কুষ্টিয়ায় বিউটি প্লাইউডের এমডি নায়েব আলী পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ না করার মামলায় গ্রেপ্তার
- Update Time : 10:05:41 am, Sunday, 21 June 2026
- / 10 Time View
কুষ্টিয়ায় দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তিনটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ও বিউটি প্লাইউড ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. নায়েব আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত নায়েব আলী কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের খোদ্দ আইলচারা গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের হওয়া তিনটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা যায়। তিনি ও তার পিতা আইয়ুব আলী একজন আদম ব্যবসায়ী। তিনি ইতালীতে লোক পাঠানোর নামে বিভিন্ন মানুষের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এসব বিষয়ে বেশ কয়েকবার পাওনাদারদের সঙ্গে তাদের শালিস-বিচার হয়েছে। বিদেশ পাঠাতে ব্যর্থ হলেও কারও টাকা ফেরৎ দেন নি। বিউটি প্লাইউড কারখানা তৈরির সময় তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে লভ্যাংশের লোভ দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা ধার নেন। মানুষের টাকা নিয়ে তিনি কারখানাসহ গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়েছেন।
বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে কুষ্টিয়া সদরের সাবেক এমপি মাহবুবউল আলম হানিফ ও তার চাচাত ভাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার দাপট দেখিয়ে তিনি সবাইকে কোনঠাসা করে রাখতেন। তার বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে কারও কোন লাভ হয়নি।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নায়েব আলী ভোল পাল্টিয়ে জামায়াতে যোগ দেন এবং কুষ্টিয়া সদর আসনের জামায়াতের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাখেন। তিনি আইলচারা ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী আমির হামজার নির্বাচন পরচালনার দায়িত্ব পান, সে সময় তিনি এই ইউনিয়নের সমস্ত খরচও বহন করেন বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি সদর এমপির প্রভাব খাটিয়ে পাওনাদারদের কোন টাকা পরিশোধ করেন না এবং কেউ পাওনাদারদের পক্ষ নিলে তিনি ভয়-ভীতি দেখান। এলাকার সম্মানী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও তিনি মানহানিকর আচরণ করে থাকেন।
কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি বিশেষ দল শনিবার দুপুরে কোর্ট স্টেশন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি নায়েব আলীকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পুলিশের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইন অমান্যকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”




















