গ্রাম থেকে রাষ্ট্রনীতি—তৃণমূলের নতুন অংশগ্রহণ
- Update Time : 12:23:19 pm, Tuesday, 16 June 2026
- / 17 Time View
DHAKA, BANGLADESH - FEBRUARY 14: Bangladesh Nationalist Party (BNP) chairman Tarique Rahman gestures towards the media during a press conference on February 14, 2026. in in Dhaka, Bangladesh. Election Commission figures showed Rahman's BNP had won a landslide victory in the elections on February 12, the first since a deadly 2024 uprising ousted the iron-fisted rule of Sheikh Hasina. (Photo by Salahuddin Ahmed Paulash/Drik/Getty Images)
বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুর বাইরে ছিল। নির্বাচনের সময় সাময়িক গুরুত্ব পেলেও বছরের অধিকাংশ সময় তাদের জীবন-সংগ্রাম, চাওয়া-পাওয়া এবং বাস্তব সমস্যাগুলো অগোচরেই থেকে যায়। অথচ দেশের অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন এবং সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলেছে এই মানুষগুলোই। তাদের শ্রম, ত্যাগ এবং অবদানের ওপর দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা।
স্বাধীনতার পর প্রান্তিক মানুষের প্রত্যাশা ছিল—একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে তারা নাগরিক অধিকার, মর্যাদা এবং উন্নয়নের সুফল ভোগ করবে। কিন্তু নানা কারণে সেই প্রত্যাশার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। অনেকের মতে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের নেতৃত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো প্রান্তিক জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়।
জিয়াউর রহমান রাজধানীকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে সরাসরি গ্রামবাংলার মানুষের কাছে যান। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল সফর করে তিনি তাদের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নেন। গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ, খাল খনন এবং স্থানীয় সরকার কাঠামোকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ তাঁর শাসনামলের উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশেষ করে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে তাঁর বিভিন্ন কর্মসূচি এবং মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। গ্রামবাংলার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নিজেদের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে অনুভব করতে শুরু করে।
তবে তাঁর মৃত্যুর পর অনেকের মতে, সেই ধারাবাহিকতায় ভাটা পড়ে। গ্রামীণ জনপদের মানুষ আবারও মূলধারার রাজনীতি থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়।
বর্তমান সময়ে অনেকেই মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই শূন্যস্থান পূরণের চেষ্টা করছেন। পিতার রাজনৈতিক দর্শন অনুসরণ করে তিনি তৃণমূলভিত্তিক রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তিনি স্থানীয় নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।
২০০২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে আয়োজিত বিভিন্ন তৃণমূল সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা, কৃষকের চাহিদা এবং সাংগঠনিক বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগ বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
পরবর্তীকালে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও তারেক রহমান প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখেন। বিশেষ করে তৃণমূলের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি দল পরিচালনার চেষ্টা করেন, যা সাংগঠনিকভাবে বিএনপিকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে।
সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি বিভিন্ন অঞ্চলে সফর অব্যাহত রেখেছেন। দেশের বিভিন্ন জেলার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়, স্থানীয় সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হওয়া এবং সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি মাঠমুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখছেন বলে তাঁর সমর্থকরা মনে করেন।
কক্সবাজার থেকে ঠাকুরগাঁও, চাঁদপুর থেকে দেশের অন্যান্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও উপস্থিতি নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে স্থানীয়দের অনেকে মনে করেন। তাঁদের বিশ্বাস, গ্রামীণ অর্থনীতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও টেকসই হবে।
বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল শক্তি যে গ্রাম ও প্রান্তিক মানুষ—এই উপলব্ধিকে সামনে রেখেই তারেক রহমান কাজ করছেন বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি। দীর্ঘ সময় পর তৃণমূলের মানুষেরা নিজেদের কথা বলার এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্ব পাওয়ার নতুন সুযোগ দেখতে পাচ্ছেন বলেও তারা মনে করেন।


















