Dhaka 3:45 pm, Thursday, 16 April 2026

‘বলতে পারবেন শেষ কবে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতেছে?’

স্পোর্টস ডেস্ক:
  • Update Time : 01:50:05 pm, Sunday, 26 October 2025
  • / 165 Time View

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৫১ ধাপ এগিয়ে থাকা থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচের প্রথমটিতে ৩-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ম্যাচ হেরে কোচ পিটার বাটলার কিছু খেলোয়াড়দের বিপক্ষে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তবে সোমবার দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচের আগে ইংলিশ কোচ আগের ভুলের পুনরাবৃত্তি চাইছেন না। থাকছেন বাস্তবেই। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের শক্তির তারতম্য বারবারই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।

ব্যাংককে শেষ ম্যাচের আগে আজ রবিবার বাটলার ভিডিও বার্তায় সন্তুষ্টির সুরে বলেছেন, ‘আমরা সিস্টেমে কিছুটা পরিবর্তন এনেছি। কিছু কিছু জায়গায় ঘাটতি রয়েছে, সেটা পূরণ করতে হবে বলে আমি মনে করি। আগের ম্যাচে মেয়েরা যেভাবে খেলেছে তা নিয়ে সত্যিকার অর্থে আমার কোনও সমস্যা নেই। তারা ভালো ফুটবল খেলেছে বলেই মনে করি। তবে আমরা মৌলিক কিছু ভুল করেছি— যেমন প্রথম ৪৫ সেকেন্ডে গোল হজম করা এবং তা সবসময় পাহাড়সম চাপ বয়ে আনে। তবে অনুশীলনে মেয়েদের মানসিকতা খুবই ভালো ছিল। আমি সন্তুষ্ট।’

যাদের নিয়ে সমস্যা হয়েছিল তাদের সঙ্গে কথাও বলেছেন বাটলার। তাই বলেছেন, ‘কয়েকজনের সঙ্গে আমি আলাদাভাবে কথা বলেছি। তাদের অ্যাপ্রোচ ও মাইন্ডসেট নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। বিশেষ করে এক-দুজন আছে, যাদের সত্যিকারের ম্যাচ উইনার মনে করি এবং আগের ম্যাচে তারা তাদের সামর্থ্যটা মেলে ধরতে পারেনি।’

থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ নারী দল জিততে পারেনি। হারের ব্যবধানও আগে বড় ছিল। সবাই জয় প্রত্যাশা করলেও বাটলার বাস্তববাদী। প্রশ্ন রেখে বলেছেন, ‘আমাকে বলতে পারবেন শেষ কবে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতেছে? বলতে পারবেন না… তাই না। জীবনে কখনও কখনও কী চাই সেটা নিয়ে সাবধানী থাকতে হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা একটা মোমেন্টাম তৈরি করছি। কিছুটা অপারেশন রিসেটের মতো। ৯ ফুটবলার আমাদের সঙ্গে কেবল দুদিন অনুশীলন করেছে, যারা দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শেষবার যখন বাংলাদেশ থাইল্যান্ডে খেলেছে, তখন ৬ কিংবা ৭-০ (আসলে ৯-০) গোলে হেরেছিল মনে হয়। তাই হ্যাঁ, আমরা জিততে চাই। যেমন খেলি না কেন, সব খেলায় জিততে চাই। তবে সব কিছু বিচার করে বাস্তবতাও মাথায় রাখতে হবে।’

বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের সমকক্ষ নয়। বাটলার তা বার বারই মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা থাইল্যান্ডের পর্যায়ে নেই। এ ব্যাপারে আমাদের সৎ থাকতে হবে। তারা খুবই ভালো দল এবং সেটা তারা দেখাবেও। তারা সম্ভবত পুরো ভিন্ন এক দল মাঠে নামাবে। অনেক সময় বেঞ্চ দেখে দলের শক্তি বোঝা যায়। তাদের বেঞ্চ দেখে মনে হলো এখানে আরেকটা দল বসে আছে। তাই আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। যদি আমরা মানদণ্ড দাঁড় করানোর ও আরও পেশাদার হওয়ার কথা বলি, বড় কিছু কল্পনা করার আগে আমাদের সেই জায়গায় পৌঁছাতে হবে। যেখানে আমরা থাইল্যান্ডের মতো জায়গায় এসে ম্যাচ জেতার কথা ভাবতে পারি।’

থাইল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের প্রসঙ্গ আসতেই বাটলার ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, ‘আমি বাস্তবে বাস করি, কল্পনার জগতে নয়। আমি চাই মানুষ কিছু বলার আগে একটু ভাবুক। এটাও মাথায় রাখতে হবে চাইনিজ তাইপের পর আমরা ঘরের মাঠে কোনও ম্যাচ খেলিনি। এখন দেশের বাইরে জেতা নিয়ে কথা বলা যায়। খেলার মধ্যে অনেক কিছুই থাকে, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলে। আমি কাউকে দোষ দিতে পছন্দ করি না এবং অজুহাতও দিই না। তবে দেশের বাইরে জেতার চেয়ে ঘরের মাঠে ম্যাচ জেতা অনেক সহজ।’

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘বলতে পারবেন শেষ কবে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতেছে?’

Update Time : 01:50:05 pm, Sunday, 26 October 2025

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৫১ ধাপ এগিয়ে থাকা থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচের প্রথমটিতে ৩-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ম্যাচ হেরে কোচ পিটার বাটলার কিছু খেলোয়াড়দের বিপক্ষে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তবে সোমবার দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচের আগে ইংলিশ কোচ আগের ভুলের পুনরাবৃত্তি চাইছেন না। থাকছেন বাস্তবেই। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের শক্তির তারতম্য বারবারই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।

ব্যাংককে শেষ ম্যাচের আগে আজ রবিবার বাটলার ভিডিও বার্তায় সন্তুষ্টির সুরে বলেছেন, ‘আমরা সিস্টেমে কিছুটা পরিবর্তন এনেছি। কিছু কিছু জায়গায় ঘাটতি রয়েছে, সেটা পূরণ করতে হবে বলে আমি মনে করি। আগের ম্যাচে মেয়েরা যেভাবে খেলেছে তা নিয়ে সত্যিকার অর্থে আমার কোনও সমস্যা নেই। তারা ভালো ফুটবল খেলেছে বলেই মনে করি। তবে আমরা মৌলিক কিছু ভুল করেছি— যেমন প্রথম ৪৫ সেকেন্ডে গোল হজম করা এবং তা সবসময় পাহাড়সম চাপ বয়ে আনে। তবে অনুশীলনে মেয়েদের মানসিকতা খুবই ভালো ছিল। আমি সন্তুষ্ট।’

যাদের নিয়ে সমস্যা হয়েছিল তাদের সঙ্গে কথাও বলেছেন বাটলার। তাই বলেছেন, ‘কয়েকজনের সঙ্গে আমি আলাদাভাবে কথা বলেছি। তাদের অ্যাপ্রোচ ও মাইন্ডসেট নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। বিশেষ করে এক-দুজন আছে, যাদের সত্যিকারের ম্যাচ উইনার মনে করি এবং আগের ম্যাচে তারা তাদের সামর্থ্যটা মেলে ধরতে পারেনি।’

থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ নারী দল জিততে পারেনি। হারের ব্যবধানও আগে বড় ছিল। সবাই জয় প্রত্যাশা করলেও বাটলার বাস্তববাদী। প্রশ্ন রেখে বলেছেন, ‘আমাকে বলতে পারবেন শেষ কবে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতেছে? বলতে পারবেন না… তাই না। জীবনে কখনও কখনও কী চাই সেটা নিয়ে সাবধানী থাকতে হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা একটা মোমেন্টাম তৈরি করছি। কিছুটা অপারেশন রিসেটের মতো। ৯ ফুটবলার আমাদের সঙ্গে কেবল দুদিন অনুশীলন করেছে, যারা দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শেষবার যখন বাংলাদেশ থাইল্যান্ডে খেলেছে, তখন ৬ কিংবা ৭-০ (আসলে ৯-০) গোলে হেরেছিল মনে হয়। তাই হ্যাঁ, আমরা জিততে চাই। যেমন খেলি না কেন, সব খেলায় জিততে চাই। তবে সব কিছু বিচার করে বাস্তবতাও মাথায় রাখতে হবে।’

বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের সমকক্ষ নয়। বাটলার তা বার বারই মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা থাইল্যান্ডের পর্যায়ে নেই। এ ব্যাপারে আমাদের সৎ থাকতে হবে। তারা খুবই ভালো দল এবং সেটা তারা দেখাবেও। তারা সম্ভবত পুরো ভিন্ন এক দল মাঠে নামাবে। অনেক সময় বেঞ্চ দেখে দলের শক্তি বোঝা যায়। তাদের বেঞ্চ দেখে মনে হলো এখানে আরেকটা দল বসে আছে। তাই আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। যদি আমরা মানদণ্ড দাঁড় করানোর ও আরও পেশাদার হওয়ার কথা বলি, বড় কিছু কল্পনা করার আগে আমাদের সেই জায়গায় পৌঁছাতে হবে। যেখানে আমরা থাইল্যান্ডের মতো জায়গায় এসে ম্যাচ জেতার কথা ভাবতে পারি।’

থাইল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের প্রসঙ্গ আসতেই বাটলার ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, ‘আমি বাস্তবে বাস করি, কল্পনার জগতে নয়। আমি চাই মানুষ কিছু বলার আগে একটু ভাবুক। এটাও মাথায় রাখতে হবে চাইনিজ তাইপের পর আমরা ঘরের মাঠে কোনও ম্যাচ খেলিনি। এখন দেশের বাইরে জেতা নিয়ে কথা বলা যায়। খেলার মধ্যে অনেক কিছুই থাকে, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলে। আমি কাউকে দোষ দিতে পছন্দ করি না এবং অজুহাতও দিই না। তবে দেশের বাইরে জেতার চেয়ে ঘরের মাঠে ম্যাচ জেতা অনেক সহজ।’