Dhaka 5:56 am, Saturday, 26 September 2026
সর্বশেষ
চার সাংবাদিকের পরিবারের হাতে ২০ লাখ টাকার সহায়তা তুলে দিল এবিজি বসুন্ধরায় গলফের নতুন অভিজ্ঞতা, থাকছে ২০৭ ইনডোর কোর্স দুই বছরের মেয়াদ পূর্ণের আগেই স্থায়ী, ২২ বিচারপতি নিয়ে বিতর্ক আদালতের নির্দেশ ছাড়া একাধিক মামলার সাজা একই সঙ্গে চলার সুযোগ নেই কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ জামায়াত ও আ. লীগের পুরনো প্রেম জাগ্রত হয়েছে : রাশেদ খান জাতিসংঘে শেহবাজ শরিফকে প্রশ্ন—হাফিজ সাঈদের বিচার করবেন? স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে এর বিকল্প অকল্পনীয় : খলিলুর রহমান শান্তি বিনির্মাণে আরো বিনিয়োগের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

বাঁশ দিয়ে সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব, এলজিইডির দুই কর্মকর্তা শাস্তির মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 05:54:54 pm, Thursday, 24 September 2026
  • / 21 Time View

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিং তৈরিতে নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার এবং নিম্নমানের কাজের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম ও কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে তাঁদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সেতু নির্মাণে নির্ধারিত সামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি বিধিমালার ১২(১) বিধি অনুযায়ী তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বরখাস্তকালীন সময়ে বিধি অনুযায়ী তাঁরা খোরাকি/ভরণপোষণ ভাতা পাবেন।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স হক ট্রেডার্স’।

গত ২১ সেপ্টেম্বর এলজিইডির সুপারিনটেনডিং ইঞ্জিনিয়ার, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নির্মাণাধীন সেতুটি যৌথভাবে পরিদর্শন করেন। এ সময় সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবের ঢালাইয়ের কাজে গুরুতর অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ে।

পরিদর্শনকারীরা দেখতে পান, ফুটপাতের স্ল্যাবের ঢালাই অত্যন্ত নিম্নমানের এবং কাজটি অনুমোদিত নকশা ও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী করা হয়নি। একই সঙ্গে সেতুর রেলিং নির্মাণে ব্যবহৃত রডের গুণগত মান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।

অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নোয়াখালী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল, বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম এবং কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিনকে পৃথক চারটি চিঠি দেওয়া হয়।

এর মধ্যে দুই প্রকৌশলীর কাছে অনিয়মের বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব অর্থায়নে ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজ দ্রুত সংশোধনের জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি তদন্তে এলজিইডির নোয়াখালী জেলার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম মহসীনকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন দাখিল করতে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাঁশ দিয়ে সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব, এলজিইডির দুই কর্মকর্তা শাস্তির মুখে

Update Time : 05:54:54 pm, Thursday, 24 September 2026

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিং তৈরিতে নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার এবং নিম্নমানের কাজের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম ও কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে তাঁদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সেতু নির্মাণে নির্ধারিত সামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি বিধিমালার ১২(১) বিধি অনুযায়ী তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বরখাস্তকালীন সময়ে বিধি অনুযায়ী তাঁরা খোরাকি/ভরণপোষণ ভাতা পাবেন।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স হক ট্রেডার্স’।

গত ২১ সেপ্টেম্বর এলজিইডির সুপারিনটেনডিং ইঞ্জিনিয়ার, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নির্মাণাধীন সেতুটি যৌথভাবে পরিদর্শন করেন। এ সময় সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবের ঢালাইয়ের কাজে গুরুতর অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ে।

পরিদর্শনকারীরা দেখতে পান, ফুটপাতের স্ল্যাবের ঢালাই অত্যন্ত নিম্নমানের এবং কাজটি অনুমোদিত নকশা ও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী করা হয়নি। একই সঙ্গে সেতুর রেলিং নির্মাণে ব্যবহৃত রডের গুণগত মান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।

অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নোয়াখালী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল, বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম এবং কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিনকে পৃথক চারটি চিঠি দেওয়া হয়।

এর মধ্যে দুই প্রকৌশলীর কাছে অনিয়মের বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব অর্থায়নে ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজ দ্রুত সংশোধনের জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি তদন্তে এলজিইডির নোয়াখালী জেলার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম মহসীনকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন দাখিল করতে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।