পরিবেশমন্ত্রীর সঙ্গে নেপালের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ : পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতায় জোর
- Update Time : 02:31:39 pm, Sunday, 6 September 2026
- / 4 Time View
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘানশ্যাম ভান্ডারি।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশমন্ত্রীর অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা ও আঞ্চলিক পরিবেশগত সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে পরিবেশমন্ত্রী নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এই দুঃসময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ নেপালের পাশে রয়েছে উল্লেখ করে প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।
পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ ও কাপ-৩১ প্রস্তুতি
দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের অভিন্ন পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবেলায় যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর দেন পরিবেশমন্ত্রী।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল জলবায়ু পরিবর্তনের ভিন্ন ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন হলেও দুই দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। হিমালয় অঞ্চলের বরফ ও হিমবাহের পরিবর্তন, নদী অববাহিকার পরিবেশগত ভারসাম্য, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও অন্যান্য জলবায়ুজনিত দুর্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক পরিবেশ এবং মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর প্রভাব ফেলে।
আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনকে সামনে রেখে এসব অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।
তিনি দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন উদ্যোগে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত নেপালের দুর্ঘটনার পর দেশটির জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, সংকটের সময়ে বাংলাদেশের এই সহমর্মিতা দুই দেশের জনগণের গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন; নেপালের সরকার ও জনগণ এ সহযোগিতা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।
বৈঠকে পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ, পর্যটন, শিক্ষা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ ও নেপালের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়।
দুই পক্ষ মনে করে, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব শক্তিশালী হলে তা উভয় দেশের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
