Sunday , April 14 2024

বিক্ষোভের মধ্যে পাকিস্তানের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পাকিস্তানের ভোটগ্রহণের পর সরকার গঠনের শেষ দিন ছিল আজ। এ দিন তুমুল বিক্ষোভের মধ্যেই জাতীয় পরিষদের সদস্যদের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬তম জাতীয় পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান ‍তুমুল বিক্ষোভের মধ্যেই শেষ হয়েছে। এর মাধ্যমে ছয় বছর পর আবার সংসদের ফিরেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। যদিও এ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ করেছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।

পার্লামেন্টে শপথ পাঠ করিয়েছেন স্পিকার রাজা পারভেজ আশরাফ। এ দিন ২৮২ জন সদস্য শপথ নিয়েছেন। এরমধ্যে অন্যতম হলেন পিএমএল-এনের সাবেক প্রেসিডেন্ট শাহবাজ শরিফ, সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি, জেইউআই-এফ প্রধান মাওলানা ফজলুর রজমান। অন্যদিকে শপথ অনুষ্ঠানে ইমরান খানের দলের সদস্যরা বিক্ষোভ করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়। এরপর পিটিআই সমর্থিতরা স্পিকারের আসনের পাশে জড়ো হন। এ সময় তারা হট্টগোল ও বিক্ষোভ করেন। ইমরান খানের দলের সদস্যরা সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলে (এসআইসি) যোগ দিয়ে পার্লামেন্টে অবস্থান নিয়েছেন।

অধিবেশনের আগেই বিক্ষোভের খবর দিয়েছিলেন পিটিআই সমর্থিত প্রার্থীরা। তাদের অভিযোগ, গত ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। এর প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় স্পিকার তাদের শান্ত হয়ে নিজ নিজ আসনে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। পরে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হয়।

বৃহস্পতিবার অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন পিএমএল-এন মনোনীত প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী শাহবাজ শরিফ। তিনি সংসদ কক্ষে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলের সদস্যরা ‘পাকিস্তানকে রক্ষা করবে কে, ইমরান খান, ইমরান খান’ বলে স্লোগান তোলেন।

এ ছাড়া সংসদে পিটিআই-এসআইসির সদস্যরা ‘কয়েদি নম্বর ৮০৪’ বলেও স্লোগান দেন। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বর্তমানে আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এটি মূলত সেখানে তার কয়েদি নম্বর।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রথম, পিএমএল-এন দ্বিতীয় ও পিপিপি তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। তবে কোনো কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও ভোট কারচুপির অভিযোগ করছে আসছে পিটিআই। দলটির দাবি, অনেক আসনে তাদের সমর্থিত প্রার্থীকে ফল পরিবর্তনের মাধ্যমে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে নির্বাচনের পর থেকে দেশজুড়ে সমমনা দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে আসছে পিটিআই। এমনকি নির্বাচনে কারচুপি ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিতর্কিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সিকান্দার সুলতান রাজার অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছে দলটি।

About somoyer kagoj

Check Also

ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়ায় ইরানের কনস্যুলেটে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। এ হামলার পেছনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *