চীনের রহস্যময় সমৃদ্ধির বার্তা এনেছে ছাত্রদল-যুবদল!
- Update Time : 09:35:17 am, Friday, 26 June 2026
- / 12 Time View
ধাপে-ধাপে দেশের আধুনিকায়ন কৌশল, গ্রামীণ উন্নয়ন, পিছিয়ে পড়া গ্রাম পুনরুজ্জীবিত করা , ডিজিটাল প্রশাসনিক কাঠামো, শিল্প-শিক্ষা ও গবেষণার সমন্বয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অটোমেশন, এনার্জি খাতে সমৃদ্ধি, দেশীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ সহ নানা বিষয়ে সরেজমিন অভিজ্ঞতা এনেছে ছাত্রদল-যুবদলের ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। চীনের আমন্ত্রণে প্রতিনিধি দলটি ৪ থেকে ১৪ জুন দেশটির ঐতিহাসিক শহর চংকিং ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র সাংহাই সফর করেন। স্বাগতিকদের পক্ষ থেকে সরেজমিন ঘুরে দেখানো হয় উৎপাদনশীল শক্তির বিকাশ, আধুনিক উন্নয়ন কৌশল এবং জনবান্ধব রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। সফর শেষে এসব অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সফরকারী দলের সদস্যরা।
জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল ও যুবদলের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত পর্যবেক্ষণ দল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ১শ’ ৪২ কোটি জনসংখ্যার দেশ গণচীনের বিভিন্ন টেকসই,জনবান্ধব ও বাস্তবমূখী প্রকল্প। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের অন্যতম নেতা আবিদুল ইসলাম খান সফর শেষে বলেন, চীন পার্শ্ববর্তী দেশ হলেও তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা-শৃঙ্খলা সম্পর্কে আমাদের তেমন কোনো ধারণা নেই। এই সফরটি দেশটির সাথে তথ্য-পরামর্শ-পরিকল্পনা আদান-প্রদানের নতুন ধারা তৈরি করবে। চীনের যথাযথ পরিকল্পনা, পাবলিক সার্ভিসকে দেয়া সর্বাধিক গুরুত্ব এবং প্রায় সকল ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন দেশটির জন্য সবকিছু সহজ করে দিয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফিরলে চীন সফরের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আবিদ। ছাত্রদলের নারী নেত্রী শ্রাবণী আক্তার তার মন্তব্য প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, চীন তাদের জনশক্তিকে শৈশব থেকে কর্মমূখী এবং দক্ষ করে তোলায় জনশক্তিকে দীর্ঘমেয়াদে কাজে লাগাতে পারছে। তাদের শ্রম, শৃঙ্খলতা এবং সময়ানুবর্তীতা অনুকরণীয়।

সফরকারী দলের অন্যতম সদস্য কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান জুয়েল বলেন, আমরা চীনের রাজনৈতিক দলের সাথেও মতবিনিময় করেছি। সেখানকার বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন প্রকল্পে সরাসরি সংশ্লিষ্টরা আমাদের সরেজমিনে দেখিয়েছেন তাদের বিভিন্ন পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন। তাদের বিভিন্ন পরিকল্পনা এবং তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন সেখানকার নাগরিক জীবন স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করেছে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম তার অভিজ্ঞতার বর্ননায় বলেন, মূলত ১৯৮০ সালে চীনের উন্নয়ন শুরু হলেও তাদের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির গতি অনিন্দ্য রহস্যময়।চীনের দেশীয় কৃষ্টি-কালচার সংরক্ষণ, শিক্ষা খাতে পাঠদান পদ্ধতি এবং এআই ও রোবটিক্স কার্যক্রম অভাবনীয় উন্নত। দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং যোগাযোগ বিস্তার পদ্ধতিও অনুকরণীয়। পৃথীবির বিভিন্ন দেশের পরে উন্নয়নের যাত্রা শুরু করলেও চীনের এমন অগ্রগতি আসলেও রহস্যময় এক সমৃদ্ধি। যেখানে রাষ্ট্র এবং জনগণ উভয়ের সমান অংশগ্রহণ ও দায়িত্ববোধ লক্ষণীয়।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে আমাদের ছড়িয়ে পড়া উচিত, তারা কতটা এগিয়েছে, কিভাবে এগিয়েছে তাদের বর্তমান কেমন, সেসব প্রসঙ্গে জানতে হবে এবং অভিজ্ঞতা নিজেদের মধ্যে বিনিময় করতে হবে। বিভিন্ন আলোচনায় আমরা এসব প্রসঙ্গে কথা বলছি, দলের অভ্যন্তরে আলোচনা করছি। সরকারের সাথেও আমরা দলের পক্ষ থেকে মতবিনিময় করবো। চীন সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের উপঢৌকন দেয়া হয়েছে, সেগুলো দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দেয়ার ইচ্ছা রয়েছে।
বৈশ্বিক উন্নয়নের ধারায় তাল মিলিয়ে নাগরিক জনজীবন, আন্তর্জাতিক পরিসর এবং অভ্যন্তরীণ শিক্ষা-বাণিজ্য-অর্থনীতিতে ধাপে-ধাপে সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশ এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।



















