Dhaka 9:24 pm, Saturday, 26 September 2026
সর্বশেষ
পশ্চিম তীরে পরীক্ষার মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলি অভিযান তরুণদের পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ পে-অর্ডারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকার পরিমাণ সাড়ে ২৬ লাখ দেশের মাটিতে ফ্যাসিবাদী অপশক্তিকে আর রাজনীতির সুযোগ নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানীর বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার ‘বুকের পাটা থাকলে এখনি আসেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না’ একাধিক মামলার আসামি ‘মোবাইল মনির’ গ্রেপ্তার প্রাথমিকের নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের যে আশ্বাস দিলেন শিক্ষামন্ত্রী ফ্রিতে ২ লাখ টাকার আইটি প্রশিক্ষণ, কোর্স শেষে চাকরির সুযোগ, আবেদন অনলাইনে

প্রাথমিকের নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের যে আশ্বাস দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 01:13:11 pm, Saturday, 26 September 2026
  • / 4 Time View

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগপত্র দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিশিয়াল পেজে এক পোস্টে এ আশ্বাস দেন শিক্ষামন্ত্রী।

ফেসবুক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী লেখেন, ‘আমরা লক্ষ করছি যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এর নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সময়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হবে। উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন/ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।’

এদিকে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীদের নথি আবার যাচাই এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগের দাবি জানিয়েছেন চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকেরা।

এ ছাড়া আটকে থাকা নিয়োগপত্র ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। 

শুক্রবারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই বা ভেরিফিকেশনের নামে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই অনেক যোগ্য প্রার্থীকে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি।

এ সময় প্রার্থীরা পাঁচটি দাবি জানিয়েছেন।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর নথি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আবার যাচাই, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ও প্রশাসনিক আপিলের ব্যবস্থা, প্রশাসনিক ভুল সংশোধন এবং চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত অথচ নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ। 

এ ছাড়া নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং কিভাবে এতসংখ্যক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী বাদ পড়েছেন, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, অনিয়মকারী বা অযোগ্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে তারা অবস্থান নিচ্ছেন না। তবে প্রশাসনিক ভুল বা ভুল তথ্যের কারণে কোনো নিরপরাধ ও যোগ্য প্রার্থী যেন বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

এই পরীক্ষায় মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। 

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডোপ টেস্টের কাজ দ্রুত শেষ হলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাইপ্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় লাগে। একাধিকবার পুলিশ ভেরিফিকেশন পরিচালনা এবং দেশে হঠাৎ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে যাওয়ার কারণে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিলম্ব ঘটে।

বর্তমানে দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক-সংকট চলছে। অনেক স্কুলে প্রয়োজনীয় শিক্ষকের অভাবে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নবনির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষক নিজ নিজ জেলা ও বিদ্যালয়ে যোগ দিলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার গতি যেমন ফিরবে, তেমনি মাঠপর্যায়ের বিদ্যমান শিক্ষক-সংকটও কিছুটা হলেও নিরসন হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রাথমিকের নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের যে আশ্বাস দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

Update Time : 01:13:11 pm, Saturday, 26 September 2026

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগপত্র দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিশিয়াল পেজে এক পোস্টে এ আশ্বাস দেন শিক্ষামন্ত্রী।

ফেসবুক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী লেখেন, ‘আমরা লক্ষ করছি যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এর নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সময়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হবে। উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন/ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।’

এদিকে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীদের নথি আবার যাচাই এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগের দাবি জানিয়েছেন চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকেরা।

এ ছাড়া আটকে থাকা নিয়োগপত্র ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। 

শুক্রবারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই বা ভেরিফিকেশনের নামে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই অনেক যোগ্য প্রার্থীকে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি।

এ সময় প্রার্থীরা পাঁচটি দাবি জানিয়েছেন।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর নথি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আবার যাচাই, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ও প্রশাসনিক আপিলের ব্যবস্থা, প্রশাসনিক ভুল সংশোধন এবং চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত অথচ নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ। 

এ ছাড়া নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং কিভাবে এতসংখ্যক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী বাদ পড়েছেন, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, অনিয়মকারী বা অযোগ্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে তারা অবস্থান নিচ্ছেন না। তবে প্রশাসনিক ভুল বা ভুল তথ্যের কারণে কোনো নিরপরাধ ও যোগ্য প্রার্থী যেন বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

এই পরীক্ষায় মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। 

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডোপ টেস্টের কাজ দ্রুত শেষ হলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাইপ্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় লাগে। একাধিকবার পুলিশ ভেরিফিকেশন পরিচালনা এবং দেশে হঠাৎ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে যাওয়ার কারণে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিলম্ব ঘটে।

বর্তমানে দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক-সংকট চলছে। অনেক স্কুলে প্রয়োজনীয় শিক্ষকের অভাবে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নবনির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষক নিজ নিজ জেলা ও বিদ্যালয়ে যোগ দিলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার গতি যেমন ফিরবে, তেমনি মাঠপর্যায়ের বিদ্যমান শিক্ষক-সংকটও কিছুটা হলেও নিরসন হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।