ও প্লাস্টিকের জালও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
হংকংয়ের দুর্নীতি দমন সংস্থা বলেছে, আবাসিক কমপ্লেক্সটির সংস্কারকাজ নিয়ে তারা তদন্ত শুরু করেছে। এর আগে পুলিশ বলেছিল, আগুন লাগার স্থানে অসাবধানতাবশত ফোমের প্যাকেজিং ফেলে রাখার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আটটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের মধ্যে চারটির আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। আরও তিনটির আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছেন বলে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে অপর একটি ভবনের তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
হংকংয়ের উত্তরাঞ্চল তাই পোতে অবস্থিত ওয়াং ফুক কোর্টের বাসিন্দারা এএফপিকে বলেছেন, তারা আগুনের বিষয়ে কোনও সতর্ক সংকেত পাননি এবং প্রতিবেশীদের সতর্ক করতে দরজায় দরজায় গিয়ে খবর দিতে হয়েছে।
সুইন নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল। আমি দেখলাম একটি মাত্র হোস পাইপ দিয়ে কয়েকটি ভবন বাঁচানোর চেষ্টা হচ্ছে। আমার মনে হয়েছে এটা খুবই ধীর।’’
‘‘ডোরবেল বাজানো, দরজায় নক, প্রতিবেশীদের সতর্ক করা, তাদের বের হয়ে যেতে বলা—পরিস্থিতি এমনই ছিল।’’
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও দমকলকর্মীরা ছাড়াও নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ছুটে আসেন। সেখানে একটি সহায়তা কেন্দ্র চালু করেছেন ৩৮ বছর বয়সী স্টোন। তিনি বলেন, ‘‘এটা সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। হংকংবাসীর মানসিকতা হলো, একজন বিপদে পড়লে সবাই এগিয়ে আসেন…।
তবে আবাসিক কমপ্লেক্সে আগুনের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ৫১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে মারা গেছেন আরও চারজন। এখনও ২৫০ জনের বেশি বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন। যে কারণে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছন তারা।
এই দুর্যোগের পর হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি বলেছেন, যেসব আবাসিক এলাকায় বড় ধরনের নির্মাণকাজ চলছে, সেগুলোতে অবিলম্বে পরিদর্শন শুরু করবে সরকার।
অগ্নিকাণ্ডে আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা ওয়াং সিক-কাম বলেছেন, তার ছেলে দমকলকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, আমার ছেলে ফোন করে আগুনের খবর জানায়… আমি ভেবেছিলাম এটা স্রেফ সাধারণ আগুন, রান্নাঘরের মতো কোনও দুর্ঘটনা, যা দ্রুত নেভানো হবে। কে জানত এটা এত ভয়াবহ হবে?











