চ্যাটজিপিটির লেখায় অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক দিচ্ছে ওপেনএআই
- Update Time : 12:24:29 pm, Tuesday, 6 October 2026
- / 3 Time View
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি লেখা শনাক্ত করা সহজ করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটি চ্যাটজিপিটি ও কোডেক্সে তৈরি লেখার জন্য ‘টেক্সটগ্রেইন’ (textGrain) নামে একটি অদৃশ্য ওয়াটারমার্কিং ব্যবস্থা চালু করছে।
মানুষের চোখে এই ওয়াটারমার্ক দেখা যাবে না, তবে বিশেষ ডিটেকশন প্রযুক্তির মাধ্যমে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।
ওপেনএআই জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা এআই মডেলের শব্দ বাছাই ও ব্যবহারের ধরনে সূক্ষ্ম পরিবর্তন করে কাজ করবে। ফলে সাধারণভাবে পড়লে লেখায় কোনো পার্থক্য বোঝা যাবে না।
এমনকি কোনো লেখা চ্যাটজিপিটি থেকে কপি করে অন্য জায়গায় ব্যবহার করলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
আপাতত ইইউতে ডিফল্টভাবে চালু
প্রাথমিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ব্যবহারকারীদের জন্য চ্যাটজিপিটি ও কোডেক্সের তৈরি লেখায় টেক্সটগ্রেইন চালু করা হবে। বিশ্বব্যাপী সব চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর জন্য এটি এখনই চালু করা হচ্ছে না।
এর কারণ, ইইউর এআই অ্যাক্টে জেনারেটিভ এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টকে মেশিনের মাধ্যমে শনাক্তযোগ্য করার বিধান রয়েছে।
সেই নিয়ম মেনেই ইইউতে এই ব্যবস্থা চালু করছে ওপেনএআই।
তবে বিশ্বব্যাপী নির্বাচিত কিছু মডেলে ওপেনএআইয়ের এপিআই ব্যবহারকারীদের জন্য আজ থেকেই ওয়াটারমার্কিং সুবিধাটি অপশন হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ এটি চ্যাটজিপিটির সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বিশ্বব্যাপী ডিফল্টভাবে চালু হচ্ছে না।
কীভাবে শনাক্ত হবে এআইয়ের লেখা?
ওপেনএআইয়ের ডিটেক্টর কোনো লেখায় ওয়াটারমার্ক আছে কি না, তা শব্দের নির্দিষ্ট বিন্যাস বিশ্লেষণ করে শনাক্ত করবে। তবে এই ব্যবস্থা ব্যবহারকারী কে বা তিনি কী প্রম্পট দিয়েছিলেন, তা শনাক্ত করবে না।
ওপেনএআই আরও জানিয়েছে, ওয়াটারমার্ক শনাক্ত হওয়া মানেই লেখাটিতে এআইয়ের অবদান কত শতাংশ বা মানুষ কতটা লিখেছেন, তা নির্ধারণ করা যাবে—এমন নয়। একইভাবে কোনো লেখায় ওয়াটারমার্ক না পাওয়া গেলেও সেটি যে মানুষ লিখেছেন, এমন নিশ্চয়তাও পাওয়া যাবে না।
লেখা সম্পাদনা করলে শনাক্ত করা কঠিন
এআই দিয়ে তৈরি লেখায় পরিবর্তন আনা হলে ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। ওপেনএআইয়ের এক পরীক্ষায় ৪০০ টোকেনের লেখায় ১০ শতাংশ শব্দের সমার্থক শব্দ ব্যবহার করার পর ওয়াটারমার্ক শনাক্তের হার প্রায় ৯২ শতাংশ থেকে কমে ৬৬ শতাংশে নেমে যায়। ২৫ শতাংশ শব্দ পরিবর্তন করলে শনাক্তের হার নেমে আসে প্রায় ১৭ শতাংশে।
অনুবাদ করা লেখার ক্ষেত্রেও শনাক্তের সক্ষমতা কমতে পারে। ছোট লেখা বা যেখানে শব্দ বেছে নেওয়ার সুযোগ কম, সেখানেও ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করা তুলনামূলক কঠিন।
ওপেনএআইয়ের পরীক্ষায় ২০০ টোকেনের মনোবিজ্ঞানবিষয়ক লেখায় প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করা গেছে। ৪০০ টোকেনের লেখায় এই হার ছিল প্রায় ৯৫ শতাংশ। তবে গণিতের মতো বিষয়ে শব্দ ব্যবহারের সুযোগ কম থাকায় শনাক্তের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
আরও এআই প্রতিষ্ঠান আনছে ওয়াটারমার্ক
এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট শনাক্তে শুধু ওপেনএআই নয়, অন্য প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। গুগল ডিপমাইন্ডের সিন্থআইডি (SynthID) এমন একটি ব্যবস্থা। অ্যানথ্রপিকও ক্লড দিয়ে তৈরি লেখায় ওয়াটারমার্ক ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, গবেষক ও বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের ওয়াটারমার্ক শনাক্তকারী ডিটেক্টর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, বাস্তব ব্যবহারে এই প্রযুক্তি সব ধরনের এআই লেখা নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। লেখা সম্পাদনা, অনুবাদ, পুরোনো মডেল বা অন্য এআই টুল ব্যবহারের কারণে ওয়াটারমার্ক দুর্বল হয়ে যেতে পারে বা শনাক্ত নাও হতে পারে।











