Dhaka 5:14 am, Monday, 2 March 2026

মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেটের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

বিনোদন ডেস্ক:
  • Update Time : 08:56:09 am, Sunday, 1 March 2026
  • / 7 Time View

বিশ্বখ্যাত পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের প্রয়াণের দেড় দশক পরও তাকে নিয়ে আইনি জটিলতা থামছে না। সম্প্রতি তার এস্টেটের বিরুদ্ধে যৌন কর্মকাণ্ড ও গুরুতর সব অসদাচরণের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কাসিও পরিবারের সদস্যরা।

তাদের দাবি, শৈশব থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সময় তারা জ্যাকসনের এস্টেটে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন। যদিও এই অভিযোগগুলো নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র আইনি লড়াই ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার নথিতে কাসিও ভাই-বোনেরা দাবি করেছেন, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সময় তারা যৌন নির্যাতনের শিকার হন। এমনকি অভিনেত্রী এলিজাবেথ টেলর এবং সংগীতশিল্পী এলটন জনের বাসভবনেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তারা উল্লেখ করেছেন।

তারা আরও দাবি করেন, ২০১৯ সালে ‘লিভিং নেভারল্যান্ড’ প্রামাণ্যচিত্রটি দেখার পর তারা জ্যাকসন এস্টেটে যোগাযোগ করেন এবং ৫ বছর মেয়াদী একটি আর্থিক সমঝোতায় পৌঁছান। তবে বর্তমানে সেই সমঝোতা বাতিল করে তারা উচ্চতর ক্ষতিপূরণ দাবি করে নতুন এই মামলাটি দায়ের করেছেন।

মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেটের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলো কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। জ্যাকসন এস্টেটের আইনজীবী মার্টি সিঙ্গার এই মামলাটিকে ‘অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি জানান, পরিবারটি গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে মাইকেল জ্যাকসনের পক্ষে জোরালোভাবে অবস্থান নিয়ে আসছিল, অনুচিত আচরণের অভিযোগ থেকে তাকে নির্দোষ বলে দাবি করছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এ মামলাটি আদালতে দাখিল করা হয়েছে মূলত অনুকূল বিচারিক ক্ষেত্র খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে, যাতে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেট ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে শত শত মিলিয়ন ডলার আদায় করা যায়।

আইনজীবীদের দাবি, বাদীদের আগের দেওয়া বক্তব্য এবং বর্তমান অভিযোগের মধ্যে বড় ধরণের পার্থক্য রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির কাসিও পরিবারের সঙ্গে মাইকেল জ্যাকসনের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত নিবিড় ও পারিবারিক। ডমিনিক ও কনি কাসিও দম্পতির সন্তানদের জ্যাকসন নিজের ছোট ভাই-বোনের মতোই স্নেহ করতেন। দীর্ঘ সময় এই পরিবারটি পপ সম্রাটের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে পরিচিত থাকলেও সাম্প্রতিক এই মামলার জেরে সেই পুরনো ও গভীর সম্পর্কে ফাটল স্পষ্ট হলো; যা বিনোদন দুনিয়ায় এখন অন্যতম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে এর আগেও অনেক অভিযোগ আনা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো আদালতে তা প্রমাণিত হয়নি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেটের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

Update Time : 08:56:09 am, Sunday, 1 March 2026

বিশ্বখ্যাত পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের প্রয়াণের দেড় দশক পরও তাকে নিয়ে আইনি জটিলতা থামছে না। সম্প্রতি তার এস্টেটের বিরুদ্ধে যৌন কর্মকাণ্ড ও গুরুতর সব অসদাচরণের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কাসিও পরিবারের সদস্যরা।

তাদের দাবি, শৈশব থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সময় তারা জ্যাকসনের এস্টেটে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন। যদিও এই অভিযোগগুলো নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র আইনি লড়াই ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার নথিতে কাসিও ভাই-বোনেরা দাবি করেছেন, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সময় তারা যৌন নির্যাতনের শিকার হন। এমনকি অভিনেত্রী এলিজাবেথ টেলর এবং সংগীতশিল্পী এলটন জনের বাসভবনেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তারা উল্লেখ করেছেন।

তারা আরও দাবি করেন, ২০১৯ সালে ‘লিভিং নেভারল্যান্ড’ প্রামাণ্যচিত্রটি দেখার পর তারা জ্যাকসন এস্টেটে যোগাযোগ করেন এবং ৫ বছর মেয়াদী একটি আর্থিক সমঝোতায় পৌঁছান। তবে বর্তমানে সেই সমঝোতা বাতিল করে তারা উচ্চতর ক্ষতিপূরণ দাবি করে নতুন এই মামলাটি দায়ের করেছেন।

মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেটের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলো কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। জ্যাকসন এস্টেটের আইনজীবী মার্টি সিঙ্গার এই মামলাটিকে ‘অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি জানান, পরিবারটি গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে মাইকেল জ্যাকসনের পক্ষে জোরালোভাবে অবস্থান নিয়ে আসছিল, অনুচিত আচরণের অভিযোগ থেকে তাকে নির্দোষ বলে দাবি করছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এ মামলাটি আদালতে দাখিল করা হয়েছে মূলত অনুকূল বিচারিক ক্ষেত্র খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে, যাতে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেট ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে শত শত মিলিয়ন ডলার আদায় করা যায়।

আইনজীবীদের দাবি, বাদীদের আগের দেওয়া বক্তব্য এবং বর্তমান অভিযোগের মধ্যে বড় ধরণের পার্থক্য রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির কাসিও পরিবারের সঙ্গে মাইকেল জ্যাকসনের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত নিবিড় ও পারিবারিক। ডমিনিক ও কনি কাসিও দম্পতির সন্তানদের জ্যাকসন নিজের ছোট ভাই-বোনের মতোই স্নেহ করতেন। দীর্ঘ সময় এই পরিবারটি পপ সম্রাটের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে পরিচিত থাকলেও সাম্প্রতিক এই মামলার জেরে সেই পুরনো ও গভীর সম্পর্কে ফাটল স্পষ্ট হলো; যা বিনোদন দুনিয়ায় এখন অন্যতম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে এর আগেও অনেক অভিযোগ আনা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো আদালতে তা প্রমাণিত হয়নি।