Dhaka 9:26 am, Monday, 12 October 2026
সর্বশেষ
দুটি স্পিড বোর্ডে আগুনসন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীতে দুই পক্ষের গোলাগুলি আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে লাখ টাকার ইয়াবাসহ চার মাদককারবারি গ্রেফতার সামাজিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানে মানুষের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন প্রয়োজন গরুর মাংসের কেজি ২৫০ টাকায় আনার দাবিতে আইনি নোটিশ রূপপুরে প্রথমবারের মতো সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ধর্মমন্ত্রী হাম উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১২৭৩ জিবুতি উপকূলে নৌকাডুবি, ১৫ শিশুসহ ১০৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু দুর্গাপূজায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ : আইজিপি সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির গভর্নরস বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন ড. মামুন

হাসনাত আবদুল্লাহ: উত্থানের পর বিতর্কের মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 10:27:34 am, Sunday, 28 June 2026
  • / 106 Time View

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক জীবন নানা বিতর্ক ও স্ববিরোধিতায় পূর্ণ বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনের মাঠ পেরিয়ে সংসদ সদস্য হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাস, গণমাধ্যমকে হুমকি, এবং দুর্নীতির নানা গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অতি সম্প্রতি তাঁর দ্বিমুখী নীতি ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অনিয়মের খতিয়ান রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। কুমিল্লার একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা হাসনাত একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলে থাকার সুবাদে ছাত্রলীগ করতেন বলে জানা যায়। আন্দোলনের সময়ে ১০ নম্বর জার্সি পরে পরিচিতি পাওয়া এই নেতার বিরুদ্ধে এখন সুযোগসন্ধানী রাজনীতি ও মব সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলছেন খোদ সহযোদ্ধাদের একাংশ।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে সোচ্চার থাকলেও হাসনাতের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরিচ্যুতিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সময় টিভির কর্মীদের চাকরিচ্যুতির ঘটনায় হাসনাতের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছিল। এছাড়া, তাঁর বিলাসী জীবন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি জাতীয় দৈনিককে ফেসবুকে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটে, যার জেরে পরবর্তীতে ওই সংবাদটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

হাসনাতের বিরুদ্ধে স্ববিরোধিতার অন্যতম বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে তাঁর গোপন যোগাযোগকে। চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় তাঁর আকস্মিক সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং পরবর্তীতে স্থানীয়দের প্রশ্নের মুখে পড়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঞ্চল্য তৈরি করে। অভিযোগ রয়েছে, নিজের নির্বাচনি এলাকা কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপিকে প্রতিহত করতে তিনি গোপনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমঝোতা করছেন।

সংসদ সদস্য হিসেবে মাত্র কয়েক মাসের মাথায় হাসনাতের বিরুদ্ধে দুর্নীতিরও পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। দেবিদ্বারে একটি মসজিদের উন্নয়ন কাজে বরাদ্দকৃত বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, বন্যা দুর্গতদের জন্য সংগৃহীত প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকার ত্রাণের অস্বচ্ছ হিসাব এবং সোলার লাইট স্থাপন না করেই সরকারি তহবিল খরচের মতো বিষয়গুলো স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে হাসনাতের একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার বলয়ে এসে সমালোচকদের ‘আওয়ামী দোসর’ কিংবা ‘ভারতের দালাল’ তকমা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মব সংস্কৃতির চর্চা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হাসনাত আবদুল্লাহ: উত্থানের পর বিতর্কের মুখে

Update Time : 10:27:34 am, Sunday, 28 June 2026

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক জীবন নানা বিতর্ক ও স্ববিরোধিতায় পূর্ণ বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনের মাঠ পেরিয়ে সংসদ সদস্য হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাস, গণমাধ্যমকে হুমকি, এবং দুর্নীতির নানা গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অতি সম্প্রতি তাঁর দ্বিমুখী নীতি ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অনিয়মের খতিয়ান রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। কুমিল্লার একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা হাসনাত একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলে থাকার সুবাদে ছাত্রলীগ করতেন বলে জানা যায়। আন্দোলনের সময়ে ১০ নম্বর জার্সি পরে পরিচিতি পাওয়া এই নেতার বিরুদ্ধে এখন সুযোগসন্ধানী রাজনীতি ও মব সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলছেন খোদ সহযোদ্ধাদের একাংশ।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে সোচ্চার থাকলেও হাসনাতের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরিচ্যুতিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সময় টিভির কর্মীদের চাকরিচ্যুতির ঘটনায় হাসনাতের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছিল। এছাড়া, তাঁর বিলাসী জীবন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি জাতীয় দৈনিককে ফেসবুকে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটে, যার জেরে পরবর্তীতে ওই সংবাদটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

হাসনাতের বিরুদ্ধে স্ববিরোধিতার অন্যতম বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে তাঁর গোপন যোগাযোগকে। চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় তাঁর আকস্মিক সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং পরবর্তীতে স্থানীয়দের প্রশ্নের মুখে পড়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঞ্চল্য তৈরি করে। অভিযোগ রয়েছে, নিজের নির্বাচনি এলাকা কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপিকে প্রতিহত করতে তিনি গোপনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমঝোতা করছেন।

সংসদ সদস্য হিসেবে মাত্র কয়েক মাসের মাথায় হাসনাতের বিরুদ্ধে দুর্নীতিরও পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। দেবিদ্বারে একটি মসজিদের উন্নয়ন কাজে বরাদ্দকৃত বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, বন্যা দুর্গতদের জন্য সংগৃহীত প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকার ত্রাণের অস্বচ্ছ হিসাব এবং সোলার লাইট স্থাপন না করেই সরকারি তহবিল খরচের মতো বিষয়গুলো স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে হাসনাতের একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার বলয়ে এসে সমালোচকদের ‘আওয়ামী দোসর’ কিংবা ‘ভারতের দালাল’ তকমা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মব সংস্কৃতির চর্চা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।