Dhaka 1:32 am, Monday, 15 June 2026
সর্বশেষ
বাজেট ২০২৬: সংকট থেকে অর্থনৈতিক মুক্তির পথনকশা সামাজিক সুরক্ষা ও শিক্ষাখাতে নতুন উদ্যোগের প্রশংসা আন্তর্জাতিক মানের প্ল্যাটফর্ম গড়ার প্রত্যয়ে শেষ হলো জুলকান বিটডাউন ৯২ বছর ধরে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে অপরাজিত ব্রাজিল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর ধ্বংসস্তূপ থেকে অর্থনীতি টানার বাজেট: বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা করার যুগান্তকারী উদ্যোগ স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার বদলে দিচ্ছে কিশোরদের আচরণ ইরানের দেশপ্রেম বনাম ইউনূস সরকারের দেশবিরোধিতা বিএনপির ১৭ বছরের রাজনৈতিক লড়াই ও ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পটভূমি স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার বদলে দিচ্ছে কিশোরদের আচরণ

সামাজিক সুরক্ষা ও শিক্ষাখাতে নতুন উদ্যোগের প্রশংসা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 09:50:31 am, Sunday, 14 June 2026
  • / 12 Time View

জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মধ্যেও জনগণের প্রত্যাশা এবং সরকারের সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা প্রতিফলিত হয়েছে এবারের বাজেটে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে ধান, চাল, গম, আলু, পিঁয়াজ, ভোজ্যতেল ও চিনিসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাবকে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহ এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগও প্রশংসা কুড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে।

তবে বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)সহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, প্রস্তাবিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কার্যকর তদারকি ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানো গেলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে তিনটি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রথমত, কর আদায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর প্রদানের সক্ষমতার পাশাপাশি কর সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। জনগণকে করের অর্থ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের বিষয়ে আস্থাশীল করতে পারলে রাজস্ব আহরণ বাড়তে পারে। দ্বিতীয়ত, দুর্নীতি ও অপচয় রোধ। বিভিন্ন গবেষণায় সরকারি ব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অপচয় ও অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। তাই বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

তৃতীয়ত, অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অতীতের অর্থ পাচারের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নতুন করে অর্থ পাচার বন্ধে কার্যকর নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থ পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে বাজেট বাস্তবায়নের সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হবে। তাদের অভিমত, সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি নতুন গতি পেতে পারে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সামাজিক সুরক্ষা ও শিক্ষাখাতে নতুন উদ্যোগের প্রশংসা

Update Time : 09:50:31 am, Sunday, 14 June 2026

জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মধ্যেও জনগণের প্রত্যাশা এবং সরকারের সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা প্রতিফলিত হয়েছে এবারের বাজেটে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে ধান, চাল, গম, আলু, পিঁয়াজ, ভোজ্যতেল ও চিনিসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাবকে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহ এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগও প্রশংসা কুড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে।

তবে বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)সহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, প্রস্তাবিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কার্যকর তদারকি ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানো গেলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে তিনটি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রথমত, কর আদায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর প্রদানের সক্ষমতার পাশাপাশি কর সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। জনগণকে করের অর্থ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের বিষয়ে আস্থাশীল করতে পারলে রাজস্ব আহরণ বাড়তে পারে। দ্বিতীয়ত, দুর্নীতি ও অপচয় রোধ। বিভিন্ন গবেষণায় সরকারি ব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অপচয় ও অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। তাই বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

তৃতীয়ত, অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অতীতের অর্থ পাচারের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নতুন করে অর্থ পাচার বন্ধে কার্যকর নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থ পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে বাজেট বাস্তবায়নের সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হবে। তাদের অভিমত, সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি নতুন গতি পেতে পারে।